০৫:১৬ পি.এম
চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩০) আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন। বিচার শুরু হওয়ার আট কার্যদিবসের মধ্যে এবং মামলার ২৬ দিনের মধ্যে আদালত এই রায় প্রদান করেন।
এর আগে গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার নূর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুর মাঠ সংলগ্ন একটি গুদামঘরে শিশু ধর্ষণের এই ঘটনার তোলপাড় হয় দেশজুড়ে।
আরও পড়ুন: বিএমপি কমিশনারের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্সের পুকুরে মৎস্যপোনা অবমুক্ত, উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের প্রত্যাশা
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করার পর উত্তেজিত স্থানীয় জনগণ তাকে গণপিটুনি দিতে চেয়ে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার দাবি জানায়। এই সময় পুলিশের সঙ্গে জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ কৌশলে আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়।
ঘটনার পর দিন ২২ মে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। একইদিন বিকেলে আসামি আদালতে হাজির হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়। পরে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদনসহ তদন্ত সম্পন্ন করে ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় ৯ জুন। ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা। পরদিন ১০ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাদী, ভুক্তভোগী, চিকিৎসকসহ মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়। ১৬ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।
আরও পড়ুন: ৭নং জগদল ইউনিয়ন বিএনপির কর্মীসভা অনুষ্ঠিত, ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন