প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক নারী, মনোয়ারা বেগম, আটক হয়েছেন ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলায় মূল আসামির বদলে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে যাবার সময়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ -৪ এর বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে মূল আসামি নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে প্রক্সি দিতে গিয়ে মনোয়ারা বেগম আটক হন।
শুনানির সময় আদালতে আসামিকে দেখে বিচারকের সন্দেহ হলে তিনি তাকে এজলাসে আটকের নির্দেশ দেন। এ সময় প্রক্সি দিতে আসা আসামি পক্ষের আইনজীবীরা দ্রুত এজলাস ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে আদালতের পেশকার ইব্রাহীম খলিল অপু গণমাধ্যমকে জানান যে, নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন চান। এরপর বিচারকের কাছে প্রক্সির বিষয়ে নিশ্চিত হলে তিনি কোর্টের হেফাজতে রাখার আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান সুমন জানান, প্রক্সি দিতে আসা ওই নারীকে কোর্টের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আদালতে প্রতারণার সাথে জড়িত মূল আসামি, প্রক্সি আসামি এবং আইনজীবীসহ সকলের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আটক হওয়া মনোয়ারা বেগম বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ও অফিসে পরিষ্কারের কাজ করেন। এই মামলায় প্রক্সি দেওয়ার জন্য মূল আসামির আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন তাকে নিয়ে আসেন। ঘটনার বিষয়টি বিচারকের নজরে আসার পর ওই আইনজীবী কৌশলে পালিয়ে যান।
মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়ার সময় আসামি নাসরিন শিকদারের আইনজীবী বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে নেই, দেখতে হবে। পরে কল করে জানাচ্ছি।
এজলাসে আটকের পর মনোয়ারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নার মধ্যেই তিনি জানান, তিনি কিছু জানেন না, ঢাকার জজ কোর্টের আগর বাতি গলির এক আইনজীবী তাকে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, "আমার কোনো অপরাধ নেই, অপরাধ তো ওই আইনজীবীর। আমাকে ছেড়ে দেন। তাকে গ্রেপ্তার করেন। আমি বিভিন্ন আইনজীবীদের চেম্বারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করি; এতসব বুঝি না। যে স্যার (আইনজীবী) ডাকছে আমি এখানে এসেছি। আমি বুঝতে পারিনি, এটা অপরাধ।"
তিনি অতিরিক্ত বলেন, "আল্লাহর দোহাই, আমাকে মাফ করে দেন। আমাকে ছেড়ে দেন। আমি অন্যের বাসায় কাজ করে খাই। আমি কিছু জানি না। আমার দুইটা ছোট ছোট বাচ্চা আছে।"
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলি নাসরিন শিকদারের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলা করেন। আসামির সঙ্গে বাদীর পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় তিনি বিভিন্ন সময় ফ্ল্যাট কেনার জন্য সর্বমোট ২৯ লাখ টাকা দেন। এর পরিবর্তে গত বছরের জানুয়ারির ২৭ তারিখে আসামি বাদীকে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি চেক দেন। পরে বাদী যখন সোনালী ব্যাংকে চেকটি নগদায়নের জন্য জমা দেন, সে সময় চেকটি ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ বলে ডিজঅনার হয়। এরপর তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইনে ১৩৮ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন