০৯:৫১ পি.এম
একই মাঠের উপরে উড়ছে আকাশী-নীল এবং হলুদ-সবুজ পতাকা। একটি পক্ষ কাওয়ালি গান গাইছে, অন্য পক্ষ সৌদি আরবের আজওয়া খেজুর উপহার দিচ্ছে। ফুটবল বিশ্বকাপের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বগুড়াবাসী সাক্ষী হলো এমন এক নজিরবিহীন এবং সম্প্রীতির যৌথ র্যালির।
মাঠের শত্রুতা মাঠে রেখে, মাঠের বাইরেও যে সম্প্রীতি এবং ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য বন্ধন গড়ে তোলা সম্ভব, সে কথাই প্রমাণ করলেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কাউন্টডাউন শুরু হলে পুরো দেশ ফুটবলে ভাসতে থাকে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্তাদিও অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ৪৮ দেশের এই বিশাল আসর। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জড়ো হন দুই দলের শত শত সমর্থক।
আরও পড়ুন: জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রযুক্তি হস্তান্তর চায় বাংলাদেশ
এদিন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে যুবকদের মধ্যে ভিন্ন এক সচেতনতাও দেখা যায়। আনন্দ শোভাযাত্রা শুরুর আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা খেলার মাঠের পাশে তিনটি বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর বিকেল সাড়ে চারটায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ রূপ নেয় নীল-সাদা এবং হলুদ-সবুজের এক বিশাল সমুদ্রে। ৬ শতাধিক আর্জেন্টিনা সমর্থক এবং শতাধিক ব্রাজিল সমর্থকের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে।
ব্যান্ড পার্টি, বাঁশি, হাতের পতাকা, মাথার ফিতা, রঙিন বেলুন এবং ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে শুরু হয় যৌথ আনন্দ শোভাযাত্রা। দুই দলের সমর্থকরা একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেচে-গেয়ে এবং আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন। র্যালিটি যখন বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় পৌঁছায়, তখন সেখানে একটি চমৎকার দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেখানে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের পক্ষ থেকে ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কাওয়ালি গান গেয়ে শোনানো হয়। এরপর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে র্যালিটি পুনরায় আলতাফুন্নেছা মাঠে এসে শেষ হয়।
তবে উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্বটি ছিল র্যালি শেষে দুই দলের উপহার বিনিময়। সম্প্রীতির নজির হিসেবে ব্রাজিল সমর্থকরা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হাতে সৌদি আরবের বিখ্যাত আজওয়া খেজুর তুলে দেন। পাল্টা সৌজন্য হিসেবে আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও ব্রাজিল সমর্থকদের উপহার দেন সেভেন আপ।
এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের অন্যতম সমন্বয়ক ও আর্জেন্টিনা সমর্থক মাহবুব আলম জিয়ন বলেন, খেলার মাঠে প্রতিযোগিতা থাকলেও মাঠের বাইরের সব সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা বজায় রাখাই এই যৌথ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গতবারের মতো এবারও আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি অনুদান চুক্তি সই
আর্জেন্টিনার আরেক সমর্থক এবং আকবরিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল জানান, ফুটবল জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে এক জায়গায় করতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, মেসির শেষ বিশ্বকাপে তরুণদের নিয়ে আর্জেন্টিনা কাপ ঘরে রাখবে এবং ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য কাপ ছিনিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। একই সুরে আর্জেন্টিনার নারী সমর্থক সুমাইয়া জানান, এবারও কাপ আর্জেন্টিনাই পাবে।
এদিকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মারামারির সংস্কৃতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই যৌথ আয়োজনকে মধুর র্যালি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্রাজিল সমর্থক আখতারুজ্জামান সোহাগ। তিনি বলেন, দল যার যারই হোক, তারা সবাই একে অপরের ভাই। তবে ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে তিনি আশাবাদী যে এবার হেক্সা মিশন পূর্ণ হবে এবং নেইমারের হাতেই কাপ উঠবে। ব্রাজিল সমর্থক কমিটির পরিমল প্রসাদ রাজও বগুড়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে ব্রাজিলের জয়ের আশা প্রকাশ করেন।
পুরো আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আকবরিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুজিত জয়সোয়াল এবং পরিমল প্রসাদ রাজসহ প্রমুখ।
আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান মানিকগঞ্জের ডিসির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন