০৭:২৭ এম
মিশরের রাজধানী কায়রো দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ যানজটের জন্য পরিচিত। নগরীর ওপর চাপ কমাতে সরকার মরুভূমির মধ্যে গড়ে তুলছে নতুন প্রশাসনিক রাজধানী। এবার সেই উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আফ্রিকার প্রথম চালকবিহীন মনোরেল নেটওয়ার্ক, যা কায়রোর পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা জাগিয়েছে।
গত ৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় ‘কায়রো মনোরেল’-এর পূর্ব নীল (ইস্ট নাইল) রুট। এটি আফ্রিকার প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা চালকবিহীন মনোরেল ব্যবস্থা। প্রকল্পের দুইটি রুট সম্পূর্ণ চালু হলে এটি বিশ্বের দীর্ঘতম মনোরেল নেটওয়ার্কে পরিণত হবে।
বর্তমানে চালু হওয়া ৫৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট নাইল রুটটি কায়রোর নাসর সিটির আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম এলাকা থেকে নতুন প্রশাসনিক রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত। পাশাপাশি ৪৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়েস্ট নাইল রুটের নির্মাণকাজ চলছে, যা ৬ অক্টোবর সিটি থেকে গিজা পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করবে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
দুইটি রুট চালু হলে নেটওয়ার্কটির মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ১০০ কিলোমিটারের বেশি, যা বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম স্বীকৃত মনোরেল ব্যবস্থা চীনের চংকিং মনোরেলকেও ছাড়িয়ে যাবে। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে এই নেটওয়ার্কের।
উদ্বোধনের পর প্রথম তিন দিন যাত্রীরা বিনামূল্যে মনোরেলে ভ্রমণের সুযোগ পান। পরে চারটি জোনভিত্তিক ভাড়া চালু করা হয়। পুরো ইস্ট নাইল রুটে একমুখী যাত্রার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ মিশরীয় পাউন্ড।
কায়রোর বিদ্যমান তিনটি মেট্রো লাইন বছরে প্রায় ৫০ কোটি যাত্রী পরিবহন করে থাকে। ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে ২০১৯ সালে প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের চুক্তির মাধ্যমে নতুন মনোরেল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ফরাসি রেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আলস্টমের নেতৃত্বে গঠিত একটি কনসোর্টিয়াম প্রকল্পটির নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে।
ইংল্যান্ডের ডার্বি কারখানায় নির্মিত ২৭২টি মনোরেল কোচ নিয়ে গঠিত ৬৮টি ট্রেন ঘণ্টায় প্রতি দিকে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলবে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
আলস্টমের দাবি, এই মনোরেল ব্যবস্থা পরিবেশবান্ধব। এতে কম শব্দদূষণ হয় এবং ব্রেকিংয়ের সময় উৎপন্ন শক্তির ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, যা জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়।
মিশর সরকার আশাবাদী যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানী ভবিষ্যতে ৬৫ লাখ মানুষের আবাসস্থল হবে এবং প্রায় ২০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। সে লক্ষ্যেই আধুনিক গণপরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন