ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শ্বশুরবাড়ির ‘নাস্তা’ নিয়ে বিরোধ, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর বাবাকে হত্যার অভিযোগ


শ্বশুরবাড়ির ‘নাস্তা’ নিয়ে বিরোধ, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর বাবাকে হত্যার অভিযোগ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ঘটনায়, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা না দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা বাদশা মিয়া (৫০)কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ছেলে মহিউদ্দিন, শ্বশুর মতিন মিয়া, শাশুড়ি ঝর্ণা বেগম ও ননদের স্বামী হৃদয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের কাইল্লা মিস্ত্রির বাড়িতে এই নির্মম ঘটনা ঘটে। বুধবার রাত ২টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বিষয়টি জনসমক্ষে নিশ্চিত করেন।

নিহতের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম এবং তার স্বজনদের অভিযোগ, এক বছর আগে সামাজিক এবং ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী তাদের মেয়ে ময়না আক্তারের সঙ্গে দেবিদ্বার উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের বিয়ে হয়। তবে, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ময়নাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন এবং পরিবারের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন।

আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ও অনুদান প্রদান

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে শ্বশুর মতিন মিয়া, শাশুড়ি ঝর্ণা বেগম এবং ননদের স্বামী হৃদয় নাল্লা গ্রামে বাদশা মিয়ার বাড়িতে আসেন। সেই সময় পঞ্চমাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে বাদশা মিয়াকে মারধর করা হয় এবং মতিন মিয়া তার তলপেটে লাথি মারেন। এর ফলস্বরূপ, তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তিনজনকে আটক করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় অঞ্চলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের মেয়ে ময়নার বান্ধবী ও প্রতিবেশী তাসমিম জাহান নির্জনা বলেন, "এই ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও ন্যাক্কারজনক। আমি জানি, আমার বান্ধবী দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল।

তার আর্থিক অবস্থা খারাপ হলে আজ তার বাবার হত্যার খবর পাই। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে ময়নার জীবনের নিরাপত্তা এবং তার গর্ভের শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এ ধরনের যৌতুক জনিত নির্যাতন এবং সহিংসতার শিকার না হয়, তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে প্রশাসনের সাথে তামাশা, দুই দফা অভিযানের পরও অসাধু ব্যবসায়ীদের দখলে ফুটপাত

ব্রাহ্মণপাড়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার স্থান থেকে শ্বশুরবাড়ির তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
অরুন্ধতী রায়ের মন্তব্য

মোদির ২৪ বছরের ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ, ককরোচদের দুই সপ্তাহের আন্দোলনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ এম


মোদির ২৪ বছরের ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ, ককরোচদের দুই সপ্তাহের আন্দোলনে

ভারতের প্রখ্যাত সাহিত্যিক এবং বুকার পুরস্কারজয়ী লেখক অরুন্ধতী রায় দাবি করেছেন, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন তরুণদের সাম্প্রতিক আন্দোলন, মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা জনভাবমূর্তিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। রায় বলেন, এই রাজনৈতিক অভিঘাত যেকোনো নির্বাচনি জয়ের চেয়ে বড়।

রাজনৈতিক মন্তব্যের অংশ হিসেবে,

সোমবার দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে (আইআইসি) তার বই মাদার মেরি কামস টু মি-এর হিন্দি অনুবাদ মেরি মা, মেরি গ্যাংস্টার-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উনি এসব মন্তব্য করেন।

তিনি মন্তব্য করেন, রাজনীতিতে শুধুমাত্র নির্বাচনই সবকিছু নয়; কখনও কখনও জনতার আন্দোলন বহু বছর ধরে নির্মিত রাজনৈতিক বয়ান ও ভাবমূর্তিকেও অল্প সময়ের মধ্যে নড়িয়ে দিতে পারে।

রায়ের ভাষায়, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ২৪ বছরে যে ভাবমূর্তি গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে কেউ কেউ তাকে বিষ্ণুর অবতার বলেও আখ্যা দিয়েছেন, সেই ভাবমূর্তি মাত্র দুই সপ্তাহে ভেঙে দিয়েছে ককরোচরা। এক অর্থে, ককেরোচদের এটি নির্বাচনি জয়ের চেয়ে বড় বিজয়।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্দোলনের এই সাফল্য সত্বেও লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। সরকারের হাতে যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর জন্য সামনে আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

এ সময় তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জন্তর মন্তরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের পরিপক্বতার প্রশংসা করে বলেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করেছে।

একটি সংগীত দলের উদাহরণ টেনে রায় বলেন, বেস গিটারবাদক গায়কের ভূমিকা পালন করতে পারেন না, গায়ক ড্রামার হতে পারেন না। প্রত্যেকে নিজের নিজস্ব ভূমিকা পালন করেই একটি অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখে। এখন প্রাপ্তবয়স্কদেরও সেই পরিপক্বতা দেখাতে হবে।

অনুষ্ঠানে, অরুন্ধতী রায় তাঁর নতুন বই নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, মেরি মা, মেরি গ্যাংস্টার তাঁর আত্মজীবনী বা তাঁর মা মেরি রায়ের জীবনী নয়; বরং মা ও মেয়ের জটিল সম্পর্কের কাহিনি। বইয়ে মাকে 'গ্যাংস্টার' বলে উল্লেখ করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি কেবল রূপক নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।

আলোচনায় ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন বুকারজয়ী এই লেখক। তিনি বলেন, যখনই তাঁকে পুরস্কৃত বা সম্মানিত করা হয়, তখন তাঁর মনে হয় কোথাও না কোথাও অন্য কেউ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাঁর মতে, গাজা থেকে শুরু করে কোনো গ্রামের প্রান্তিক মানুষ কিংবা জন্তর মন্তনের আন্দোলন—সব জায়গাতেই এমন মানুষ রয়েছেন, যাদের দুর্ভোগ সমাজের চোখের আড়ালে থাকে।

অনুষ্ঠানের শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্যায়কে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার সময় শেষ। এখন নাগরিকদেরই প্রমাণ করতে হবে যে তারা আর নির্যাতন মেনে নেবে না।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে শিবিরের দাবি

জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর চায় শিবির, ছাত্রদল চায় ওপেন টেন্ডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ এম


জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর চায় শিবির, ছাত্রদল চায় ওপেন টেন্ডার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জকসু নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রশিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল এবং যুবদলের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ছাত্রশিবির। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে সংগঠনটি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সংবাদ সম্মেলন থেকে এই দাবি জানানো হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জকসু নেতা, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, ছাত্রশিবির এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাকে ইসলামী ছাত্রশিবির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই হামলার জন্য অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় সংগঠনটি। রাজধানীতে গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ দ্বারা এই দাবি জানানো হয়।

বিকেল ৮টার দিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। পরে পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তারা একই দাবিতে।

এ সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে নিজেদের সন্ত্রাসী সক্ষমতা যাচাইয়ের এই অপচেষ্টা ছাত্রদলের জন্য বুমেরাং হবে। তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন এবং টেন্ডারবাজির মাধ্যমে যে পতিত স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে, তারা আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, তাদের করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে। নতুন বাংলাদেশে দখলদারিত্ব, লেজুড়বৃত্তি এবং মাস্তানির রাজনীতি দেশের ছাত্রসমাজ আর এক চুলও সহ্য করবে না। এ কথা তিনি উল্লেখ করেন যে, হামলাগুলি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠান চলাকালে জকসু নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ও ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল ও যুবদলের চিহ্নিত এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিত হামলা চালায়। এতে অনেক নেতাকর্মী আহত হন।

তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ অনুষ্ঠান চলাকালে শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট নিরসন ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়ার বিভিন্ন যৌক্তিক দাবির প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে চাইলে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের পথ আটকে এবং প্ল্যাকার্ডগুলো ছিঁড়ে ফেলে। পরবর্তীতে জকসুর ভিপি শিক্ষার্থীদের ভেতরে নিতে এলে প্রক্টর অফিস এবং জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের নেতৃত্বে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গায়ে হাত তোলা হয়।

মূলত, ক্যাম্পাসের বড় বাজেটের উন্নয়ন কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হলে শতভাগ স্বচ্ছতা থাকবে এবং কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কিন্তু ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার চাঁদা ও অবৈধ কমিশনের ভাগ পাওয়ার লোভী মানসিকতা থেকেই ছাত্রদল সেনাবাহিনীর হাতে কাজ হস্তান্তরের বিরোধিতা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।

এই হামলায় জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানাসহ ইনকিলাব মঞ্চ এবং ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী, কর্তব্যরত সাংবাদিক এবং অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আহতরা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও হামলাকারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। রোগীদেরও রেহাই দেয়নি।

একইভাবে, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজ শাখার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির প্রস্তুতিকালে ছাত্রদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এর ফলে অনুষ্ঠানস্থলের দায়িত্বশীলদের হাত থেকে ব্যানার কেড়ে নিয়ে রামদা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপরও বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। ছাত্রদল ও যুবদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হলের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিয়ে হামলা করে। পরে হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানে নিজেদের তালা ঝুলিয়ে দেয়। এই ন্যাক্কারজনক এবং কাপুরুষোচিত হামলায় যুবদলের কুখ্যাত ক্যাডার নয়ন হেলমেট পরে একদল সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি অংশ নেয়। এমনকি ঢাকা আলিয়ার অধ্যক্ষের ওপরও হামলা চালায়।

নূরুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসের শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হলে শতভাগ স্বচ্ছতা থাকবে এবং কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কিন্তু ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার চাঁদা এবং অবৈধ কমিশনের ভাগ পাওয়ার লোভী মানসিকতা থেকেই ছাত্রদল সেনাবাহিনীর হাতে কাজ হস্তান্তরের বিরোধিতা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং জকসু প্রতিনিধিদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। প্রতিটি ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি করতে না পেরে আজ এই সন্ত্রাসীরা উন্মাদ হয়ে গেছে।

উনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিগত কিছুদিন ধরে দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক সুসংগঠিত উপায়ে ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে একের পর এক সমন্বিত হামলা চালানো হচ্ছে। ভিত্তিহীন গুজবকে হাতিয়ার বানিয়ে খোদ থানার ভেতর ডাকসু নেতাদের ওপর বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে এই নোংরা রাজনীতির ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের পর জকসু নেতৃবৃন্দের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হলো।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো- ১. সিসিটিভি ফুটেজ এবং ছবির সাহায্যে জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফের চোয়াল ভেঙে দেওয়া জবি ছাত্রদলের মোস্তাফিজুর রহমান রুমি এবং জাফর, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসার জড়িত যুবদল নেতা নয়ন এবং বেরোবিতে হামলাকারী বহিরাগত সকল সন্ত্রাসীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ২. সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রক্টর অফিসের যেসব কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ৩. জকসু নেতৃবৃন্দ, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং কর্তব্যরত আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সরকারকে বহন করতে হবে। ৪. ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলের নিয়ন্ত্রণ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে তাদের আবাসিক নিরাপত্তা এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ৫. শিক্ষার্থীদের মূল দাবি অনুযায়ী জবি দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ অবিলম্বে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

এদিকে এসব হামলার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রশিবির। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জামায়াতের প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১০ এম


বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জামায়াতের প্রতিবাদ

মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলীয়া মাদরাসা এবং গত ৩ আগস্ট রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক ছাত্রসংসদের নির্বাচিত ভিপিসহ কার্যনির্বাহী সদস্য, ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ নিন্দা জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং দেশবাসী প্রত্যাশা করেছিল যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে। সন্তানরা নিরাপদে থাকবে এবং চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের রাজনৈতিক ও মৌলিক অধিকার ফিরে পাবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ঝনঝনানি আর শোনা যাবে না। কোনো শিক্ষার্থীকে আর নিপীড়নের শিকার হতে হবে না। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার পরিবর্তে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সন্ত্রাসী পথ অনুসরণ করে আধিপত্য বিস্তারের হীন কৌশল অবলম্বন করেছে। যার ফলশ্রুতিতে আজ তারা শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের সশস্ত্র হামলায় তাদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। এই হামলা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। আহত শিক্ষার্থীরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে, হাসপাতালের ভেতরে ঢুকেও আহত শিক্ষার্থীদের ব্যাট ও রড দিয়ে আঘাত করেছে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তারা আহত শিক্ষার্থীদের রক্ষায় কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা প্রশাসনের এহেন ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা এ ধরনের হামলা চালিয়েছে, অবিলম্বে তাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সংঘটিত এসব হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাডেমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

হাসপাতালে মহানগর জামায়াত নেতারা, ছাত্রদলের হামলায় আহতদের দেখতে রাজধানীর কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে যান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। পরে তিনি প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল সন্ত্রাসীরা মাথায় কোপ, ইট ও লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আঘাত করেছে। অবিলম্বে ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এ সময় তার সঙ্গে মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশবাসিকে শুভেচ্ছা জানালেন নাহিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ এম


জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশবাসিকে শুভেচ্ছা জানালেন নাহিদ

পাঁচ আগস্ট আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। এটি বাংলা বদ্বীপের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, গৌরব ও বিজয়ের ধারাবাহিকতার প্রতীক।

১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে ঔপনিবেশিক বেনিয়া শাসনের সূচনার পর থেকেই এই ভূখণ্ডের মানুষ মুক্তির প্রত্যয়ে জেগে ওঠে। তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, হাজি শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন, হাবিলদার রজব আলীর বিদ্রোহ এবং শেরে বাংলার লাহোর প্রস্তাব সেই দীর্ঘ অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে আছে। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ ও অবিরাম প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে জাতি ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের অধিকার অর্জন করে।

কিন্তু সেই আজাদীর আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর বাংলার জনগণ এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। দীর্ঘ চব্বিশ বছরের বৈষম্য, বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই শেষে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় আমাদের লাল সবুজের পতাকা। লাখো শহীদের আত্মদান, অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরও জনগণের প্রত্যাশিত ন্যায়ভিত্তিক এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে বহু স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়।

এরপর দফায় দফায় এ দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত নেমে এসেছে, যার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে এক এগারোর কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তথাকথিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। ১৮ কোটি মানুষের কাঁধে চেপে বসে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ। মুক্তিযুদ্ধের নামে মুজিববাদী আদর্শের ভিত্তিতে আওয়ামী জুলুমতন্ত্রের কবলে পড়ে দেশ। বাকশালী শক্তির হাতে ধ্বংস হয় এদেশের গণতন্ত্র, সুশাসন, সমাজ ও সংস্কৃতি। আধিপত্যবাদী শক্তির ইশারায় বারবার এ ভূখণ্ডের মানুষের জীবনে নেমে আসে বর্বর দমন-পীড়ন।

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর দীর্ঘদিনের দমনপীড়নের ধারাবাহিকতায় ছাত্রদের ন্যায্য কোটা সংস্কার আন্দোলনেও হাসিনার লাঠিয়াল বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়। সেই রক্তস্নাত অধ্যায় থেকেই জন্ম নেয় প্রতিরোধের এক অভূতপূর্ব ইতিহাস। ছাত্র, শ্রমিক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, আইনজীবী, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, প্রবাসী, সৈনিক, তরুণ সেনা অফিসার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত সংগ্রামে পতন ঘটে বাকশালী অপশক্তির। চৌদ্দ শত শহীদ এবং ত্রিশ হাজার আহতের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অবশেষে আসে ৫ আগস্টের মাহেন্দ্রক্ষণ, বহুল প্রতীক্ষিত মুক্তির প্রভাত।

দুঃখজনক হচ্ছে, ৫ আগস্টের সেই বিজয়লগ্ন থেকেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রবল অসহযোগিতার কারণে শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবে রূপ পায়নি। ক্ষমতালিপ্সার কাছে পরাজিত হয়েছে ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপের গণআকাঙ্ক্ষা।

বিপ্লবের দুই বছর পরো সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসেনি। সরকারের নজিরবিহীন দলীয়করণ, সংস্কারবিরোধী অবস্থান, ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণ এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা জাতিকে আবারো সংকটের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে।

বিজয়ের এই ঐতিহাসিক ক্ষণে সরকারের প্রতি আমাদের আন্তরিক আহ্বান, গণভোটে প্রদত্ত জনরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে সংস্কার বাস্তবায়ন করুন। সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি পরিহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত করুন। চব্বিশসহ সকল গণহত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করুন।

প্রিয় দেশবাসী,

শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ হৃদয় তরুয়াসহ সকল শহীদের রেখে যাওয়া আমানত আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি। আসুন, তার মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দৃঢ় কণ্ঠে সোচ্চার হই। ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার মহান সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে শামিল হই।

ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

মো. নাহিদ ইসলাম

আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%