প্রিন্ট এর তারিখঃ ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০৫:৩৪ এম || প্রকাশের তারিখঃ ৩ই জুলাই, ২০২৬ইং; ০৬:১৯ পি.এম
রাজবাড়ীতে হত্যা মামলার বাদী পরিবারকে আসামি পক্ষের হুমকির অভিযোগ
রাজবাড়ীর পাংশায় জামিন বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষ থেকে বাদী ও তার পরিবারকে হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (০৩ জুলাই) সকাল ১১ টায় পাংশা উপজেলার মাজাইল বাজার সংলগ্ন নিহতের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নিহতের ছেলে রিপন বিশ্বাস। এ সময় মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানায় পরিবার।
মামলার বাদী নিহতের ছেলে রিপন বিশ্বাস বলেন, আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এই মামলার একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আমি রাত-বিরাতে ভ্যান গাড়ি চালাই, এতে আমার সংসার চলে।
আসামীরা লোকজনের মাধ্যমে মামলা তুলে দেওয়ার জন্য আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে। এতে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।
নিহতের স্বজন মোঃ মতিউর রহমান মিঠু বলেন, বাংলাট এবং মাজাইল পাশাপাশি দুইটি গ্রাম। মাঝে ছোট্ট নদী রয়েছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাটের লোকজন আমাদের এলাকায় হামলা চালাতে আসে। আমাদের চাচা জামিন বিশ্বাস সেদিন গ্রামের অন্যদের মতো তাদের বাঁধা দিতে গেলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে নদীর মধ্যে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাংশা ও পরে ঢাকাতে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সেই রাতে বাংলাটের লোকজন টিক্কার নির্দেশে তাদের গোয়াল ও খড়ির ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এর আগের বসত বাড়ি থেকে আসবাবপত্র ও গবাদি পশু আত্মীয়দের বাড়িতে নিয়ে যায়। অথচ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারাই আমাদের গ্রামের কয়েকশত নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলা দেয়। তবে আমাদের চাচার হত্যার ঘটনায় আমরা মামলা করলেও কোন আসামি গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। তবে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলায় পুলিশ আমাদের গ্রামের দুইজন নিরীহ মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ অন্তর বিশ্বাস দাবী করেন, হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার না করে পুলিশ, সাজানো অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলার আসামি গ্রেপ্তারে বেশি তৎপর। এতে আমরা রাতে ঘরে থাকতে পারি না। যেহেতু হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করছে। তারা আবারও আমাদের গ্রামে হামলা ও লুটপাট চালাতে পারে। পুলিশের উদ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে দাবি হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে এ অঞ্চলের শান্তি ফিরিয়ে আনবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন রাত ৯ টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় জমিন বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। এদিন সকালে দুই গ্রামের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারি শুরু হলে পাট্টা ইউনিয়নের মাজাইল খালের ভেতর প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে তাকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন
কপিরাইট © ২০২৪-২৫ তালাশ বিডি.কম সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। || Design & Developed By "Talash BD Media Limited"