বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:২২ পি.এম
বাংলাদেশের জন্য মূল্যস্ফীতি একটি বড় ধরনের যন্ত্রণারূপ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর ব্রাক ইন সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডি আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি অধিক থাকার পিছনে একটি প্রধান কারণ হলো সরবরাহ ব্যবস্থাপনা। চাষিরা সঠিক তথ্যের অভাবে অযথা অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদন করছেন। অনেক সময় তারা সঠিক দামও পান না, কারণ চাহিদা কম থাকে।
পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার বাড়তি নজরদারি রাখছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মূল্যস্ফীতি সবাইর জন্যই ‘পেইন’ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্যের পরিবহনে চাঁদাবাজির মতো অদৃশ্য খরচ বিদ্যমান, যা পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে। তবে সরকার এই সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসরকারি বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব হজের খরচ কমানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশের পক্ষ থেকে ব্যয় কমানোর সুযোগ বর্তমানে খুবই সীমিত রয়েছে। তবে সৌদি আরব আরোপিত বিভিন্ন চার্জ যদি কমানো যায়, তাহলে হজযাত্রীদের ব্যয় আরও কমানো সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এসব চার্জ কমানোর ফলে একজন হজযাত্রীর ব্যয়ও আরও কমানো সম্ভব হবে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ইতোমধ্যে হজের ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে বলে তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব হজযাত্রীপ্রতি ১০ টাকা বিমানবন্দর চার্জসহ বিভিন্ন ধরনের ফি আদায় করে। তিনি আরও যোগ করেন, সৌদি আরবের এসব চার্জ কমানো গেলে একজন হজযাত্রীর মোট ব্যয় আরও ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে আসতে পারে। একই সাথে বিমান ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের ধর্ম ও বিমান মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হজযাত্রীদের আবাসনের ক্ষেত্রে 'ডি' ক্যাটাগরির পরিবর্তে 'সি' ক্যাটাগরির সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে হাজিরা তুলনামূলক উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবেন। একই সাথে 'ডি' ক্যাটাগরির ভাড়ায় 'সি' ক্যাটাগরির সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। অনেক মানুষ জমিজমা বিক্রি করে বা দীর্ঘদিন সঞ্চয় করে হজে যান, তাই তাদের আর্থিক চাপ কমাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, সামর্থ্যহীন মানুষের হজ পালনে সহায়তার জন্য প্রয়োজনে সরকারি ভর্তুকির বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। মানবিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় চর্চা ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক আচরণ ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে হজযাত্রী এবং হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে ধর্মসচিব আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় যদি কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা ঘটে, তবে দায়ী এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হজে যারা যাবেন তাদের মানবিক হতে হবে। একইসঙ্গে, যারা হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন, তাদেরও সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে।
লাগেজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, আগে এ বিষয়ে বাংলাদেশের কিছু করণীয় ছিল, কিন্তু এখন লাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্ব সৌদি আরবের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সেই কোম্পানি আবার ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানকে এ দায়িত্ব দিয়েছে। ফলে এ বিষয়ে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই।
হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও দালাল নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের হয়রানি করে। অনেককে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হোটেলে রাখা হয় না এবং প্রয়োজনীয় সেবাও দেওয়া হয় না। কোনো বৈধ এজেন্সি যদি হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তবে হাব ও ধর্ম মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬ উদ্বোধনের কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত না থাকায় বেসরকারি বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত মেলার উদ্বোধন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিফা বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের মালিকানা বা বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বে বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুনভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে।ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর এ সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমর্থকদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সমালোচকদের আশঙ্কা হল, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রভাব বাড়লে খেলাধুলার সিদ্ধান্তগুলোর ওপর অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে ফিফা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ক্রীড়া মহলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। ফিফা যদি ভবিষ্যতে বেসরকারি বিনিয়োগের পথে এগোয়, তাহলে সম্ভাব্য আলোচনা এবং মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন মার্কিন ধনকুবের জোশুয়া কুশনার। উল্লেখ্য, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ছোট ভাই এবং ট্রাম্প পরিবারের আত্মীয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির লিভিংস্টনে জন্ম নেওয়া জোশুয়া কুশনার জেরুজালেম এবং বেইত শেমেশের একটি অর্থোডক্স স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। পরে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং ২০১১ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি প্রায় এক বছর গোল্ডম্যান স্যাকসে কর্মরত ছিলেন।
শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠা করেন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটাল, যা ওপেনএআই, গিটহাব, ইনস্টাগ্রাম, স্পোটিফাইসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বিনিযোগের মাধ্যমে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। পাশাপাশি ইসরায়েলভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজ, মেলিও এবং লেমনেডেও প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে।
বিভিন্ন ব্যবসায়িক সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে কুশনার পরিবারের সবচেয়ে ধনী সদস্য জোশুয়া কুশনার। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৫.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে তার বড় ভাই জ্যারেড কুশনারের সম্পদের পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি বলে ধারণা করা হয়।
কুশনার পরিবারের রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কুশনার কোম্পানিজ-এর মাধ্যমে বাবা চার্লস এবং পরিবারের সদস্যদের উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় চার্লস কুশনারের অংশীদারিত্ব ২০ শতাংশ এবং বাকি ৮০ শতাংশ চার সন্তানের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত।
জোশুয়া কুশনারের স্ত্রী সাবেক সুপারমডেল, উদ্যোক্তা ও মিডিয়া নির্বাহী কার্লি ক্লস। বিয়ের আগে তিনি ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি বেডফোর্ড মিডিয়া পোর্টফোলিওর চেয়ারম্যান এবং আই-ডি, লাইফ ও ডব্লিউজ ম্যাগাজিনের ব্যবস্থাপনা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেও জোশুয়া কুশনার এবং কার্লি ক্লস রাজনৈতিকভাবে ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের নির্বাচনী চক্রে জোশুয়া ডেমোক্র্যাটপন্থী একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিকে (পিএসি) আড়াই লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেন। এছাড়া অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আন্দোলন এবং ২০১৭ সালের অ্যান্টি-ট্রাম্প ‘উইমেনস মার্চ’এও তিনি সমর্থন জানিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও ইসরায়েলের প্রতি তার সমর্থন দৃঢ় রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল সম্পর্কিত জনমত গঠনে সক্রিয় মার্কিন ধনকুবেরদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ফিফার বিশ্বকাপ বা অন্যান্য ইভেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। জোশুয়া কুশনারের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি; এটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত গুঞ্জনের ভিত্তিতে সামনে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন চিংফেং ঝাং। আজ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি, এ সম্পর্কে এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, চিংফেং ঝাং বাংলাদেশে সংস্থাটির অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এডিবির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করবেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে কৌশলগত নীতিসংলাপ করবেন এবং বাংলাদেশের জন্য এডিবির পরবর্তী কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (সিপিএস) প্রণয়নে নেতৃত্ব দেবেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে ঝাং বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। গত কয়েক দশকে, বাংলাদেশ স্থিতিশীলতা ও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেছেন, এডিবি উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জ্ঞানভিত্তিক সমাধান এবং বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এডিবি জানাচ্ছে, টেকসই উন্নয়ন খাতে চিংফেং ঝাংয়ের ৩০ বছরেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে, তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় এডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। কৃষি, খাদ্যব্যবস্থা, পানিসম্পদ, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে তিনি বিভিন্ন রূপান্তরমূলক কর্মসূচি এবং কৌশলগত উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পাওয়ার আগে, চিংফেং ঝাং এডিবির অ্যাগ্রিকালচার, ফুড, নেচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেক্টর অফিসের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই দায়িত্বে তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও স্থিতিশীল উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এডিবির কৌশলগত কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
চীনের নাগরিক চিংফেং ঝাং সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরেট, সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর এবং হাইড্রোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে বিশেষায়িত পেশাগত শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া, তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এক্সিকিউটিভ এডুকেশন সম্পন্ন করেছেন।
বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এডিবির সদস্য পদ লাভ করে। বর্তমানে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে এডিবির চলমান সরকারি ও বেসরকারি খাতের পোর্টফোলিওর পরিমাণ প্রায় ১২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশকে এডিবির অন্যতম বৃহৎ কান্ট্রি প্রোগ্রামে পরিণত করেছে।
এডিবি দেশের উন্নয়নে এ পর্যন্ত মোট প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান দিয়েছে। আগামী কয়েক বছরে, বাংলাদেশ টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংযোগ উন্নত করা এবং জীবনযাত্রার মান বাড়াতে এডিবি বার্ষিক প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এডিবি, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা প্রদানকারী একটি শীর্ষস্থানীয় বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৬৯, যার মধ্যে ৫০টি এই অঞ্চলের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরে ছিনতাইকালে স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে ভৈরব নদীতে লাফ দিয়েও উদ্ধার হওয়া এক যুবকের শেষ রক্ষা হয়নি। নদী থেকে তাকে ধরে তুলে ধারালো চাকুসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন স্থানীয় লোকজন। এই ঘটনায় তার এক সহযোগী পালিয়ে গেলেও আটক যুবকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ১০টার দিকে প্রতিক্রিয়া হিসাবে ঘটনাটি ঘটে। আটক যুবকের নাম হাসিব, তার বাসস্থান বেজপাড়া তালতলা এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, হাসিব ও তার এক সহযোগী শহরের দড়াটানা মোড় সংলগ্ন ভৈরব পার্কের অঙ্গীকারে একটি মাঠা ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিল। বিষয়টি আশপাশের লোকজনের নজরে আসতেই তারা ওই দুই যুবককে ধাওয়া করেন। ধাওয়ার মুখে হাসিব ভৈরব নদীতে ঝাঁপ দেন।
এ সময় স্থানীয় যুবকদের সহায়তায় তাকে নদী থেকে ধরে নিয়ে আসা হয়। পরে আটক হাসিবের কাছ থেকে একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা তানভীর ইসলাম বলেন, পালানোর জন্য ওই যুবক চাকুসহ ভৈরব নদীতে লাফ দেয়। পরে আমরা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিই। তবে তার আরেক সহযোগী পালিয়ে যায়।
পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবু বক্কার বলেন, দড়াটানা ভৈরব পার্কের পাশে নোয়াখালীর এক মাঠা বিক্রেতার গলায় চাকু ঠেকিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের প্রয়াস চালাচ্ছিল দুই যুবক। ঠিক তখনই আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখে তাদের ধাওয়া করে। হাসিব পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে চাকুসহ গ্রেপ্তার করে।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানিয়েছেন, আটক হাসিব বর্তমানে থানার হেফাজতে রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ