ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আগামী বাজেটের মূল লক্ষ্য দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন: অর্থমন্ত্রী


আগামী বাজেটের মূল লক্ষ্য দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় নিয়ে আসা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজেটে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তাই আমরা বাজেটে প্রথমেই দরিদ্র, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং গৃহিণীদের অগ্রাধিকার দিয়েছি।’

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য স্বল্প সময়ে বাজেট প্রণয়ন একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিগত দুটি সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় সরাসরি উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, দেশের মানুষ স্বাস্থ্যসেবায় নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত ব্যয় করছে। এ কারণে সরকার ইউনিভার্সাল ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন

এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কামার, কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ প্রদান, ডিজাইন সহায়তা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘জিডিপি শুধু শিল্প-কারখানা থেকে আসে না। সংস্কৃতি, ক্রীড়া, কারুশিল্পসহ সৃজনশীল খাতও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।’

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ‘ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি’ বা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ যাতে দেশের সব মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এবং উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে।

আরও পড়ুন: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন অনুমোদন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দিতে হবে। বিনিয়োগ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে একটি ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতি’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাজেট বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প পর্যবেক্ষণে ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব বা দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং শিগগিরই পেশাদার ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিশন গঠন করা হবে। এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং পুঁজিবাজারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো সহজে তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: নেজামে ইসলাম পার্টির পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশরে মরুভূমির বুকে ছুটছে বিশ্বের দীর্ঘতম চালকবিহীন মনোরেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ এম


মিশরে মরুভূমির বুকে ছুটছে বিশ্বের দীর্ঘতম চালকবিহীন মনোরেল

মিশরের রাজধানী কায়রো দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ যানজটের জন্য পরিচিত। নগরীর ওপর চাপ কমাতে সরকার মরুভূমির মধ্যে গড়ে তুলছে নতুন প্রশাসনিক রাজধানী। এবার সেই উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আফ্রিকার প্রথম চালকবিহীন মনোরেল নেটওয়ার্ক, যা কায়রোর পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা জাগিয়েছে।

গত ৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় ‘কায়রো মনোরেল’-এর পূর্ব নীল (ইস্ট নাইল) রুট। এটি আফ্রিকার প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা চালকবিহীন মনোরেল ব্যবস্থা। প্রকল্পের দুইটি রুট সম্পূর্ণ চালু হলে এটি বিশ্বের দীর্ঘতম মনোরেল নেটওয়ার্কে পরিণত হবে।

বর্তমানে চালু হওয়া ৫৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট নাইল রুটটি কায়রোর নাসর সিটির আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম এলাকা থেকে নতুন প্রশাসনিক রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত। পাশাপাশি ৪৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়েস্ট নাইল রুটের নির্মাণকাজ চলছে, যা ৬ অক্টোবর সিটি থেকে গিজা পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করবে।

দুইটি রুট চালু হলে নেটওয়ার্কটির মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ১০০ কিলোমিটারের বেশি, যা বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম স্বীকৃত মনোরেল ব্যবস্থা চীনের চংকিং মনোরেলকেও ছাড়িয়ে যাবে। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে এই নেটওয়ার্কের।

উদ্বোধনের পর প্রথম তিন দিন যাত্রীরা বিনামূল্যে মনোরেলে ভ্রমণের সুযোগ পান। পরে চারটি জোনভিত্তিক ভাড়া চালু করা হয়। পুরো ইস্ট নাইল রুটে একমুখী যাত্রার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ মিশরীয় পাউন্ড।

কায়রোর বিদ্যমান তিনটি মেট্রো লাইন বছরে প্রায় ৫০ কোটি যাত্রী পরিবহন করে থাকে। ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে ২০১৯ সালে প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের চুক্তির মাধ্যমে নতুন মনোরেল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ফরাসি রেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আলস্টমের নেতৃত্বে গঠিত একটি কনসোর্টিয়াম প্রকল্পটির নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে।

ইংল্যান্ডের ডার্বি কারখানায় নির্মিত ২৭২টি মনোরেল কোচ নিয়ে গঠিত ৬৮টি ট্রেন ঘণ্টায় প্রতি দিকে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলবে।

আলস্টমের দাবি, এই মনোরেল ব্যবস্থা পরিবেশবান্ধব। এতে কম শব্দদূষণ হয় এবং ব্রেকিংয়ের সময় উৎপন্ন শক্তির ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, যা জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়।

মিশর সরকার আশাবাদী যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানী ভবিষ্যতে ৬৫ লাখ মানুষের আবাসস্থল হবে এবং প্রায় ২০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। সে লক্ষ্যেই আধুনিক গণপরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবানন ট্রাম্প-ইরান চুক্তির জন্য মারাত্মক হুমকি কেন হয়ে উঠেছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ এম


লেবানন ট্রাম্প-ইরান চুক্তির জন্য মারাত্মক হুমকি কেন হয়ে উঠেছে?

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান ইরানের কূটনৈতিক উদ্যোগ নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারো অস্থিতিশীল করার পথে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে অঞ্চলটির দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অবিশ্বাস এখনো যেকোনো কূটনৈতিক অগ্রগতিকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে।

সোমবার পরিস্থিতি হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন ইসরাইল তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলার হুমকি দেয়। একই সময়ে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান-সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ইরান দাবি করে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা স্থগিত করেছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, আলোচনাগুলো খুবই বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে। তবে তিনি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা যায়, ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেন। সেই আলাপচারিতায় সম্ভাব্য লেবানন অভিযানের বিষয়ে ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন।

পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন যে উভয় পক্ষ আপাতত হামলা থেকে বিরত থাকতে সম্মত হয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

ওয়াশিংটনে লেবাননের দূতাবাসও জানায়, ইসরাইল বৈরুতে হামলা বন্ধ রাখলে হিজবুল্লাহও ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালাবে না। অন্যদিকে ইসরাইল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখবে, তবে আপাতত বৈরুতে হামলার পরিকল্পনা নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই হস্তক্ষেপ শুধু তাৎক্ষণিক সংঘাত এড়াতেই সহায়তা করেনি, বরং ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে সচল রেখেছে। এতে তেহরানকে এই বার্তাও দেওয়া হয়েছে যে, প্রয়োজন হলে ওয়াশিংটন এখনো নেতানিয়াহু সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা রাখে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক আলি ফাতোল্লাহ-নেজাদ বলেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার ক্ষমতার সম্পর্কের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক সফলতা হয়তো সাময়িক। কারণ ইসরাইল ও ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পরস্পরবিরোধী স্বার্থ, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতা যেকোনো সময় আবারো নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে।

ফলে ইরানের সঙ্গে একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানোর ট্রাম্পের প্রচেষ্টা এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সূত্র: সিএনএন

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন চুক্তিটিকে কীভাবে দেখছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ এম


ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন চুক্তিটিকে কীভাবে দেখছে?

 

ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি।

যদিও উভয় পক্ষের কট্টরপন্থী অবস্থান এবং কঠিন শর্তের কারণে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর তিন মাসেরও বেশি সময় পেরিয়েছে। তবুও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ, ইরানের বন্দর অবরোধ, পারমাণবিক কর্মসূচি, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নে মতবিরোধ বহাল রয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। তেহরানের দাবি, এপ্রিলের শুরুতে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, তেহরানের আন্দিশেহ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় ইসরাইলি গণমাধ্যমে একজন আইআরজিসি জেনারেলকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করা হলেও ইরানি গণমাধ্যম এটিকে গ্যাস লিকজনিত দুর্ঘটনা বলে জানিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব একযোগে ‘আত্মসমর্পণ না করার’ বার্তা দিলেও তাদের অবস্থানে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মোজতবা খামেনির অবস্থান

নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি বর্তমানে দেশটির ধর্মীয় এবং সামরিক কাঠামোর শীর্ষ নেতৃত্বে অবস্থান করছেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তিনি কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লিখিত বার্তাগুলোতে মোজতবা খামেনি সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা না করলেও তিনি উল্লেখ করেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হবে যুক্তরাষ্ট্রমুক্ত এবং এই অঞ্চলের জনগণের অগ্রগতি, শান্তি ও কল্যাণের জন্য নিবেদিত।

তিনি ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে উল্লেখ করে এগুলো রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি সমর্থক ও সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরে তিনি দেশকে আরো এক বছর ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’ অনুসরণের জন্য প্রস্তুত থাকার কথাও বলেছেন।

ট্রাম্প-ইরান চুক্তির জন্য লেবানন কেন মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে?

প্রভাবশালী সামরিক ও নিরাপত্তা বলয়

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি নেতৃত্বাধীন সামরিক ও নিরাপত্তা গোষ্ঠীর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধ পরিচালনাকারী শীর্ষ কমান্ডাররা প্রকাশ্যে আলোচনা বিষয়ক বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য না করলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

সামরিক নেতৃত্বের অবস্থান মূলত কঠোর। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার আহমাদ বাহিদি তার বক্তব্যে প্রতিরোধ, সামরিক সক্ষমতা এবং প্রয়োজনে সংঘাত বাড়ানোর সক্ষমতার ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ব্যর্থতার পথে থাকা পরাশক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছেন, ইরান বিজয়ের পথে রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায় ‘ধ্বংসাত্মক ও নরকসম প্রতিক্রিয়া’ দেখানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত আলোচনার পথ খোলা রাখলেও জাতীয় নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাবের প্রশ্নে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই সীমিত। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো এখনো কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৬ এম


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট এই অভিনন্দন জানিয়েছেন মঙ্গলবার (২ জুন) রাতের দিকে, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একজন পোস্টের মাধ্যমে।

ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আপনার সাফল্য কামনা করি।’

এছাড়াও, তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে আপনার সুদক্ষ নেতৃত্বে সাধারণ পরিষদ সকল সদস্য রাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে যাবে। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জনগণ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত।’

এর আগে, সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিসকে হারিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সাধারণ পরিষদের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ১৯০টি ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেজ কাকাউরিস পেয়েছেন ৯১টি ভোট। আট ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হন বাংলাদেশের প্রার্থী।

এক বছর ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এই অধিবেশন আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অতঃপর, ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বনেতাদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উঁচুপদস্থ সাধারণ বিতর্ক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%