বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:২৭ পি.এম
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় মাছের ঘেরে বিদ্যুতের লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. মোশারফ খান (৪০) নামে এক মাছচাষির মৃত্যু ঘটে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত মোশারফ খান ওই গ্রামের দবির খানের ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে তিনি নিজের মাছের ঘেরে বিদ্যুতের লাইন ঠিক করতে যান। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে ৯টার দিকে এক পথচারী ঘেরের পাশে যাওয়ার সময় পানির মধ্যে তার মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের খবর দিলে তারা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
কালুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করার পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড়ে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১৫ দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে এককালীন অনুদানের চেক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক অনিল চন্দ্র বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী উপপরিচালক গোলাম ফারুক। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, প্রশিক্ষণার্থী রাহুল দাস, আদুরী রানী নন্দিনী, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দার এবং সভাপতি মোশাররফ হোসেন।
আয়োজকরা জানান, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থী বেসিক কম্পিউটার বিষয়ে ১৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে আলোচনা সভার পর প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর হাতে ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক এবং সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি ঘটে এবং জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফুটবলের দুই পরাশক্তি, আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই মহারণে আলোচিত হচ্ছে আর্জেন্টাইনের লিওনেল মেসি এবং স্পেনের তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামালের মধ্যে লড়াই। বিশ্বকাপের ফাইনালে কে আলো ছড়াবে, এ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। বয়সে তরুণ ইয়ামাল মেসির মতো মানের খেলোয়াড় নন, তবে দুজনের খেলার পজিশন ও ধরণ প্রায় একই। পাশাপাশি, দুজনেই বাঁ পায়ের ফুটবলার। ফলে, মুখোমুখি লড়াইয়ে কে শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরবে, তাই নিয়ে চলছে গোলমাল।
বার্সেলোনার সর্বকালের সেরা গোলদাতা ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবং এই ক্লাবের ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় বালক ইয়ামাল এবারই প্রথম মাঠে একে অপরের বিপক্ষে খেলবেন। তবে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ নতুন নয়, সেটি প্রায় দুই দশক আগে ঘটেছিল। তখন ইয়ামাল ছিল একটি শিশু এবং মেসি ছিলেন ২০ বছরের উদীয়মান এক তারকা।
দুই বছর আগে ২০২৪ ইউরো কাপে ইয়ামাল যখন স্পেনের হয়ে উত্থান ঘটাচ্ছিলেন, তখন সামাজিক মাধ্যমে কিছু অবিশ্বাস্য ছবি ছড়ায়। বিশ্বকাপের ফাইনালের মাহেন্দ্রক্ষণের এই পুনর্মিলনী সেই ছবিগুলোকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ভাইরাল ছবিগুলোতে দেখা যায়, ইয়ামাল বাথটাবে বসে আছে, পাশে তার মা। মেসি তখন কাঁধ পর্যন্ত চুলে দেখা যাচ্ছে। তিনি ইয়ামালের মাকে সাহায্য করছেন ইয়ামালের গোসল করাতে। ছবিটি প্রথম প্রকাশ করেছিলেন ইয়ামালের বাবা। ইনস্টাগ্রাম থেকে ছবিটি পরে জনপ্রিয় সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর কাছে যায় এবং মুহূর্তেই এটি ভাইরাল হয়ে যায়।
এরপর স্পেনের দৈনিক ডিয়ারিও স্পোর্ট কর্তৃক দ্বিতীয় একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, মেসি একাই লামিনে ইয়ামালকে ধরে বসে আছেন। ইয়ামাল তখনও বাথটাবেই ছিল।
বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু’র অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুমে ২০০৭ সালে ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। কাতালান সংবাদপত্র 'দিয়ারিও স্পোর্ট' এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য এই ছবি তোলেন ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট।
২০২৪ সালে এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মনফোর্ট বলেন, "আমরা ইউনিসেফের সহায়তায় ক্যালেন্ডারটি তৈরি করছিলাম। ইউনিসেফ মাতারোর রকা ফন্ডা এলাকায় একটি লটারির আয়োজন করেছিল। সেখানে লামিনের পরিবারও ছিল। ক্যাম্প ন্যু-তে কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তারা লটারির টিকিট কাটেন এবং জয়ী হন।"
সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ড্রেসিংরুমে ইয়ামাল ও তার মা শেইলা মেসির সঙ্গে যোগ দেন। কিন্তু শুরুটা সহজ ছিল না। মনফোর্ট জানান, "মেসি খুবই অন্তর্মুখী এবং লাজুক। ড্রেসিংরুমে ঢুকতে গিয়ে সে প্রথমে বুঝতে পারছিল না বাচ্চাটিকে কীভাবে কোলে নেবে। ইয়ামালের মা শেইলা সাহায্য করেছিলেন।"
এত বছর পর নিজের তোলা ছবি এভাবেও সাড়া ফেলায় উচ্ছ্বসিত মনফোর্ট। তিনি বলেন, "এতে জড়িয়ে থাকতে পারাটা সত্যিই রোমাঞ্চকর।" সময় কেটে গেছে। মেসি বার্সেলোনা ছেড়ে গেছেন, আর ইয়ামাল মাত্র ১৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন বয়সে বার্সার মূল দলে অভিষেক ঘটিয়েছিল। ইতোমধ্যে সে তিনটি লা লিগা জিতেছে এবং ইউরো ২০২৪-এর শিরোপাও অর্জন করেছে। বর্তমানে ১৯ বছরে পা দেওয়া ইয়ামাল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সম্প্রতি মেসির মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্নের কথাও বলেছেন ইয়ামাল। ক্রীড়াভিত্তিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএনকে তিনি বলেছিলেন, "আমি বড় হয়ে গেছি, মেসির বয়সও বেড়েছে। আশা করছি ফাইনালে তার মুখোমুখি হব। বিশেষ করে ফিনালিসিমা ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি, তাই এই ফাইনালটি আমার জন্য বড় সুযোগ।"
নিয়তি আবার তাদের এক বিন্দুতে নিয়ে এসেছে। অনেকেই ইয়ামালকে মেসির যোগ্য উত্তরসূরি মনে করছেন। তবে আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী ফুটবল ইতিহাসের এই কিংবদন্তির কীর্তিকে ছুঁতে তাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার কাশিয়ানীতে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার সাথে আরো ২০০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের ধানকোড়া গ্রামের বাসিন্দা ইমদাদুল হক গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে কাশিয়ানী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তিনি ধানকোড়া গ্রামের হাজী কায়েম উদ্দিন ফকিরের পুত্র এবং রাতইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাফিছুর রহমান আজ সকালে বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেলে উপজেলার তিলছড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে তারা। এর ফলে জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের উদ্ভব হয়।
এসময়, মামলার বাদী এমদাদুল হক মোটরসাইকেলযোগে সঙ্গী নিয়ে সেখানে পৌঁছালে আসামিরা তাদের ওপর অতর্কিতে চড়াও হয়। তারা তাদের মারধর করে এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামিরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে কাশিয়ানী থানায় ১২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। সহকারী পুলিশ সুপার নাফিছুর রহমান বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন চলাচলে বাধা, বিএনপি নেতাদের মারধর এবং মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ১৮ জন আসামিকে গ্রেফতার করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত একটি মেলার গেটে একটি বাংলা শব্দের ভুল বানান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এই ভুলের ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যাওয়ায়, এই নিয়ে সামাজিক মাধ্যম সরগরম।
সম্প্রতি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি মেলার আয়োজন করা হয়েছে এবং সেই মেলার গেটে "জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা" এই বাক্যটি সোনালি রঙের অক্ষরে লেখা হয়েছে। তবে সেই ব্যানারে "কুটির" বানানটি ভুলভাবে "কুঠির" লেখা হয়েছে।
উক্ত ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে, এই ভুলটি সবার চোখ এড়িয়ে গেছে। কারণ, এই গেটের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অনেক আমন্ত্রিত ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রশাসন উপস্থিত ছিলেন। তবে কেউ অদ্যাবধি এই ভুল বানানটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলেননি।
এই ভুল বানান নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীরা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। অনেকে মন্তব্য করছেন যে, স্থানীয় প্রশাসন ও মেলা আয়োজকদের বাংলা ভাষার প্রতি অবহেলা দেখা যাচ্ছে। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, "প্রশাসন কি এই ভুলের প্রতি উদাসীন? এটি তো বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতি বড় অপমান।"
অন্য একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "মেলার গেট তৈরির দায়িত্ব যারা নিয়েছিলেন, তাদের দক্ষতা এবং সতর্কতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা কেন?"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভুল বানান নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে, এবং অনেকেই এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত মেলা আয়োজকদের বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ