প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা তৃতীয়বারের মতো নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। শনিবার (৭ জুন) শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হতে চলেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। তবে ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা জানিয়েছেন, তারা ফাইনালে কোনো চাপ নিচ্ছে না।
ম্যাচটি শিরোপা নির্ধারণী, এবং তাতে প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভারত। ফাইনালের মঞ্চে স্বাগতিক দলের বিরুদ্ধে খেলা সহজ কথা নয়। হোম অ্যাডভান্টেজ, গ্যালারি ঠাসা নিজেদের সমর্থক— এগুলো সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষ দলকে বেশ চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দল পুরোপুরি উল্টো অবস্থানে। ফাইনালের আগে নাকি তারা কোনো চাপই নিচ্ছে না!
ভারতের সমুদ্রপাড়ে একই হোটেলে অবস্থান করছে সাফের দুই ফাইনালিস্ট, ভারত ও বাংলাদেশ। ফাইনালের আগে হয়েছে এমন আবহে, তাহলে কি কোনো মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হচ্ছে? দলপতি মারিয়াকে অবশ্য এমনটাই প্রশ্ন করা হয়েছিল। তবে ক্যাপ্টেন বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। ‘দুই দলই একই হোটেলে অবস্থান করলেও আমরা কোনো চাপ নিচ্ছি না।’
ভারতের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য নতুন কিছু নয়। তাই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করলেও তাদের দেখে ভীত হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা। আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে অতীতেও তারা বহুবার মাঠে খেলেছে। ফলে দেশের ক্রিকেটকে চাপ বিশেসে দেখে নিজেদের নিয়ে চিন্তিত নয় তারা। ‘আমরা ভারতের বিপক্ষে এর আগেও অনেকবার খেলেছি, তাই এটি আমাদের জন্য বড় কোনো বিষয় নয়। আমরা পেশাদার খেলোয়াড়।’
তবে মারিয়া মনে করছেন, ফাইনালের মঞ্চে অতীতের হিসাব-নিকাশ খুব একটা কাজে আসে না। তার মতে, শিরোপার লড়াই সব সময় আলাদা চাপ ও ভিন্ন বাস্তবতার জন্ম দেয়। তাই আগের ফলাফল নয়, ম্যাচের দিন কারা নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে পারবে সেটিই হবে মূল পার্থক্য। ‘মাঠের লড়াই একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন খেলা ও ভিন্ন পরিস্থিতি। আমরা আমাদের সেরাটা দেবো। যে দল সেরাটা দিতে পারবে, তারাই জয়ী হবে।’
এদিকে গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টজুড়ে ভারতের ম্যাচগুলোতে দর্শক উপস্থিতি ছিল বেশ কম। প্রায় ফাঁকা গ্যালারিতেই স্বাগতিকরা নিজেদের তিনটি ম্যাচ খেলে। তবে ফাইনালে দর্শক সমাগম কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের সম্ভাব্য চাপ নিয়েও চিন্তিত নন মারিয়া; বরং তিনি বিশ্বাস করেন, বড় ম্যাচের আবহই খেলোয়াড়দের বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগায়।
গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের চাপকে বাড়তি দুশ্চিন্তা হিসেবে দেখছেন না মারিয়া। বরং অতীত অভিজ্ঞতা তাঁকে দিচ্ছে আত্মবিশ্বাস। কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় হাজারো নেপালি দর্শকের সামনে খেলে জয়লাভের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, বড় গ্যালারির পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মেয়েদের আছে। ‘গ্যালারির দর্শক আমাদের জন্য কোনো সমস্যা হবে না। নেপালে আমরা গত দুটি ফাইনালে অনেক দর্শকের চাপ সামলে খেলে জিতেছি। আমরা যদি ভালো ফুটবল খেলার সুযোগ পাই, তবে ফাইনাল জিততে আমাদের সেরাটা দেবো।’
ফাইনালের আগে দলের প্রস্তুতি নিয়েও আশাবাদী অধিনায়ক। তিনি জানিয়েছেন, শিরোপা লড়াইকে সামনে রেখে দলটি বেশ মনোযোগ দিয়েই অনুশীলন করছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিও ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্ট মারিয়া; তার ভাষায়, দলের সবাই ইতিবাচক মানসিকতায় আছে এবং মাঠে নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে সবাই উদ্যত।
‘যেহেতু আমরা এখন ফাইনালে, তাই আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আজ আমাদের একটি অনুশীলন সেশন ছিল। দলের সবাই খুব ভালো মেজাজে আছে এবং আশা করি, আমরা আগামীকাল (শনিবার-৬ জুন) একটি ভালো ম্যাচ উপহার দিতে পারবো।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন