১০:৪১ পি.এম
মার্কেটে দুধ, ডিম ও মাংসের দাম উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক বেশি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এক লিটার দুধ উৎপাদনে ৪৪ টাকা ৮০ পয়সা খরচ হয়। কিন্তু খুচরা বাজারে এটি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একইভাবে, সোনালি ও ব্রয়লার মুরগি, ডিম এবং গরু ও খাসির মাংসের দামও উৎপাদন খরচের তুলনায় বেশি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন খরচ ও বাজারমূল্যের তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি সোনালি মুরগির উৎপাদন খরচ ২৫৩ টাকা, ব্রয়লার মুরগির ১৬১ টাকা ৫৫ পয়সা, একটি ডিমের ১০ টাকা ৮১ পয়সা, প্রতি কেজি গরুর মাংসের ৫৮৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং খাসির মাংসের ৮৭৫ টাকা।
অন্যদিকে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, প্রতিটি ডিম ১২ থেকে ১৩ টাকা, গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার তদারকির সুপারিশ
উৎপাদন খরচ ও খুচরা বিক্রয়মূল্যের এই ব্যবধানের কারণে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা, কৃত্রিম সংকট এবং সরবরাহব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ যাচাইয়ের সুপারিশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বাজারভিত্তিক তদন্ত ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আনোয়ারায় কেইপিজেড ও চায়না ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
বৈঠকে একদিনের বাচ্চা ও ডিমের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ে একটি কৌশলপত্র পাঠিয়েছে বলে জানানো হয়।
কৌশলপত্রের আলোকে বাজারে একদিনের বাচ্চা ও ডিমের চাহিদা নিরূপণ করে উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধি ও সরবরাহব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মাছ ও প্রাণিজ পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাজার তদারকি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে খামারিদের সহায়তা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ অনুসন্ধান, মাছ আহরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে কমিটির কাছে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মিরপুর-১০-এ উদ্বোধন হলো ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস স্পীডি
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন সব অধিদপ্তর ও সংস্থার চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিটির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, এম এ হান্নান, আলী আজম, আবু বকর ও আমির হামজা অংশ নেন। সভাপতির বিশেষ আমন্ত্রণে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন