০৫:১৩ পি.এম
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সাত বছরের শিশু নন্দিনী রায় হত্যা মামলার অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায়কে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত এবং প্রাথমিক পুলিশি কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের পর সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হামলা এবং সরকারি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, হামলা ও নাশকতায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বর্ষপূর্তিতে ম্যাগাজিন বর্ষবার্তা বের হচ্ছে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামের ধরণীকান্ত বর্মনের মেয়ে নন্দিনী রায় নিখোঁজ হয়। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের সময় প্রতিবেশী রঞ্জিত রায়ের ছেলে বিধান চন্দ্র রায়কে কোদাল হাতে ক্ষেত থেকে বের হতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে ক্ষুব্ধ জনতার সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশ।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এ সময় জনতার ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলায় ১৮ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ফেরার সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়িসহ প্রশাসনের কিছু যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তরফ থেকে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়।
আরও পড়ুন: মদনে শিশু ধর্ষণ ও গর্ভধারণ মামলা, রায় ১১ নভেম্বর
পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় এবং বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিশু হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততার সাথে তদন্ত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হামলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুর ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, কোনো ধরনের গণপিটুনি বা আইন নিজের হাতে নিয়ে আসা বরদাশত করা হবে না। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন