ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে শিবিরের দাবি

জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর চায় শিবির, ছাত্রদল চায় ওপেন টেন্ডার


জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর চায় শিবির, ছাত্রদল চায় ওপেন টেন্ডার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জকসু নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রশিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল এবং যুবদলের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ছাত্রশিবির। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে সংগঠনটি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সংবাদ সম্মেলন থেকে এই দাবি জানানো হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জকসু নেতা, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, ছাত্রশিবির এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাকে ইসলামী ছাত্রশিবির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই হামলার জন্য অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় সংগঠনটি। রাজধানীতে গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ দ্বারা এই দাবি জানানো হয়।

বিকেল ৮টার দিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। পরে পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তারা একই দাবিতে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে চাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

এ সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে নিজেদের সন্ত্রাসী সক্ষমতা যাচাইয়ের এই অপচেষ্টা ছাত্রদলের জন্য বুমেরাং হবে। তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন এবং টেন্ডারবাজির মাধ্যমে যে পতিত স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে, তারা আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, তাদের করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে। নতুন বাংলাদেশে দখলদারিত্ব, লেজুড়বৃত্তি এবং মাস্তানির রাজনীতি দেশের ছাত্রসমাজ আর এক চুলও সহ্য করবে না। এ কথা তিনি উল্লেখ করেন যে, হামলাগুলি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠান চলাকালে জকসু নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ও ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল ও যুবদলের চিহ্নিত এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিত হামলা চালায়। এতে অনেক নেতাকর্মী আহত হন।

তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ অনুষ্ঠান চলাকালে শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট নিরসন ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়ার বিভিন্ন যৌক্তিক দাবির প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে চাইলে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের পথ আটকে এবং প্ল্যাকার্ডগুলো ছিঁড়ে ফেলে। পরবর্তীতে জকসুর ভিপি শিক্ষার্থীদের ভেতরে নিতে এলে প্রক্টর অফিস এবং জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের নেতৃত্বে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গায়ে হাত তোলা হয়।

মূলত, ক্যাম্পাসের বড় বাজেটের উন্নয়ন কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হলে শতভাগ স্বচ্ছতা থাকবে এবং কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কিন্তু ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার চাঁদা ও অবৈধ কমিশনের ভাগ পাওয়ার লোভী মানসিকতা থেকেই ছাত্রদল সেনাবাহিনীর হাতে কাজ হস্তান্তরের বিরোধিতা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।

আরও পড়ুন: এনসিপি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না: আখতার হোসেন

এই হামলায় জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানাসহ ইনকিলাব মঞ্চ এবং ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী, কর্তব্যরত সাংবাদিক এবং অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আহতরা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও হামলাকারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। রোগীদেরও রেহাই দেয়নি।

একইভাবে, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজ শাখার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির প্রস্তুতিকালে ছাত্রদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এর ফলে অনুষ্ঠানস্থলের দায়িত্বশীলদের হাত থেকে ব্যানার কেড়ে নিয়ে রামদা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপরও বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। ছাত্রদল ও যুবদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হলের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিয়ে হামলা করে। পরে হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানে নিজেদের তালা ঝুলিয়ে দেয়। এই ন্যাক্কারজনক এবং কাপুরুষোচিত হামলায় যুবদলের কুখ্যাত ক্যাডার নয়ন হেলমেট পরে একদল সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি অংশ নেয়। এমনকি ঢাকা আলিয়ার অধ্যক্ষের ওপরও হামলা চালায়।

নূরুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসের শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হলে শতভাগ স্বচ্ছতা থাকবে এবং কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কিন্তু ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার চাঁদা এবং অবৈধ কমিশনের ভাগ পাওয়ার লোভী মানসিকতা থেকেই ছাত্রদল সেনাবাহিনীর হাতে কাজ হস্তান্তরের বিরোধিতা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং জকসু প্রতিনিধিদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। প্রতিটি ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি করতে না পেরে আজ এই সন্ত্রাসীরা উন্মাদ হয়ে গেছে।

উনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিগত কিছুদিন ধরে দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক সুসংগঠিত উপায়ে ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে একের পর এক সমন্বিত হামলা চালানো হচ্ছে। ভিত্তিহীন গুজবকে হাতিয়ার বানিয়ে খোদ থানার ভেতর ডাকসু নেতাদের ওপর বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে এই নোংরা রাজনীতির ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের পর জকসু নেতৃবৃন্দের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হলো।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আপিল শুনানি ১৭ নভেম্বর

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো- ১. সিসিটিভি ফুটেজ এবং ছবির সাহায্যে জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফের চোয়াল ভেঙে দেওয়া জবি ছাত্রদলের মোস্তাফিজুর রহমান রুমি এবং জাফর, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসার জড়িত যুবদল নেতা নয়ন এবং বেরোবিতে হামলাকারী বহিরাগত সকল সন্ত্রাসীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ২. সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রক্টর অফিসের যেসব কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ৩. জকসু নেতৃবৃন্দ, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং কর্তব্যরত আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সরকারকে বহন করতে হবে। ৪. ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলের নিয়ন্ত্রণ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে তাদের আবাসিক নিরাপত্তা এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ৫. শিক্ষার্থীদের মূল দাবি অনুযায়ী জবি দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ অবিলম্বে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

এদিকে এসব হামলার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রশিবির। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জামায়াতের প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১০ এম


বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জামায়াতের প্রতিবাদ

মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলীয়া মাদরাসা এবং গত ৩ আগস্ট রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক ছাত্রসংসদের নির্বাচিত ভিপিসহ কার্যনির্বাহী সদস্য, ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ নিন্দা জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং দেশবাসী প্রত্যাশা করেছিল যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে। সন্তানরা নিরাপদে থাকবে এবং চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের রাজনৈতিক ও মৌলিক অধিকার ফিরে পাবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ঝনঝনানি আর শোনা যাবে না। কোনো শিক্ষার্থীকে আর নিপীড়নের শিকার হতে হবে না। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার পরিবর্তে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সন্ত্রাসী পথ অনুসরণ করে আধিপত্য বিস্তারের হীন কৌশল অবলম্বন করেছে। যার ফলশ্রুতিতে আজ তারা শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের সশস্ত্র হামলায় তাদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। এই হামলা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। আহত শিক্ষার্থীরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে, হাসপাতালের ভেতরে ঢুকেও আহত শিক্ষার্থীদের ব্যাট ও রড দিয়ে আঘাত করেছে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তারা আহত শিক্ষার্থীদের রক্ষায় কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা প্রশাসনের এহেন ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা এ ধরনের হামলা চালিয়েছে, অবিলম্বে তাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সংঘটিত এসব হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাডেমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

হাসপাতালে মহানগর জামায়াত নেতারা, ছাত্রদলের হামলায় আহতদের দেখতে রাজধানীর কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে যান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। পরে তিনি প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল সন্ত্রাসীরা মাথায় কোপ, ইট ও লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আঘাত করেছে। অবিলম্বে ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এ সময় তার সঙ্গে মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশবাসিকে শুভেচ্ছা জানালেন নাহিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ এম


জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশবাসিকে শুভেচ্ছা জানালেন নাহিদ

পাঁচ আগস্ট আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। এটি বাংলা বদ্বীপের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, গৌরব ও বিজয়ের ধারাবাহিকতার প্রতীক।

১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে ঔপনিবেশিক বেনিয়া শাসনের সূচনার পর থেকেই এই ভূখণ্ডের মানুষ মুক্তির প্রত্যয়ে জেগে ওঠে। তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, হাজি শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন, হাবিলদার রজব আলীর বিদ্রোহ এবং শেরে বাংলার লাহোর প্রস্তাব সেই দীর্ঘ অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে আছে। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ ও অবিরাম প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে জাতি ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের অধিকার অর্জন করে।

কিন্তু সেই আজাদীর আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর বাংলার জনগণ এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। দীর্ঘ চব্বিশ বছরের বৈষম্য, বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই শেষে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় আমাদের লাল সবুজের পতাকা। লাখো শহীদের আত্মদান, অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরও জনগণের প্রত্যাশিত ন্যায়ভিত্তিক এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে বহু স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়।

এরপর দফায় দফায় এ দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত নেমে এসেছে, যার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে এক এগারোর কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তথাকথিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। ১৮ কোটি মানুষের কাঁধে চেপে বসে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ। মুক্তিযুদ্ধের নামে মুজিববাদী আদর্শের ভিত্তিতে আওয়ামী জুলুমতন্ত্রের কবলে পড়ে দেশ। বাকশালী শক্তির হাতে ধ্বংস হয় এদেশের গণতন্ত্র, সুশাসন, সমাজ ও সংস্কৃতি। আধিপত্যবাদী শক্তির ইশারায় বারবার এ ভূখণ্ডের মানুষের জীবনে নেমে আসে বর্বর দমন-পীড়ন।

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর দীর্ঘদিনের দমনপীড়নের ধারাবাহিকতায় ছাত্রদের ন্যায্য কোটা সংস্কার আন্দোলনেও হাসিনার লাঠিয়াল বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়। সেই রক্তস্নাত অধ্যায় থেকেই জন্ম নেয় প্রতিরোধের এক অভূতপূর্ব ইতিহাস। ছাত্র, শ্রমিক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, আইনজীবী, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, প্রবাসী, সৈনিক, তরুণ সেনা অফিসার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত সংগ্রামে পতন ঘটে বাকশালী অপশক্তির। চৌদ্দ শত শহীদ এবং ত্রিশ হাজার আহতের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অবশেষে আসে ৫ আগস্টের মাহেন্দ্রক্ষণ, বহুল প্রতীক্ষিত মুক্তির প্রভাত।

দুঃখজনক হচ্ছে, ৫ আগস্টের সেই বিজয়লগ্ন থেকেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রবল অসহযোগিতার কারণে শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবে রূপ পায়নি। ক্ষমতালিপ্সার কাছে পরাজিত হয়েছে ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপের গণআকাঙ্ক্ষা।

বিপ্লবের দুই বছর পরো সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসেনি। সরকারের নজিরবিহীন দলীয়করণ, সংস্কারবিরোধী অবস্থান, ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণ এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা জাতিকে আবারো সংকটের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে।

বিজয়ের এই ঐতিহাসিক ক্ষণে সরকারের প্রতি আমাদের আন্তরিক আহ্বান, গণভোটে প্রদত্ত জনরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে সংস্কার বাস্তবায়ন করুন। সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি পরিহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত করুন। চব্বিশসহ সকল গণহত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করুন।

প্রিয় দেশবাসী,

শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ হৃদয় তরুয়াসহ সকল শহীদের রেখে যাওয়া আমানত আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি। আসুন, তার মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দৃঢ় কণ্ঠে সোচ্চার হই। ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার মহান সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে শামিল হই।

ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

মো. নাহিদ ইসলাম

আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তির সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ এম


হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তির সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি শিগগিরই জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খোলা হতে পারে। এই আশাবাদে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় মাত্রার পতন দেখা গেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হতে পারে।

এ খবরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। উভয় সূচকই ১৩ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমাতে আগের একাধিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় তেলের বাজার এখনও অস্থির রয়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের খুচরা দামেও পড়তে পারে।

রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ও ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে আরও বেশি জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে, তবে এখনও চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে।

অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে। সিএনবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আজ বা আগামীকাল একটি চুক্তি হতে পারে, যা প্রণালিটি খুলে দিয়ে এই সংঘাতকে আরও স্বাভাবিক অবস্থার দিকে নিয়ে যাবে।'

জাহাজ চলাচলে ইরান কোনো ফি আরোপ করতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, 'এটি হবে স্বাধীন চলাচলের বিষয়।' সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো বা শর্ত সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার বার কূটনৈতিক ব্যর্থতার পর ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া নিয়ে তারা বর্তমানে ওমানের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজে জাহাজ চলাচল পরিচালনার বিষয়টি ইরান-ওমানের মধ্যে ভাগাভাগি হতে পারে। উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এর উপকূলের কাছাকাছি একটি নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করবে। আর উপসাগর থেকে বহির্গামী জাহাজগুলো ওমানের নিকটবর্তী একটি প্রণালি ব্যবহার করবে।

এই প্রক্রিয়ায় কোনো টোল আরোপ করা হবে না, তবে চুক্তিতে পরিবেশগত প্রভাব, পণ্যবাহী জাহাজ ও ট্যাংকারের নিরাপত্তা এবং কর্মী খরচের জন্য একটি পরিষেবা ফি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই রাজস্ব ইরান ও ওমানের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে, এই বিষয়েও তেহরান-মাস্কটের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এছাড়া ইরান বার বার বলেছে, প্রণালির পরিস্থিতি যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। মাইন অপসারণ অভিযান এবং সামুদ্রিক পরিষেবা শুল্ক আরোপ করা নিয়েও মতবিরোধের বিষয়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দ্বারা সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান প্রণালিটিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ওরা গুলি করছে, আপনারা কী করছেন’-পুলিশ কর্মকর্তাকে যুবদল নেতা নয়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ এম


‘ওরা গুলি করছে, আপনারা কী করছেন’-পুলিশ কর্মকর্তাকে যুবদল নেতা নয়ন

রাজধানীর পুরান ঢাকায় সংঘর্ষের সময় মাথায় হেলমেট পরিহিত ও হাতে পাইপ নিয়ে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন। এক পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

এ সময়ে তিনি ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ওরা গুলি করছে, আপনারা নীরব কেন? ছাত্রদলের ছেলেরা বলছে, আপনারা তাদের প্রটেকশন দিচ্ছেন। আপনারা সবাই সামনে যান।’ এছাড়া, একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আজকে যেভাবে প্রতিরোধ করা হয়েছে, এভাবে প্রতি মুহূর্ত, প্রতিদিন ও প্রতি মিনিটে তাদের প্রতিহত করা হবে।’

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় ঘটে এই ঘটনাটি।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় যে, হেলমেট পরে এবং হাতে প্লাস্টিকের পাইপ নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তর্ক করছেন যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন। যদিও পুলিশ কর্মকর্তা যুবদল নেতাকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন, তবুও তিনি উচ্চস্বরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, বেলা ১১টা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের কারণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায়ও। এদিন বিকেলের দিকে পুরান ঢাকার ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় অবস্থান নেন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন।

এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের হামলায় অর্থাৎ ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, বাম সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৭০ জন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

এছাড়াও, ঢাকা কলেজে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২ তে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনাও আলোচনা সভার প্রস্তুতি চলছিল। সংবর্ধনার সময় শিবির ও ছাত্রদল সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহত এক শিক্ষার্থীকে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরে, এদিন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায়ও ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদল সংঘাতে জড়িয়ে পরে। এতে অধ্যক্ষসহ মোট ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%