০৬:৩৯ পি.এম
বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনার চরের মহিষের বাথান থেকে চার রাখালকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে অপহরণের ছয় দিন পরেও তাদের উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
গত ১১ জুন রাত দেড়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। রাখালদের স্বজনরা জানিয়েছেন, অপহৃত চার রাখালকে ছাড়তে অপহরণকারীরা ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।
অপহরণের শিকার রাখালরা হলেন নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলবাড়িয়া গ্রামের মৃত ইনসার মন্ডলের ছেলে ইউনুস মন্ডল (৫০), মৃত মোহাম্মদ মন্ডলের ছেলে মফের মন্ডল (৪০), লালপুর ইউনিয়নের চকাজিকুল পাড়া গ্রামের কুদ্দুস মন্ডলের ছেলে মাসুদ মন্ডল (৩২) এবং বিলবাড়িয়া মহড়কয়া গ্রামের মাজেদ মন্ডলের ছেলে ফারুক মন্ডল (৪০)।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় প্রবাসী আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে বানোয়াট কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ করায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম
মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমারিয়া গ্রামের মাহরকয়া গ্রামের ইউনুছ আলী সারিয়াকান্দি বোহাইল ইউনিয়নের চরাঞ্চলে মহিষ পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তার বাথানে বর্তমানে ১৬০টির বেশি মহিষ আছে। মহিষ দেখাশোনার কাজে তিনি ৮ রাখাল নিয়োগ করেন। বৃহস্পতিবার রাখালরা প্রতিদিনের মতো মহিষের দেখাশোনা শেষে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন।
কিন্ত ওইদিন রাত দেড়টার দিকে বাথানে একটি নৌকাযোগে ১০ থেকে ১২ জন দুর্বৃত্ত অস্ত্রসজ্জিত হয়ে প্রবেশ করে। তারা রাখালদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। পরে বাথানের অপর রাখালরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। কিন্তু এ সময় দুর্বৃত্তরা দ্রুত ওই চার রাখালকে নৌকায় তুলে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার (১৬ জুন) পর্যন্ত রাখালদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মামলার বাদী অপহৃত ইউনূস মন্ডলের ছেলে সোহেল রানা বলেন, এখন পর্যন্ত অপহরণের শিকার রাখালদের কোনো সন্ধান পাইনি। জানি না তারা এখন কী অবস্থায় আছে। রাতের আঁধারে মহিষের বাথান থেকে রাখালদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্বৃত্তরা রাখালদের মুক্তিপণ হিসাবে ২০ লাখ টাকা দাবি করেছে। কিন্তু এই টাকা তারা দিতে পারবে না। তাই রাখালদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা রয়েছে অজানা।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সারিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি সিরাজগঞ্জ নৌ পুলিশ তদন্ত করছে।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বি-ক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
সিরাজগঞ্জ সদর নৌথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, অপহরণের শিকার রাখালদের উদ্ধার করতে নৌ পুলিশের তৎপরতা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও অপহৃত রাখালদের উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে। ওসি আরো বলেন, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে চার রাখালকে অপহরণ করা হয়েছে কিনা তা জানি না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন