০৭:০৫ এম
ভারতের প্রখ্যাত সাহিত্যিক এবং বুকার পুরস্কারজয়ী লেখক অরুন্ধতী রায় দাবি করেছেন, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন তরুণদের সাম্প্রতিক আন্দোলন, মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা জনভাবমূর্তিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। রায় বলেন, এই রাজনৈতিক অভিঘাত যেকোনো নির্বাচনি জয়ের চেয়ে বড়।
রাজনৈতিক মন্তব্যের অংশ হিসেবে,
সোমবার দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে (আইআইসি) তার বই মাদার মেরি কামস টু মি-এর হিন্দি অনুবাদ মেরি মা, মেরি গ্যাংস্টার-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উনি এসব মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
তিনি মন্তব্য করেন, রাজনীতিতে শুধুমাত্র নির্বাচনই সবকিছু নয়; কখনও কখনও জনতার আন্দোলন বহু বছর ধরে নির্মিত রাজনৈতিক বয়ান ও ভাবমূর্তিকেও অল্প সময়ের মধ্যে নড়িয়ে দিতে পারে।
রায়ের ভাষায়, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ২৪ বছরে যে ভাবমূর্তি গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে কেউ কেউ তাকে বিষ্ণুর অবতার বলেও আখ্যা দিয়েছেন, সেই ভাবমূর্তি মাত্র দুই সপ্তাহে ভেঙে দিয়েছে ককরোচরা। এক অর্থে, ককেরোচদের এটি নির্বাচনি জয়ের চেয়ে বড় বিজয়।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্দোলনের এই সাফল্য সত্বেও লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। সরকারের হাতে যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর জন্য সামনে আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
এ সময় তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জন্তর মন্তরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের পরিপক্বতার প্রশংসা করে বলেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করেছে।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
একটি সংগীত দলের উদাহরণ টেনে রায় বলেন, বেস গিটারবাদক গায়কের ভূমিকা পালন করতে পারেন না, গায়ক ড্রামার হতে পারেন না। প্রত্যেকে নিজের নিজস্ব ভূমিকা পালন করেই একটি অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখে। এখন প্রাপ্তবয়স্কদেরও সেই পরিপক্বতা দেখাতে হবে।
অনুষ্ঠানে, অরুন্ধতী রায় তাঁর নতুন বই নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, মেরি মা, মেরি গ্যাংস্টার তাঁর আত্মজীবনী বা তাঁর মা মেরি রায়ের জীবনী নয়; বরং মা ও মেয়ের জটিল সম্পর্কের কাহিনি। বইয়ে মাকে 'গ্যাংস্টার' বলে উল্লেখ করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি কেবল রূপক নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।
আলোচনায় ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন বুকারজয়ী এই লেখক। তিনি বলেন, যখনই তাঁকে পুরস্কৃত বা সম্মানিত করা হয়, তখন তাঁর মনে হয় কোথাও না কোথাও অন্য কেউ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাঁর মতে, গাজা থেকে শুরু করে কোনো গ্রামের প্রান্তিক মানুষ কিংবা জন্তর মন্তনের আন্দোলন—সব জায়গাতেই এমন মানুষ রয়েছেন, যাদের দুর্ভোগ সমাজের চোখের আড়ালে থাকে।
অনুষ্ঠানের শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্যায়কে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার সময় শেষ। এখন নাগরিকদেরই প্রমাণ করতে হবে যে তারা আর নির্যাতন মেনে নেবে না।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারিদের ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, থানার ক্যাশিয়ার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন