প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১২ বছর বয়সেই সোহাগীর ওজন ৮০ কেজি ছাড়িয়ে গেছে। দিন ও রাত মিলিয়ে সে ঠিক ৩৫ থেকে ৪০ লিটার পানি পান করছে! এর ফলে তার চলাফেরা করতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিবার বিবেচনায় আর্থিক সংকটের কারণে উন্নত চিকিৎসাও পাচ্ছে না সে। নওগাঁর দরিদ্র পরিবার থেকে আসা সোহাগীর কথা বলছি। তবে জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালেই শিশুটির বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
সোহাগী নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের তরফ তাতারপুর গ্রামের দিনমজুর হাফিজুল ইসলামের ছোট মেয়ে। তার চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট সোহাগীর এই শারীরিক জটিলতার শুরু হয় এক বছর বয়সে। তার মায়ের বুকের দুধ ছাড়ানোর পর থেকেই পানির প্রতি তার তীব্র আসক্তি তৈরি হতে শুরু করে এবং এখন সে দিনে-রাতে মিলিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লিটার পানি পান করছে।
অতিরিক্ত পানি পানের কারণে একদিকে যেমন তার পেট ফুলে গেছে, তেমনি তার দুই পা বেঁকে গেছে। এই কারণে তার স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হয়েছে। স্থূলতার কারণে স্কুলে যাওয়া কিংবা সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলা করা তার ভাগ্যে নেই।
সোহাগী জানায়, মোটা হয়ে যাওয়ার কারণে তার হাঁটতে কষ্ট হয়। গরমে এই কষ্ট আরও বেড়ে যায়। সে দৌঁড়াতে পারছে না, খেলার জন্য কেউ তাকে নেয় না এবং স্কুলেও যেতে পারছে না।
পরিবার জানায়, স্থানীয় হাতুড়ে ডাক্তার কিংবা জেলা শহরের চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে গিয়েও কোনো সমাধান মেলেনি। চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা বা রাজশাহীতে বড় ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দিলেও, অভাবের সংসারে সেই খরচ যোগানো দিনমজুর বাবার পক্ষে সম্ভব নয়।
এদিকে মা হাসিনা বেগম তার মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। চোখের সামনে মেয়ের এই অবস্থায় তিনি কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে। তবে সরকার থেকে তারা প্রতিবন্ধি ভাতা পেয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, সোহাগীর এই অবস্থা দেখলে তাদের কষ্ট হয়। সে স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছে, তবে পানির প্রতি তার অস্বাভাবিক আসক্তি রয়েছে। সামান্য হাঁটলেই সে হাঁপিয়ে যায়। এই কারণে তার শরীর অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে তার এই অবস্থা হচ্ছে বলেও জানান স্থানীয়রা।
সোহাগীর শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে নওগাঁর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শিশুটির গ্রোথ হরমোনের সমস্যা বা ব্রেইনে টিউমার থাকতে পারে। যেহেতু শিশুটি এখনও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়নি, তাই তাকে অতি দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এখানে চিকিৎসা নিলে সরকারি খরচে পরীক্ষা নিরীক্ষার সুযোগ থাকবে। মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা সদর হাসপাতাল নওগাঁতে শিশুটির বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সোহাগীর পরিবার ও স্থানীয়রা আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছেন। সবার সহযোগিতা এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সোহাগী আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে, এমন প্রত্যাশা সবার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন