ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

একসঙ্গে মিলেমিশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আনন্দ শোভাযাত্রা


একসঙ্গে মিলেমিশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আনন্দ শোভাযাত্রা

একই মাঠের উপরে উড়ছে আকাশী-নীল এবং হলুদ-সবুজ পতাকা। একটি পক্ষ কাওয়ালি গান গাইছে, অন্য পক্ষ সৌদি আরবের আজওয়া খেজুর উপহার দিচ্ছে। ফুটবল বিশ্বকাপের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বগুড়াবাসী সাক্ষী হলো এমন এক নজিরবিহীন এবং সম্প্রীতির যৌথ র‍্যালির।

মাঠের শত্রুতা মাঠে রেখে, মাঠের বাইরেও যে সম্প্রীতি এবং ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য বন্ধন গড়ে তোলা সম্ভব, সে কথাই প্রমাণ করলেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কাউন্টডাউন শুরু হলে পুরো দেশ ফুটবলে ভাসতে থাকে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্তাদিও অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ৪৮ দেশের এই বিশাল আসর। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জড়ো হন দুই দলের শত শত সমর্থক।

আরও পড়ুন: জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রযুক্তি হস্তান্তর চায় বাংলাদেশ

এদিন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে যুবকদের মধ্যে ভিন্ন এক সচেতনতাও দেখা যায়। আনন্দ শোভাযাত্রা শুরুর আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা খেলার মাঠের পাশে তিনটি বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর বিকেল সাড়ে চারটায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ রূপ নেয় নীল-সাদা এবং হলুদ-সবুজের এক বিশাল সমুদ্রে। ৬ শতাধিক আর্জেন্টিনা সমর্থক এবং শতাধিক ব্রাজিল সমর্থকের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে।

ব্যান্ড পার্টি, বাঁশি, হাতের পতাকা, মাথার ফিতা, রঙিন বেলুন এবং ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে শুরু হয় যৌথ আনন্দ শোভাযাত্রা। দুই দলের সমর্থকরা একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেচে-গেয়ে এবং আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন। র‍্যালিটি যখন বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় পৌঁছায়, তখন সেখানে একটি চমৎকার দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেখানে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের পক্ষ থেকে ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কাওয়ালি গান গেয়ে শোনানো হয়। এরপর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‍্যালিটি পুনরায় আলতাফুন্নেছা মাঠে এসে শেষ হয়।

তবে উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্বটি ছিল র‍্যালি শেষে দুই দলের উপহার বিনিময়। সম্প্রীতির নজির হিসেবে ব্রাজিল সমর্থকরা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হাতে সৌদি আরবের বিখ্যাত আজওয়া খেজুর তুলে দেন। পাল্টা সৌজন্য হিসেবে আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও ব্রাজিল সমর্থকদের উপহার দেন সেভেন আপ।

এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের অন্যতম সমন্বয়ক ও আর্জেন্টিনা সমর্থক মাহবুব আলম জিয়ন বলেন, খেলার মাঠে প্রতিযোগিতা থাকলেও মাঠের বাইরের সব সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা বজায় রাখাই এই যৌথ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গতবারের মতো এবারও আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি অনুদান চুক্তি সই

আর্জেন্টিনার আরেক সমর্থক এবং আকবরিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল জানান, ফুটবল জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে এক জায়গায় করতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, মেসির শেষ বিশ্বকাপে তরুণদের নিয়ে আর্জেন্টিনা কাপ ঘরে রাখবে এবং ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য কাপ ছিনিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। একই সুরে আর্জেন্টিনার নারী সমর্থক সুমাইয়া জানান, এবারও কাপ আর্জেন্টিনাই পাবে।

এদিকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মারামারির সংস্কৃতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই যৌথ আয়োজনকে মধুর র‍্যালি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্রাজিল সমর্থক আখতারুজ্জামান সোহাগ। তিনি বলেন, দল যার যারই হোক, তারা সবাই একে অপরের ভাই। তবে ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে তিনি আশাবাদী যে এবার হেক্সা মিশন পূর্ণ হবে এবং নেইমারের হাতেই কাপ উঠবে। ব্রাজিল সমর্থক কমিটির পরিমল প্রসাদ রাজও বগুড়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে ব্রাজিলের জয়ের আশা প্রকাশ করেন।

পুরো আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আকবরিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুজিত জয়সোয়াল এবং পরিমল প্রসাদ রাজসহ প্রমুখ।

আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান মানিকগঞ্জের ডিসির

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপে ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ পি.এম


বিশ্বকাপে ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে

আর মাত্র ৬ দিন বাকি। ১১ জুন দিবাগত রাতে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। টুর্নামেন্টের প্রাক্কালে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা মাঠে বসে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের উদ্দেশে কিছু নির্দেশনা জারি করেছে।

নতুন নির্দেশনায় স্টেডিয়ামগুলোতে ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুভুজেলা হচ্ছে একটি প্লাস্টিকের তৈরি শিঙা, যা দিয়ে উচ্চ শব্দ তৈরি করা সম্ভব। এটি অনেকেই ২০১০ বিশ্বকাপের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেন। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সময়ে হাজার হাজার ভুভুজেলার একটানা শব্দ পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছিল এবং সেই বিশ্বকাপের পরিবেশকে এক ভিন্ন পরিচয় দিয়েছিল।

কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে এটি মাঠে নিয়ে আসা যাবে না। এ ছাড়া বাঁশি, এয়ার হর্ন এবং অন্যান্য উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ১২ সেন্টিমিটারের বেশি মাপের যেকোনও বাদ্যযন্ত্র স্টেডিয়ামে আনতে হলে আয়োজকদের পূর্বানুমতি নিতে হবে। ড্রোন এবং পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতলও নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে।

ফিফার টিকিটিং নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দর্শকদের নিষিদ্ধ সামগ্রীর সম্পূর্ণ তালিকার জন্য স্টেডিয়াম আচরণবিধি দেখতে হবে। স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে যে কোনো বস্তু স্টেডিয়ামে আনা যাবে কি না।

ফিফার আইনি নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটধারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে স্টেডিয়াম আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় ওই ব্যক্তির প্রবেশাধিকার কেড়ে নেওয়া হতে পারে, বের করে দেওয়া হতে পারে মাঠ থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১২ বছরে ৮০ কেজি ওজন, দিনে ৪০ লিটার পানি পান করছে সোহাগী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ পি.এম


১২ বছরে ৮০ কেজি ওজন, দিনে ৪০ লিটার পানি পান করছে সোহাগী!

১২ বছর বয়সেই সোহাগীর ওজন ৮০ কেজি ছাড়িয়ে গেছে। দিন ও রাত মিলিয়ে সে ঠিক ৩৫ থেকে ৪০ লিটার পানি পান করছে! এর ফলে তার চলাফেরা করতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিবার বিবেচনায় আর্থিক সংকটের কারণে উন্নত চিকিৎসাও পাচ্ছে না সে। নওগাঁর দরিদ্র পরিবার থেকে আসা সোহাগীর কথা বলছি। তবে জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালেই শিশুটির বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

সোহাগী নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের তরফ তাতারপুর গ্রামের দিনমজুর হাফিজুল ইসলামের ছোট মেয়ে। তার চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট সোহাগীর এই শারীরিক জটিলতার শুরু হয় এক বছর বয়সে। তার মায়ের বুকের দুধ ছাড়ানোর পর থেকেই পানির প্রতি তার তীব্র আসক্তি তৈরি হতে শুরু করে এবং এখন সে দিনে-রাতে মিলিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লিটার পানি পান করছে।

অতিরিক্ত পানি পানের কারণে একদিকে যেমন তার পেট ফুলে গেছে, তেমনি তার দুই পা বেঁকে গেছে। এই কারণে তার স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হয়েছে। স্থূলতার কারণে স্কুলে যাওয়া কিংবা সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলা করা তার ভাগ্যে নেই।

সোহাগী জানায়, মোটা হয়ে যাওয়ার কারণে তার হাঁটতে কষ্ট হয়। গরমে এই কষ্ট আরও বেড়ে যায়। সে দৌঁড়াতে পারছে না, খেলার জন্য কেউ তাকে নেয় না এবং স্কুলেও যেতে পারছে না।

পরিবার জানায়, স্থানীয় হাতুড়ে ডাক্তার কিংবা জেলা শহরের চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে গিয়েও কোনো সমাধান মেলেনি। চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা বা রাজশাহীতে বড় ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দিলেও, অভাবের সংসারে সেই খরচ যোগানো দিনমজুর বাবার পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিকে মা হাসিনা বেগম তার মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। চোখের সামনে মেয়ের এই অবস্থায় তিনি কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে। তবে সরকার থেকে তারা প্রতিবন্ধি ভাতা পেয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, সোহাগীর এই অবস্থা দেখলে তাদের কষ্ট হয়। সে স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছে, তবে পানির প্রতি তার অস্বাভাবিক আসক্তি রয়েছে। সামান্য হাঁটলেই সে হাঁপিয়ে যায়। এই কারণে তার শরীর অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে তার এই অবস্থা হচ্ছে বলেও জানান স্থানীয়রা।

সোহাগীর শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে নওগাঁর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শিশুটির গ্রোথ হরমোনের সমস্যা বা ব্রেইনে টিউমার থাকতে পারে। যেহেতু শিশুটি এখনও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়নি, তাই তাকে অতি দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এখানে চিকিৎসা নিলে সরকারি খরচে পরীক্ষা নিরীক্ষার সুযোগ থাকবে। মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা সদর হাসপাতাল নওগাঁতে শিশুটির বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সোহাগীর পরিবার ও স্থানীয়রা আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছেন। সবার সহযোগিতা এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সোহাগী আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে, এমন প্রত্যাশা সবার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফাইনালের আগে নির্ভার মারিয়া ও ঋতুপর্ণারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ পি.এম


ফাইনালের আগে নির্ভার মারিয়া ও ঋতুপর্ণারা

টানা তৃতীয়বারের মতো নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। শনিবার (৭ জুন) শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হতে চলেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। তবে ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা জানিয়েছেন, তারা ফাইনালে কোনো চাপ নিচ্ছে না।

ম্যাচটি শিরোপা নির্ধারণী, এবং তাতে প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভারত। ফাইনালের মঞ্চে স্বাগতিক দলের বিরুদ্ধে খেলা সহজ কথা নয়। হোম অ্যাডভান্টেজ, গ্যালারি ঠাসা নিজেদের সমর্থক— এগুলো সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষ দলকে বেশ চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দল পুরোপুরি উল্টো অবস্থানে। ফাইনালের আগে নাকি তারা কোনো চাপই নিচ্ছে না!

ভারতের সমুদ্রপাড়ে একই হোটেলে অবস্থান করছে সাফের দুই ফাইনালিস্ট, ভারত ও বাংলাদেশ। ফাইনালের আগে হয়েছে এমন আবহে, তাহলে কি কোনো মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হচ্ছে? দলপতি মারিয়াকে অবশ্য এমনটাই প্রশ্ন করা হয়েছিল। তবে ক্যাপ্টেন বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। ‘দুই দলই একই হোটেলে অবস্থান করলেও আমরা কোনো চাপ নিচ্ছি না।’

ভারতের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য নতুন কিছু নয়। তাই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করলেও তাদের দেখে ভীত হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা। আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে অতীতেও তারা বহুবার মাঠে খেলেছে। ফলে দেশের ক্রিকেটকে চাপ বিশেসে দেখে নিজেদের নিয়ে চিন্তিত নয় তারা। ‘আমরা ভারতের বিপক্ষে এর আগেও অনেকবার খেলেছি, তাই এটি আমাদের জন্য বড় কোনো বিষয় নয়। আমরা পেশাদার খেলোয়াড়।’

তবে মারিয়া মনে করছেন, ফাইনালের মঞ্চে অতীতের হিসাব-নিকাশ খুব একটা কাজে আসে না। তার মতে, শিরোপার লড়াই সব সময় আলাদা চাপ ও ভিন্ন বাস্তবতার জন্ম দেয়। তাই আগের ফলাফল নয়, ম্যাচের দিন কারা নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে পারবে সেটিই হবে মূল পার্থক্য। ‘মাঠের লড়াই একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন খেলা ও ভিন্ন পরিস্থিতি। আমরা আমাদের সেরাটা দেবো। যে দল সেরাটা দিতে পারবে, তারাই জয়ী হবে।’

এদিকে গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টজুড়ে ভারতের ম্যাচগুলোতে দর্শক উপস্থিতি ছিল বেশ কম। প্রায় ফাঁকা গ্যালারিতেই স্বাগতিকরা নিজেদের তিনটি ম্যাচ খেলে। তবে ফাইনালে দর্শক সমাগম কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের সম্ভাব্য চাপ নিয়েও চিন্তিত নন মারিয়া; বরং তিনি বিশ্বাস করেন, বড় ম্যাচের আবহই খেলোয়াড়দের বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগায়।

গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের চাপকে বাড়তি দুশ্চিন্তা হিসেবে দেখছেন না মারিয়া। বরং অতীত অভিজ্ঞতা তাঁকে দিচ্ছে আত্মবিশ্বাস। কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় হাজারো নেপালি দর্শকের সামনে খেলে জয়লাভের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, বড় গ্যালারির পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মেয়েদের আছে। ‘গ্যালারির দর্শক আমাদের জন্য কোনো সমস্যা হবে না। নেপালে আমরা গত দুটি ফাইনালে অনেক দর্শকের চাপ সামলে খেলে জিতেছি। আমরা যদি ভালো ফুটবল খেলার সুযোগ পাই, তবে ফাইনাল জিততে আমাদের সেরাটা দেবো।’

ফাইনালের আগে দলের প্রস্তুতি নিয়েও আশাবাদী অধিনায়ক। তিনি জানিয়েছেন, শিরোপা লড়াইকে সামনে রেখে দলটি বেশ মনোযোগ দিয়েই অনুশীলন করছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিও ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্ট মারিয়া; তার ভাষায়, দলের সবাই ইতিবাচক মানসিকতায় আছে এবং মাঠে নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে সবাই উদ্যত।

‘যেহেতু আমরা এখন ফাইনালে, তাই আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আজ আমাদের একটি অনুশীলন সেশন ছিল। দলের সবাই খুব ভালো মেজাজে আছে এবং আশা করি, আমরা আগামীকাল (শনিবার-৬ জুন) একটি ভালো ম্যাচ উপহার দিতে পারবো।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে এমপি খোকন: খেলাধুলাই পারে মেধা ও মনন বিকাশ করতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ পি.এম


খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে এমপি খোকন: খেলাধুলাই পারে মেধা ও মনন বিকাশ করতে

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আবারও মাঠমুখী করেছেন। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার ডি কে আইডিয়াল আতাহার আলী একাডেমি স্কুল মাঠে ডাসার ইউনিয়ন ছাত্রদল আয়োজিত ‘খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানরা ক্রিকেট ও ফুটবলে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখে। ফুটবলে বাংলাদেশ যেন একদিন বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সারা দেশে বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে উঠছে এবং নতুন প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।”

ফাইনাল খেলায় ডাসার সবুজ সংঘ ও আরিফ স্মৃতি সংঘ মুখোমুখি হয়। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এ ম্যাচে ডাসার সবুজ সংঘ ৪-৩ গোলে জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাসার উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন তালুকদার, মাদারীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান তালুকদার নুরু এবং ডাসার উপজেলা বিএনপি নেতা সরোয়ার তালুকদার।

এ সময় সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মহিউদ্দিন তালুকদার ইরান, আমির হোসেন, রুবেল মাতুব্বরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ খেলা উপভোগ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%