মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৪ পি.এম
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ বক্তব্যকে ঈমানবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা একে এম আশরাফুল হক মন্তব্য করেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় আচার পালন করবেন এবং সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে, মুসলমানদের জন্য অন্য ধর্মের পূজা-পার্বণকে নিজেদের উৎসব হিসেবে দাবি করা বা এতে অংশগ্রহণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এই কথা বলেন। মাওলানা আশরাফুল হক উল্লেখ করেছেন, দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব চলছে। সরকারকে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালনে কোনো বিঘ্ন না ঘটানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। তবে, হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ, তাদের উৎসবকে নিজেদের বলে দাবি করা কিংবা ‘সবার উৎসব’ বলা ইসলাম সমর্থন করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি দুর্গাপূজা উপলক্ষে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব তার’ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান নেজামে ইসলাম পার্টির এই নেতা। একই সঙ্গে তিনি এসব বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।
মাওলানা আশরাফুল হক বলেন, অতীতে শেখ হাসিনা ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ স্লোগান দিয়েছিলেন, যা তাঁর মতে ঈমানবিরোধী। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টার টাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে দেওয়া বক্তব্য এবং জামায়াত নেতাদের ‘পূজা-রোজা এক’ বলার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।
নতুন বাংলাদেশে বিএনপির নেতাদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত নেতাদের মতো ইসলামবিরোধী বক্তব্য জাতি প্রত্যাশা করে না বলেও মন্তব্য করেন মাওলানা আশরাফুল হক।
সভায় দলের মহাসচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা কবির আহমদ, মাওলানা আব্দুস সাত্তার ও আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি কামরুল ইসলাম, সহকারী মহাসচিব মুফতি আলাউদ্দিন কাসেমী এবং সংগঠন সচিব মাওলানা আনোয়ার হোসেন আনসারীসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং যুদ্ধের নতুন আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, যা কাতার কর্তৃক জানানো হয়েছে। দোহায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "আলোচনার বিষয়টি চলমান রয়েছে এবং আমরা দুই পক্ষের তরফ থেকেই সম্পৃক্ততা দেখতে পাচ্ছি।"
এছাড়া, তিনি আরও বলেন যে, এই আলোচনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনো খবর না আসাটা প্রমাণ করে যে মধ্যস্থতাকারীরা তাদের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করছেন। গোপন আলোচনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে ধরে তিনি জানান, সংবেদনশীল বিষয়গুলো প্রকাশ্যে না আসা বরং ইতিবাচক দিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের যে ঘনঘটা সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রশমিত করতে কাতার পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিবিয়ার পার্লামেন্ট তুরস্কের সঙ্গে সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণে যে চুক্তি হয়েছে, সেটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেছে। মঙ্গলবারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির আইনসভা পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসেছে, যেখানে তারা চুক্তিটির বিরোধিতা করছিল এবং আঙ্কারার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেছিল।
বেনগাজি থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, তুরস্ক ও লিবিয়ার সাবেক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভূমধ্যসাগরে সামুদ্রিক অধিক্ষেত্র নির্ধারণের জন্য যে সমঝোতা স্মারক সই করেছিল, সেটি আইনপ্রণেতাদের দ্বারা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে।
এছাড়া, ২০২০ সালের ১ নম্বর প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে, যা লিবিয়া ও তুরস্কের মধ্যে সই হওয়া দুটি সমঝোতা স্মারক অনুমোদনের বিরোধিতা করেছিল।
আইনপ্রণেতারা ২০২০ সালের ৬ নম্বর প্রস্তাবও বাতিল করেছেন, যেখানে তুরস্কের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
২০১৯ সালের নভেম্বরে তুরস্ক ও লিবিয়া ভূমধ্যসাগরে নিজেদের সামুদ্রিক এলাকার সীমানা নির্ধারণের জন্য চুক্তিটি সই করেছিল। মঙ্গলবারের ভোটের মাধ্যমে লিবিয়ার পার্লামেন্টের চুক্তি এবং তুরস্কের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে পূর্বের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলার আসামি সাজিবুল ইসলাম, যিনি অপূর্ব নামে পরিচিত, তার (২৮) জন্য আদালত দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর আগে তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়া এই আদেশ প্রদান করেন। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুর্গাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এসআই আসাদুল ইসলাম জানান, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এই কারণে দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুঞ্জিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির এলাকার একটি দোকানের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাংবাদিক আলিফ ফকির নিহত হন।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের মধ্যবাজারের সিনেমা হল এলাকা থেকে অপূর্বকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অপূর্ব পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমশের আলীর ছেলে।
এর আগে ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি দুর্গাপুরে ছুটিতে বাড়িতে আসা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় ১৩ জানুয়ারি অপূর্বকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজও পরিচালনা করতেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের নকলায় কমিউনিটির নেতা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ক সদস্য নিয়ে এমএনসিএএইচ বিষয়ে জনসংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসম্পৃক্ততায় সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন (এসবিসি) প্রকল্পের আওতায় স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ’র সহযোগিতায় সোমবার দুপুরের দিকে উপজেলার ৫নং বানেশ্বরদী ইউনিয়নের বাউসা একতা বাজারে এ জনসংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. লুৎফুল আনোয়ার বাদলের সভাপতিত্বে এবং স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির নকলা উপজেলা শাখার সমন্বয়কারী নার্গিস আক্তাররের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসংলাপে বক্তব্য রাখেন, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. আব্দুল আজিজ, পরিবার কল্যাণ সহকারী সাহেরা খাতুন, স্বাস্থ্য সহকারী খন্দকার শরীফ হোসেন, বাউসা কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটার (সিএইচসিপি) এস.এম মনিরুজ্জামান প্রমুখ।
এ জনসংলাপে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ হতে মাঠ পর্যায়ে মা ও শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য যেসব সেবা প্রদান করা হয় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ এবং সিজি সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তাসহ বিভিন্ন বিষয়াবলী তুলে ধরেন।
সংলাপ শেষে মা ও শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের সেবার মান উন্নয়নে সকলের অংশগ্রহণে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়। এই জনসংলাপে সিজি কমিটির সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম-মোয়জ্জেম, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মা দলের সদস্য, গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, স্থানীয় কিশোর-কিশোরী ও অভিভাবকগন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ