প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফুটবলের দুই পরাশক্তি, আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই মহারণে আলোচিত হচ্ছে আর্জেন্টাইনের লিওনেল মেসি এবং স্পেনের তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামালের মধ্যে লড়াই। বিশ্বকাপের ফাইনালে কে আলো ছড়াবে, এ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। বয়সে তরুণ ইয়ামাল মেসির মতো মানের খেলোয়াড় নন, তবে দুজনের খেলার পজিশন ও ধরণ প্রায় একই। পাশাপাশি, দুজনেই বাঁ পায়ের ফুটবলার। ফলে, মুখোমুখি লড়াইয়ে কে শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরবে, তাই নিয়ে চলছে গোলমাল।
বার্সেলোনার সর্বকালের সেরা গোলদাতা ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবং এই ক্লাবের ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় বালক ইয়ামাল এবারই প্রথম মাঠে একে অপরের বিপক্ষে খেলবেন। তবে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ নতুন নয়, সেটি প্রায় দুই দশক আগে ঘটেছিল। তখন ইয়ামাল ছিল একটি শিশু এবং মেসি ছিলেন ২০ বছরের উদীয়মান এক তারকা।
দুই বছর আগে ২০২৪ ইউরো কাপে ইয়ামাল যখন স্পেনের হয়ে উত্থান ঘটাচ্ছিলেন, তখন সামাজিক মাধ্যমে কিছু অবিশ্বাস্য ছবি ছড়ায়। বিশ্বকাপের ফাইনালের মাহেন্দ্রক্ষণের এই পুনর্মিলনী সেই ছবিগুলোকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ভাইরাল ছবিগুলোতে দেখা যায়, ইয়ামাল বাথটাবে বসে আছে, পাশে তার মা। মেসি তখন কাঁধ পর্যন্ত চুলে দেখা যাচ্ছে। তিনি ইয়ামালের মাকে সাহায্য করছেন ইয়ামালের গোসল করাতে। ছবিটি প্রথম প্রকাশ করেছিলেন ইয়ামালের বাবা। ইনস্টাগ্রাম থেকে ছবিটি পরে জনপ্রিয় সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর কাছে যায় এবং মুহূর্তেই এটি ভাইরাল হয়ে যায়।
এরপর স্পেনের দৈনিক ডিয়ারিও স্পোর্ট কর্তৃক দ্বিতীয় একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, মেসি একাই লামিনে ইয়ামালকে ধরে বসে আছেন। ইয়ামাল তখনও বাথটাবেই ছিল।
বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু’র অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুমে ২০০৭ সালে ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। কাতালান সংবাদপত্র 'দিয়ারিও স্পোর্ট' এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য এই ছবি তোলেন ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট।
২০২৪ সালে এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মনফোর্ট বলেন, "আমরা ইউনিসেফের সহায়তায় ক্যালেন্ডারটি তৈরি করছিলাম। ইউনিসেফ মাতারোর রকা ফন্ডা এলাকায় একটি লটারির আয়োজন করেছিল। সেখানে লামিনের পরিবারও ছিল। ক্যাম্প ন্যু-তে কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তারা লটারির টিকিট কাটেন এবং জয়ী হন।"
সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ড্রেসিংরুমে ইয়ামাল ও তার মা শেইলা মেসির সঙ্গে যোগ দেন। কিন্তু শুরুটা সহজ ছিল না। মনফোর্ট জানান, "মেসি খুবই অন্তর্মুখী এবং লাজুক। ড্রেসিংরুমে ঢুকতে গিয়ে সে প্রথমে বুঝতে পারছিল না বাচ্চাটিকে কীভাবে কোলে নেবে। ইয়ামালের মা শেইলা সাহায্য করেছিলেন।"
এত বছর পর নিজের তোলা ছবি এভাবেও সাড়া ফেলায় উচ্ছ্বসিত মনফোর্ট। তিনি বলেন, "এতে জড়িয়ে থাকতে পারাটা সত্যিই রোমাঞ্চকর।" সময় কেটে গেছে। মেসি বার্সেলোনা ছেড়ে গেছেন, আর ইয়ামাল মাত্র ১৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন বয়সে বার্সার মূল দলে অভিষেক ঘটিয়েছিল। ইতোমধ্যে সে তিনটি লা লিগা জিতেছে এবং ইউরো ২০২৪-এর শিরোপাও অর্জন করেছে। বর্তমানে ১৯ বছরে পা দেওয়া ইয়ামাল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সম্প্রতি মেসির মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্নের কথাও বলেছেন ইয়ামাল। ক্রীড়াভিত্তিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএনকে তিনি বলেছিলেন, "আমি বড় হয়ে গেছি, মেসির বয়সও বেড়েছে। আশা করছি ফাইনালে তার মুখোমুখি হব। বিশেষ করে ফিনালিসিমা ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি, তাই এই ফাইনালটি আমার জন্য বড় সুযোগ।"
নিয়তি আবার তাদের এক বিন্দুতে নিয়ে এসেছে। অনেকেই ইয়ামালকে মেসির যোগ্য উত্তরসূরি মনে করছেন। তবে আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী ফুটবল ইতিহাসের এই কিংবদন্তির কীর্তিকে ছুঁতে তাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন