বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:০৭ পি.এম
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওয়াইলি পার্ক এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু ঘটেছে। বুধবার (স্থানীয় সময়) রাতে কর্নেলিয়া স্ট্রিটের একটি বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটনাটির সূত্রপাত ঘটে।
নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পুলিশ জানায়, রাত প্রায় পৌনে ১০টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসা সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছান। তখন এসে দেখা যায়, বাড়িটির পেছনের আবাসিক অংশ সম্পূর্ণ আগুনে পুড়ে গিয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে নিহত এক পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তথ্যে নিহতদের মধ্যে একজন ৫২ বছর বয়সী পুরুষ, একজন ৪৩ বছর বয়সী নারী এবং একজন ১৬ বছর বয়সী কিশোর রয়েছে। তারা ওই বাড়ির পেছনের একটি গ্র্যানি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলকে অপরাধস্থল ঘোষণা করে তদন্তকার্যে রত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ সঠিকভাবে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রথমবারের মতো বিকট শব্দ ও পোড়া গন্ধে তারা বাইরে বের হয়ে আগুন দেখতে পান। কিছু প্রতিবেশী ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও, আগুনের তীব্রতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে সামনের অংশে একজন বৃদ্ধাকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন এক প্রতিবেশী।
ফায়ার সার্ভিস বিভাগ জানায়, ভবনের পেছনের অংশে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে পড়েছিল। যথাসময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, তখনকার মধ্যে ভবনের ওই অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের পাশাপাশি অগ্নি-তদন্ত বিশেষজ্ঞ ও ফরেনসিক কর্মকর্তারা যৌথভাবে তদন্ত করছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে শীত মৌসুমে হিটার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে দমকল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। তারা বাসাবাড়িতে কার্যকর ধোঁয়া শনাক্তকারী (স্মোক অ্যালার্ম) স্থাপন ও বৈদ্যুতিক এবং গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তিন থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) মোট ৬ জন পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) তারিখে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. শাহরিয়ার আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
উক্ত আদেশ অনুযায়ী, ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) (তদন্ত) ইয়াসিন মিয়াকে রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। একইসাথে, ডিবি সাইবার স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগের পুলিশের নিরস্ত্র পরিদর্শক মো. আজহারুল ইসলামকে কামরাঙ্গীরচর থানার অফিসার ইনচার্জ করা হয়েছে। এরপর, ডিবি সাইবার স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগের আরেকজন নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলামকে শ্যামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অপর দিকে, রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রাহাত খানকে ডিএমপির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিসিস বিভাগে বদলি করা হয়েছে। কামরাঙ্গীরচর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম ফারুককে ডিবি সাইবার স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং শ্যামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুর রহমানকে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাট, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : জেলার কচুয়া উপজেলায় খাল পুনঃখনন ও ভূমি সেবা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেছেন খুলনার কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন।
গতকাল বুধবার পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া খাল পুনঃখনন কাজ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং কচুয়া উপজেলা ভূমি অফিস ও রাড়িপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন।
এসময় তিনি পুনঃখনন কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান পর্যালোচনা করে বলেন, ‘কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খাল পুনঃখনন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা উচিত, যাতে স্থানীয় জনগণ দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করতে পারেন।'
পরে তিনি কচুয়া উপজেলা ভূমি অফিস এবং রাড়িপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দাপ্তরিক নথিপত্র, নামজারি কার্যক্রম, ভূমি রেকর্ড সংরক্ষণ এবং সেবাদান প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘ভূমি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দ্রুততার সঙ্গে আধুনিক এবং জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।'
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ দাশ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আসিফ হায়দার, খুলনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসন ও কচুয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমানের অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিয়ে নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তারা নীতিমালা শিথিল, স্বার্থের সংঘাত এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) পদে তাঁর নাম আলোচনায় থাকায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও প্রশাসনিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ড. ফেরদৌস রহমান ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। প্রচলিত পদোন্নতি নীতিমালায় অধ্যাপক পদে আবেদনের জন্য নির্ধারিত অভিজ্ঞতার মেয়াদ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও, নীতিমালায় শর্ত শিথিল হওয়ার পর তিনি তাঁর পদোন্নতির জন্য আবেদন করেন এবং পরবর্তীতে পদোন্নতি লাভ করেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, পদোন্নতি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর সদস্য ছিলেন। এ কারণে নিজের পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ততা স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তুলেছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত এবং ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালায় অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে রেয়াতের কোনো সুযোগ ছিল না। তবে নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি হয় এবং এর সুবিধাভোগীদের মধ্যে ড. ফেরদৌস রহমান অন্যতম বলে অভিযোগ আছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, পদোন্নতির পর জারি করা আদেশে তাঁর ক্ষেত্রে এক বছরের পর্যবেক্ষণকাল এবং নির্দিষ্ট গবেষণা-সংক্রান্ত শর্ত পূরণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এতে পদোন্নতির সময় তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।
এদিকে, বর্তমানে ড. ফেরদৌস রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বহিরাঙ্গণ কার্যক্রম দপ্তরের পরিচালক, সিন্ডিকেট সদস্য এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করছেন। একই ব্যক্তির হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকায় প্রশাসনিক ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ।
তা ছাড়া, তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ী বিলাসীতার অভিযোগও রয়েছে। তিনি একা দুইটি গাড়ী ব্যবহার করেন। প্রক্টরের জন্য সার্বক্ষণিক কোনো গাড়ী নির্ধারিত না থাকলেও, তিনি একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো ৫৩-২৮০৪) সার্বক্ষণিক নিজের হেফাজতে রেখেছেন। এই গাড়ীতে মূলত তাঁর পরিবারের সদস্যরাই বেশি চলাচল করেন। অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ীটিও (রংপুর গ ১১-০০৭৪) তিনি সার্বক্ষণিকভাবে ব্যবহার করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের জন্য মূল্যস্ফীতি একটি বড় ধরনের যন্ত্রণারূপ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর ব্রাক ইন সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডি আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি অধিক থাকার পিছনে একটি প্রধান কারণ হলো সরবরাহ ব্যবস্থাপনা। চাষিরা সঠিক তথ্যের অভাবে অযথা অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদন করছেন। অনেক সময় তারা সঠিক দামও পান না, কারণ চাহিদা কম থাকে।
পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার বাড়তি নজরদারি রাখছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মূল্যস্ফীতি সবাইর জন্যই ‘পেইন’ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্যের পরিবহনে চাঁদাবাজির মতো অদৃশ্য খরচ বিদ্যমান, যা পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে। তবে সরকার এই সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ