ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কালোজাদুর বিরুদ্ধে এবার শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন


কালোজাদুর বিরুদ্ধে এবার শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ঘানার তান্ত্রিক কেপ ভার্দে কিংবা আরেকটি ঘটনার মধ্যে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নয়। সত্যিকার অর্থে ঘটনাটি বাংলাদেশেরই। ঝিনাইদহের কালুখালিতে রানী ও সিনিয়া একই ক্লাসে পড়াশোনা করে আসছে। তাদের মধ্যে পড়াশোনা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা শুরু হয়। এর মধ্যেই রানী নামে এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে রটে যায় যে সিনিয়া তাকে কালো জাদু করেছে। এই অজুহাত দিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করে।

রোববার (২৮ জুন) দুপুরে, এমন একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কালুখালি মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম এই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করে জানান, একটি মেয়ে অসুস্থ হয়েছে, সেখানে আরেকটি মেয়ের দোষ কোথায়? আসলে শিক্ষকদের উদাসিনতার জন্য এমন ঘটনা ঘটে গেছে।

আরও পড়ুন: মহাসপ্তমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন বিএমপি কমিশনার

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আধুনিক যুগে ছেলেমেয়েরা কী শিখছে? এই ঘটনায় একদিকে যেমন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সম্মানহানি হলো, অন্যদিকে সিনিয়া নামের মেয়েটির লেখাপড়া সংকটে পড়েছে।

কালুখালি মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা (শিক্ষকরা) এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। ক্লাস শুরুর আগে ছাত্র-ছাত্রীরা এ কাজ করেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ এ ব্যাপারে মন্তব্য করে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আমি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বলেছি। তারপর বিষয়টি দেখা হবে।

আধুনিক যুগে শিক্ষার্থীদের কালোজাদু নিয়ে মানববন্ধনের নেপথ্যে অন্য ঘটনা থাকতে পারে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন। তারা এ ঘটনার সঠিক তদন্তের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এম পি কামরুজ্জামান কামরুল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিরোধী দলের ওয়াকআউট সংসদ অধিবেশন থেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ পি.এম


বিরোধী দলের ওয়াকআউট সংসদ অধিবেশন থেকে

 

বিলের প্রতিলিপি না পাওয়ার কারণে জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। রবিবার (২৮ জুন) রাতে সংসদ অধিবেশনের শেষের দিকে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়নের কার্যাবলী চলাকালে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে একটি বিবৃতি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করার পর স্পিকার তাকে ফ্লোর দেন। এ সময় বিরোধী দলের একাধিক সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে যান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ, এই মুহূর্তে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলাটা এন্ডলেস (অনন্ত) হয়ে যাবে। আমাদের ৩০০ বিধিতে একটা বিবৃতি আছে, বিবৃতিটা একটু শুনি।’

এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনাদের ভালোর জন্যই বলছি, প্লিজ বসুন। আপনাদের জন্য সুখবর আছে।’

একপর্যায়ে হট্টগোল আরও বৃদ্ধি পেলে সরকারি দলের পক্ষ থেকে আগামীকাল বিবৃতি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্পিকার শেষ পর্যন্ত সমবায় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বিবৃতি স্থগিত ঘোষণা করেন এবং অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা দেন।

স্পিকার বলেন, ‘সংসদের বৈঠক সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মূলতবি করা হলো।’ তিনি উপস্থিত সকল সদস্যকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আল্লাহ হাফেজ ও বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে স্পিকারের আসন ত্যাগ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাইভেটকারে গরু নিয়ে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ল দুই চোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ পি.এম


প্রাইভেটকারে গরু নিয়ে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ল দুই চোর

গরু চুরি করে প্রাইভেটকারে তুলে পালানোর সময় ধরা পড়েছে চোরচক্রের দুই সদস্য। রবিবার বিকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার দেওয়ানজী কান্দি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, দেওয়ানজিকান্দি গ্রামের সড়কের পাশে একটি বাগানে ঘাস খাচ্ছিল ছোট একটি গরু। এ সময় দুই চোর গরুটিকে প্রাইভেটকারের পেছনের অংশে ঢুকিয়ে চলতে শুরু করে। দেড়শ মিটার এগুতেই গাড়িতে গরুর গলার আওয়াজ শুনে এলাকার কয়েকজন দৌঁড়ে প্রাইভেটকারটি আটকায় এবং গরুটি দেখতে পেয়ে সেটিকে নামিয়ে আনে। পরে চোরদের ধরে মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে দুই চোরকে আটক করে।

আটক দুজন হলেন– নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বেলাল মিয়া, কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মো. বিল্লাল।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান জানান, জনতার হাতে আটক দুজন একটি প্রাইভেটকারে এসে আমান উল্লাহ নামে একজনের গরুটি চুরি করে পালাচ্ছিল। তাদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় আনা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
হত্যা মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে ফিরে গেল পুলিশ,

রাজশাহীতে নেতাকর্মীদের বাধার অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫১ পি.এম


রাজশাহীতে নেতাকর্মীদের বাধার অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা

রাজশাহী মহানগরীর নিউমার্কেট এলাকায় ডিবি পুলিশের অভিযানের সময় হত্যামামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেককে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পুলিশি উপস্থিতির মধ্যেও তাকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

শনিবার দিবাগত রাতে মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন নিউমার্কেট এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মীর তারেক গত বছরের ৭ মার্চ নগরীর দড়িখড়বোনা এলাকায় রিকশাচালক গোলাম হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তার বিরুদ্ধে ওই মামলায় তিনি এখনো গ্রেফতার হননি এবং আদালত থেকেও তিনি জামিন নেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বোয়ালিয়া মডেল থানার একটি পুলিশ দল নিউমার্কেট এলাকার ওই ভবনকে ঘিরে ফেলে। এ সময় মীর তারেক পাশের ভবনের ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করার সময় তিনি আহত হন।

ঘটনার সময় মীর তারেক তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে দাবি করেন, পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে এসেছে। তিনি নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থলে আসার আহ্বান জানান। পরে সেখানে শতাধিক নেতাকর্মী জড়ো হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতি দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ এবং রাজশাহী মহানগর পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) মোতায়েন করা হয়। রাত প্রায় ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এর পরই রাত ১টার দিকে নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে এসে ভবনের তালা খুলে আহত অবস্থায় মীর তারেককে বের করে নিয়ে যান।

অভিযোগ উঠেছে, সেসময় ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা আড়াল করার চেষ্টা করা হয় এবং কয়েকজন সাংবাদিককে ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়।

কিন্তু রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানিয়েছেন, ডিবির অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল মীর তারেককে গ্রেফতার করা নয়। তিনি বলেন, পুলিশ সেখানে অন্য একটি আসামিকে ধরতে গিয়েছিল। মীর তারেক বিষয়টি ভুল বুঝে আত্মগোপনের চেষ্টা করেছিলেন। কাঙ্ক্ষিত আসামিকে না পাওয়ায় পুলিশ ফিরে যায়।

পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, যদি অভিযানটি মীর তারেককে ঘিরে না হয়ে থাকে, তবে কেন নেতাকর্মীরা সেখানে এসে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলেন এবং তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়রা জানতে চেয়েছেন, হত্যা মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি ঘটনাস্থলে থাকার বিষয়টি জানার পরও কেন তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হলো না। পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি শাহ মখদুম থানার ছায়ানীড় এলাকায় ফয়সাল বাঁধন নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চলছে।

এদিকে রিকশাচালক গোলাম হোসেন হত্যা মামলার নথি অনুযায়ী, মীর তারেক ওই মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার সময় ফেসবুক লাইভে মীর তারেক দাবি করেছেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং পুলিশ ডাকলে হাজির হবেন। তিনি বলেছেন, অযথা তার গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। অবশ্য পরে ওই লাইভ ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

এভাবেই মধ্যরাতের এই অভিযান, পুলিশের অবস্থান, হত্যা মামলার আসামির ঘটনাস্থল ত্যাগ এবং সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ—সব মিলিয়ে এই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেছেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা পুলিশের দায়িত্ব। তবে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে পুলিশের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীন সফর-ই প্রমাণ - প্রধানমন্ত্রী যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে সঠিক পথেই হাঁটছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


চীন সফর-ই প্রমাণ - প্রধানমন্ত্রী যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে সঠিক পথেই হাঁটছেন

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ আর কেবল একটি ভৌগোলিক অবস্থানের নাম নয়; এটি এখন ইন্দো-প্যাসিফিক, বঙ্গোপসাগর এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র। বিশ্ব পরাশক্তি গুলোর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাখতে হলে যে পদক্ষেপগুলো একজন সরকার প্রধান হিসেবে নেয়া প্রয়োজন সেই পথ অনুসরণ করে বর্তমান সরকার প্রধান চলছেন বলে প্রথম সফরেই ধারণা করা হচ্ছে। ফলে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তার পররাষ্ট্রনীতির প্রতিটি বড় সিদ্ধান্ত শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বৃহত্তর আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত বর্তমান সরকারের দূরদর্শিতা সেটাই প্রমাণ করে।

বর্তমান সরকার প্রধান ক্ষমতায় আসার পূর্ব এবং পরবর্তী সময়ে অনেকে ধারণা করেছিলেন, হয়তো তিনি পূর্বের সরকারের মত কারো সেবাদাস হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। কিন্তু তার ধী-শক্তি, বুদ্ধিমত্তা, কৌশলগত দূরদর্শিতা, রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা প্রমাণ করে তার প্রথম দুটি দেশের সফর। প্রথম সফরে মালয়েশিয়া এবং পরবর্তী সফরে নিকটতম প্রতিবেশী , পরবর্তী সম্ভাব্য সুপার পাওয়ার ও আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে এবং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক পরীক্ষিত মিত্র চীন সফরে গিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র যা কারো গোলামী বা সেবাদাস হিসেবে কিংবা কারো করতলগত হয়ে থাকার জন্য সৃষ্টি হয়নি। পাশাপাশি যারা তার সমালোচনা করেছিলেন বা আশঙ্কা করেছিলেন যে, তিনি পূর্বের ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনার মত কারো সেবাদাস হয়ে বা আশীর্বাদ পুস্ট হয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকবেন, তেমন আশংকার জায়গা থেকে তিনি নিজের অবস্থান পানির মত স্বচ্ছ করেছেন।

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তার পিতা বাংলাদেশের প্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এবং তার যোগ্য সহধর্মিনী তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশ ও স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে তাদের দেখানো পথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দূরদর্শিতা নিয়ে পথ চলছেন একথা এই কয়েক মাসের রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে দেখে মনে হয় - বলা অমূলক নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর এবং দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। কোনো রাষ্ট্রের নতুন সরকারের প্রথম দিককার উচ্চপর্যায়ের বিদেশ সফরকে কূটনীতিতে সাধারণত অগ্রাধিকার ও নীতিগত দিকনির্দেশনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এই সফর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন ও অবকাঠামো সহযোগী। ভবিষ্যতে যদি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি, জ্বালানি, নদী ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কিংবা তিস্তা অববাহিকার উন্নয়নের মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে বিকল্প অংশীদারদের সঙ্গে বাস্তবসম্মত সহযোগিতা জাতীয় স্বার্থের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

একইভাবে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার আধুনিকায়নও আজকের আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় বহু দেশের স্বাভাবিক নীতির অংশ। ভবিষ্যতে যদি আন্তর্জাতিক আইন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ বা শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারিত হয়, তবে তা দেশের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির একটি সম্ভাব্য উপাদান হতে পারে। এসব বিষয়ে যেকোনো পদক্ষেপের সাফল্য অবশ্যই নির্ভর করবে স্বচ্ছতা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে তার সামঞ্জস্যের ওপর। বিশেষ করে বাংলাদেশে চীনের বিশাল বিনিয়োগ সৃষ্টি করা, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ফোর পয়েন্ট ফাইভ জেনারেশনের সর্বাধুনিক মাল্টিরোল কমব্যাট ফাইটার জেট সহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি ক্রয় করা, রাষ্ট্র প্রতিরক্ষায় নজরদারি বা স্যাটেলাইট ব্যবস্থা শেয়ার এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ আনয়নের মাধ্যমে ড্রোন, এটাক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সহ দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির প্রযুক্তি কারখানা স্থাপন করে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি বিদেশে দেশীয় তৈরি অস্ত্র রপ্তানি করার যোগ্য করে তোলা, অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তি নিশ্চিত করা এ বিষয়গুলো একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা দূরদর্শিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হলো—বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। একটি কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভরশীলতার পরিবর্তে বহুমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে, যাতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা একসঙ্গে শক্তিশালী হয়। মালয়েশিয়ার পর চীনে প্রথম সফর বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সেই দূরদর্শিতার পরিচয় কিংবা ইঙ্গিত বহন করে।

পাশাপাশি মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ বিভিন্ন সময়ের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চাওয়া পাকিস্তান থেকে অত্যাধুনিক মাল্টিরোল ফাইটার জেট ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি ত্বরান্বিত করা কিংবা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ,সামরিক ও অর্থনৈতিক কিংবা বাণিজ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় বর্তমান সরকার পূর্বের মতো একই গতিতে এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সেই সাথে শক্তিশালী মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ তুরস্কের আগ্রহ থাকায় সেই দেশের অপারেশনাল সর্বাধুনিক অ্যাটাক হেলিকপ্টার ক্রয় কিংবা বায়রাখতার টিবি টু ড্রোনের আমদানি কিংবা কারখানা তৈরি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অ্যাটাক ড্রোন কারখানা স্থাপন এবং সমরাস্ত্র শিল্পে বিপ্লব ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় সামরিক সরঞ্জাম যাতে দেশেই উৎপাদন করে সমরাস্ত্র শিল্পের মাধ্যমে রপ্তানি করে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো যায় সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পথেও হাঁটবে সরকার এমনটা প্রত্যাশা করা এখন খুব বেশি বড় কিছু নয়।

অতএব, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোর প্রকৃত মূল্যায়ন আজই করা সম্ভব নয়। তবে এগুলোর বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক ফলাফল এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রভাবই ভবিষ্যতে নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কতটা কার্যকর হয়েছে। ইতিহাসে রাষ্ট্রের অবস্থান শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হয় ঘোষণায় নয়, বরং বাস্তব অর্জন, কৌশলগত প্রজ্ঞা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নেওয়া সফল পদক্ষেপের মাধ্যমে।

পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতার প্রশ্নে অনেক বিশ্লেষকের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করেছিল, বর্তমান সরকারও সেসব ক্ষেত্রের কিছু উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে চীন, পাকিস্তান তুরস্ক, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপ সহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সমঝোতা স্মারককে অনেকেই সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।

একই সঙ্গে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং অন্যান্য অংশীদার রাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের আলোচনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে—যদি সেগুলো জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য রক্ষা করে বাস্তবায়িত হয়।

রাষ্ট্রীয় অভ্যন্তরীণ শত্রু ও বৈদেশিক দালালদের প্ররোচনা মুক্ত থেকে শেষ পর্যন্ত এসব উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তার মূল্যায়ন নির্ভর করবে বাস্তব চূড়ান্ত চুক্তি কিংবা তার ফলাফল, অর্থনৈতিক অর্জন এবং বাংলাদেশের স্বাধীন ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করতে সেগুলোর কার্যকারিতার ওপর।

তবে সকালের সূর্য দেখে যেমন দিন চেনা যায়, তেমনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার পর চীন সফরে গিয়ে সমঝোতা স্মারক কিংবা অন্যান্য বিষয়ে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সেই দিকটি স্পষ্ট করেছেন যে বাংলাদেশ এখন আর কোন পরাধীন রাষ্ট্র নয়। তিনি তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপোসহীন নেত্রী তার যোগ্য সহধর্মিনী তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছেন এর লক্ষণ এখন দেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে স্পষ্ট এমন কথা বলা মনে হয় অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%