১২:১০ এম
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইনসংলগ্ন একটি মাদক আস্তানায় পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে পিস্তল হাতে যৌথ অভিযান চালানোর ঘটনাটি ব্যাখ্যা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযানের সময় তার হাতে ছিল পিস্তল সদৃশ একটি আগ্নেয়াস্ত্র। ইশরাক হোসেন নিজেই তার ফেসবুক পেজে এই অভিযানের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। অভিযানের ফলস্বরূপ ৬ জনকে আটক করা হয়।
ইশরাক হোসেন ব্যাখ্যা করে বলেন, ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটায় নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি অস্ত্রটি সঙ্গে রেখেছিলেন। তবে উল্লেখযোগ্য যে, এই অভিযানে তার সঙ্গে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সরকারকে নয়, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব: জামায়াত আমির
তিনি জানান, রেললাইনের পাশে ফাঁকা জায়গায় ছোট ছোট অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাদক কেনাবেচা চলছিল। এই আস্তানাটি সম্পর্কে বেশ কিছুদিন ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। মাদকসেবী ও কারবারিদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই সেখানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘরগুলো ভেঙে দেন। সেখান থেকে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করা হয় এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করার কথাও জানানো হয়। এ সময় স্থানীয় বস্তিবাসী সেখানে ভিড় জমায় এবং আটক ছয়জনকে মাটিতে বসিয়ে রাখার পাশাপাশি ভিডিওতে দুজনকে মারধর করতেও দেখা যায়।
অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, "এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আমরা সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, সে যে দলেরই হোক, আর যদি আমার দলেরও হয়, তবে তার শাস্তি আরও বেশি হবে।"
এর আগে ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি তার আসনটিকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আরও পড়ুন: সুপ্রিমকোর্টে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া আগামীকাল
এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজেই ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন করেন। পরে থানা থেকে পুলিশ ফোর্স গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।
ওসি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো আসলেই হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন