মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
০৬:১৩ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই সংক্রান্ত বিষয়টি নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১০-০৫-২০২৬ তারিখে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি আবেদন পাঠানো হয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রভাসক ডাক্তার রবিউল ইসলাম অভিযোগটি করেন।
ডা. মুঃ হাবিবুল্লাহ হলেন রহনপুর হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে কোটি টাকা আত্মসাৎ করার, সহকর্মীদের বেতন না দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করার, নিয়মের পরিপন্থীভাবে অর্থ ব্যয় করার, ভুয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দেখিয়ে তাদের নামে বেতন উত্তোলন করার এবং আরও হাজারো দুর্নীতি ও অনিয়মের ঠিকানা গড়ে উঠেছে।
ডা. মুঃ হাবিবুল্লাহর লাগাতার দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্তে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত/সাসিং কমিটি গঠিত হয়েছে। তবে অভিযোগ আছে যে, সাসিং কমিটিকে কোনওরকম সহযোগিতা করছেন না ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। এমনকি কলেজের আয়-ব্যয়ের কোনও হিসাবও দিতে পারছেন না অধ্যক্ষ।
সূত্র অনুযায়ী, রহনপুর হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মুঃ হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে গঠিত সাসিং কমিটির তদন্তে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। কলেজের আয় এবং ব্যাংক হিসাবের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক ফারাক। কলেজের আয়ের টাকা ব্যাংকে জমা হয়নি।
ডি,এইচ,এম,এস ডিগ্রী ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুঃ হাবিবুল্লাহকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পুরোপুরি অবৈধ। নিয়োগের পরেই তিনি একই প্রতিষ্ঠান থেকে ডিএইচএমএস ডিগ্রি নিয়ে নেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদক যখন কথা বলতে চান তখন ডা. মুঃ হাবিবুল্লাহ বলেন, "আমি কনো কথা বলবো না, যা কিছু বলার সভাপতি স্যার বলবেন, বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীম।
শুক্রবার তিনি দিনভর উপজেলার বিভিন্ন ভাঙনের পয়েন্টগুলো সশরীরে পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ খবর নেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে নগদ অর্থ, জরুরি খাদ্য সামগ্রী এবং পুনর্বাসনের জন্য ঘর তৈরির ঢেউটিন বিতরণ করেন।
এসময় ভাঙন কবলিত মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি এই অঞ্চলের মানুষের স্থায়ী সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যমুনার তীব্র ভাঙনরোধে খুব দ্রুতই চৌহালীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। নদীভাঙন থেকে এলাকা রক্ষায় সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতibদ্ধ।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানে ঘোষিত ৫ বছরের জন্য দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চৌহালী উপজেলায় কৃষক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাছের চারা ও জৈব সার বিতরণ করেন আমিরুল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাত্র আট মাসের নিরলস প্রচেষ্টায়, নিজ হাতে সম্পূর্ণ ৩০ পারার পবিত্র কুরআন মাজিদ লিখে আলাদা একটি কীর্তি সম্পন্ন করেছেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ এ.ইউ. ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, সুরাইয়া জান্নাত (১৮)।
তার দ্বারা লেখা কুরআনের প্রতিটি পৃষ্ঠা এতটাই নিখুঁত এবং দৃষ্টিনন্দন যে, প্রথম দেখায় এটি বোঝা কঠিন, এটি ছাপা নাকি হাতে লেখা। এই ব্যতিক্রমী অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে, তাকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা পদকও প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে, উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে, সুরাইয়া জান্নাতকে সম্মাননা পদক ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রাশেদা আক্তার, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা, ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর ইসলাম এবং কান্দিরপাড় উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশীদ, দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সুরাইয়া জান্নাত, কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে। যখন তার সমবয়সীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মোবাইল ফোনে সময় কাটাতে ব্যস্ত, তখন তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে, পবিত্র কুরআন স্বহস্তে লেখার মতো কঠিন এবং ধৈর্যধারণকারী কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
সুরাইয়া জানিয়েছেন, পবিত্র কুরআন আল্লাহ তাআলার কালাম। সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে কঠোর প্রচেষ্টা করে কুরআন সংরক্ষণ করেছেন, সেই অনুপ্রেরণা থেকেই তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, অযথা সময় নষ্ট না করে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শাফায়াত লাভের আশায় কুরআন মাজিদ, নিজ হাতে লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি লেখা শুরু করেন এবং একই বছরের আগস্ট মাসের শেষের দিকে কাজটি সম্পন্ন করেন। মাদ্রাসার ক্লাস এবং নিজের পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে লেখার কাজ চালিয়ে গেছেন, যাতে শিক্ষাজীবনে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। পুরো ৩০ পারার কুরআন লিখতে তার সময় লাগে প্রায় আট মাস। এই কাজে তিনি ৬১১টি পৃষ্ঠা এবং প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার করেছেন।
সুরাইয়া জানান, প্রতিবার কুরআন লিখতে বসার আগে তিনি অজু করতেন এবং দরূদ শরিফ পাঠ করে লেখা শুরু করতেন। তার বিশ্বাস, এতে লেখার মধ্যে বরকত ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। ভবিষ্যতে তিনি হাদিসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ সহিহ বুখারিও স্বহস্তে লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং এ জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।
তিনি জানান, তার এই দীর্ঘ যাত্রায় সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে ছোট ভাই নাহিদ হাসান, যিনি আবেদনগর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সুরাইয়ার মা, জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, মেয়ের আরবি ভাষা এবং আরবি লেখার প্রতি ছোটবেলা থেকেই গভীর আগ্রহ ছিল। দীর্ঘ আট মাসের সাধনায় মেয়ের এই অসাধারণ অর্জনে পরিবার গর্বিত হয়েছে। মেয়ের এই কৃতিত্বে আনন্দিত হয়ে সৌদি প্রবাসী বাবা, নুর হোসেন লিটন তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা মন্তব্য করেন, এত অল্প বয়সে নিজ হাতে ৩০ পারা পবিত্র কুরআন মাজিদ লিখে সুরাইয়া জান্নাত সত্যিই অনন্য নজির স্থাপন করেছে। তার হাতের লেখা একেবারে ছাপা অক্ষরের মতো। তার এই অসাধারণ অর্জন নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল এবং ইতিবাচক কাজে উৎসাহিত করবে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড।
টানা চতুর্থবারের মতো নকআউটের দ্বিতীয় ধাপে উঠেছে সুইসরা। একই সঙ্গে ৮৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদও পেল তারা।
তবুও, ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সুইস মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রিডারের অবিশ্বাস্য এক গোল মিস।
ম্যাচের শেষ দিকে সুইজারল্যান্ড ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। ছয় গজ বক্সের ভেতরে একেবারে ফাঁকা অবস্থায় বল পান রিডার। সামনে গোলরক্ষক কার্যত অবস্থানের বাইরে ছিল এবং গোলপোস্টও ছিল প্রায় অরক্ষিত। সাধারণত এমন সুযোগে গোল হওয়াই নিয়ম।
কিন্তু অবাক করে দিয়ে রিডার শট নেন এতটাই দুর্বলভাবে যে বলটি গিয়ে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের হাতেই চলে যায়। নিশ্চিত গোল হাতছাড়া হওয়ার সেই মুহূর্তটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই এটিকে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য গোল মিসগুলোর একটি হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। এক্সে (সাবেক টুইটার) এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "সুইজারল্যান্ড-আলজেরিয়া ম্যাচের হাইলাইটস দেখছিলাম। ফাবিয়ান রিডারের এই মিসটা কি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে গোল মিস? অন্তত সেই আলোচনায় এটি অবশ্যই থাকবে।"
তবে, এই মিসে সুইজারল্যান্ডের জয়ে কোনো প্রভাব পড়েনি। ২-০ গোলের জয় নিয়েই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা। পরের রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া অথবা ঘানা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ