প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ঘটনায়, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা না দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা বাদশা মিয়া (৫০)কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ছেলে মহিউদ্দিন, শ্বশুর মতিন মিয়া, শাশুড়ি ঝর্ণা বেগম ও ননদের স্বামী হৃদয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের কাইল্লা মিস্ত্রির বাড়িতে এই নির্মম ঘটনা ঘটে। বুধবার রাত ২টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বিষয়টি জনসমক্ষে নিশ্চিত করেন।
নিহতের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম এবং তার স্বজনদের অভিযোগ, এক বছর আগে সামাজিক এবং ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী তাদের মেয়ে ময়না আক্তারের সঙ্গে দেবিদ্বার উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের বিয়ে হয়। তবে, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ময়নাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন এবং পরিবারের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে শ্বশুর মতিন মিয়া, শাশুড়ি ঝর্ণা বেগম এবং ননদের স্বামী হৃদয় নাল্লা গ্রামে বাদশা মিয়ার বাড়িতে আসেন। সেই সময় পঞ্চমাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে বাদশা মিয়াকে মারধর করা হয় এবং মতিন মিয়া তার তলপেটে লাথি মারেন। এর ফলস্বরূপ, তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তিনজনকে আটক করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় অঞ্চলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের মেয়ে ময়নার বান্ধবী ও প্রতিবেশী তাসমিম জাহান নির্জনা বলেন, "এই ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও ন্যাক্কারজনক। আমি জানি, আমার বান্ধবী দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল।
তার আর্থিক অবস্থা খারাপ হলে আজ তার বাবার হত্যার খবর পাই। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে ময়নার জীবনের নিরাপত্তা এবং তার গর্ভের শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এ ধরনের যৌতুক জনিত নির্যাতন এবং সহিংসতার শিকার না হয়, তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
ব্রাহ্মণপাড়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার স্থান থেকে শ্বশুরবাড়ির তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন