০৩:৩৩ পি.এম
দেশে বিশেষ ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার এক মাস পার হয়ে গেলেও হাম পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। টিকাদানের পর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও বলা হয়েছে যে, এখনও বহু শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের বড় অংশই আগে কোনো টিকা পায়নি। জরুরি ভিত্তিতে তাড়াহুড়ো করে টিকা দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন বাদ পড়া শিশুদের পরিকল্পিতভাবে টিকার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ‘র্যাপিড রেসপন্স টিম’ গঠনের তাগিদ বিশেষজ্ঞরা দিয়েছেন।
সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর, জরুরি ভিত্তিতে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করে সরকার। মাসখানেক আগে সেই ক্যাম্পেইন শেষ হলেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। হাসপাতালগুলোতে এখনও হাম আক্রান্ত শিশুর ভিড় দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
মোছা. কারিমা বেগম (৩৮) নামে এক অভিভাবক জানান, ‘ক্যাম্পেইনের সময় মাইকিং শুনেছিলাম, কিন্তু আমার ছোট ছেলেটার তখন জ্বর থাকায় টিকা দেয়াতে পারিনি। ভেবেছিলাম পরে হাসপাতালে বা টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে দিয়ে আসব। কিন্তু এর মধ্যেই ও হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো। আমাদের মতো অনেকেই নানা কারণে ওই সময় টিকা দিতে পারেনি।’
হাসপাতালে ভর্তি আরেক শিশুর বাবা, দিনমজুর মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫) বলেন, ‘ক্যাম্পেইনের খবর আমরা ঠিকমতো জানতে পারিনি। দিনে কামলা না দিলে সংসার চলে না, তাই অত খোঁজও রাখা হয়নি। এখন পোলাডার গায়ে গুটি গুটি উঠছে আর তীব্র জ্বর। হাসপাতালে আনার পর ডাক্তাররা বললেন এটা হাম। আগে টিকা দিলে নাকি এমন হতো না।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার কারণে হামের প্রকোপ কিছুটা কমলেও রোগটি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন হাসপাতাল-নির্ভর চিন্তা না করে মাঠপর্যায়ে জোর দেয়ার পরামর্শ তাদের।
এ সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, ‘আমাদের দ্রুত র্যাপিড রেসপন্স টিম বাড়াতে হবে। যে রোগীটি হাসপাতালে চলে এসেছে, তার আশপাশের বা এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অন্য কোনো রোগী আছে কি না, তা দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।’
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ
তিনি আরও বলেন, ‘হাম যদি পুরোপুরি দূর করতে হয়, তবে মাইক্রো প্ল্যানিং (ক্ষুদ্র পরিকল্পনা) করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে হবে এবং বাদ পড়া শিশুদের টিকা দেয়া শেষ করতে হবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাম নির্মূলে সরকারের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও বড় ভূমিকা রাখতে হবে। শিশুদের সময়মতো টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন