প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমানের অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিয়ে নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তারা নীতিমালা শিথিল, স্বার্থের সংঘাত এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) পদে তাঁর নাম আলোচনায় থাকায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও প্রশাসনিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ড. ফেরদৌস রহমান ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। প্রচলিত পদোন্নতি নীতিমালায় অধ্যাপক পদে আবেদনের জন্য নির্ধারিত অভিজ্ঞতার মেয়াদ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও, নীতিমালায় শর্ত শিথিল হওয়ার পর তিনি তাঁর পদোন্নতির জন্য আবেদন করেন এবং পরবর্তীতে পদোন্নতি লাভ করেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, পদোন্নতি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর সদস্য ছিলেন। এ কারণে নিজের পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ততা স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তুলেছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত এবং ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালায় অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে রেয়াতের কোনো সুযোগ ছিল না। তবে নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি হয় এবং এর সুবিধাভোগীদের মধ্যে ড. ফেরদৌস রহমান অন্যতম বলে অভিযোগ আছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, পদোন্নতির পর জারি করা আদেশে তাঁর ক্ষেত্রে এক বছরের পর্যবেক্ষণকাল এবং নির্দিষ্ট গবেষণা-সংক্রান্ত শর্ত পূরণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এতে পদোন্নতির সময় তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।
এদিকে, বর্তমানে ড. ফেরদৌস রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বহিরাঙ্গণ কার্যক্রম দপ্তরের পরিচালক, সিন্ডিকেট সদস্য এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করছেন। একই ব্যক্তির হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকায় প্রশাসনিক ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ।
তা ছাড়া, তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ী বিলাসীতার অভিযোগও রয়েছে। তিনি একা দুইটি গাড়ী ব্যবহার করেন। প্রক্টরের জন্য সার্বক্ষণিক কোনো গাড়ী নির্ধারিত না থাকলেও, তিনি একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো ৫৩-২৮০৪) সার্বক্ষণিক নিজের হেফাজতে রেখেছেন। এই গাড়ীতে মূলত তাঁর পরিবারের সদস্যরাই বেশি চলাচল করেন। অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ীটিও (রংপুর গ ১১-০০৭৪) তিনি সার্বক্ষণিকভাবে ব্যবহার করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন