বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:২৭ এম
দেশের রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে প্রাণহানি ঘটছে। চলতি বছরের জুলাই আন্দোলনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ২১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক সহিংসতা কমার আশা ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ে সহিংসতা বেড়ে গিয়েছে। দেশের রাজনৈতিক সংঘাতে এক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আরেক দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের চেয়ে অত্যন্ত বেশি মধ্যে একই দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলে প্রাণহানি ঘটছে। মূলত প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে।
উপরোক্ত সূত্র অনুযায়ী, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দুই বছরে দেশে সহিংসতার অনেক ঘটনার উদ্ভব হয়েছে। বিশেষভাবে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে, ২২ মাসের মধ্যে ৯৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৭৯৫ জন আহত এবং ২১৩ জন নিহত হয়েছে। এই রাজনৈতিক সহিংসতার অধিকাংশ বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ৪৯৪টি ঘটনায় ৫ হাজার ৫৮১ জন আহত এবং ১১৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। দীর্ঘদিন পর ক্ষমতার বলয়ে আসা বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া, দলীয় নেতৃত্বের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতি অতি সংকটাপন্ন করে তুলেছে। পুলিশকে সংঘর্ষ থামানোর দায়িত্ব পালন করতে বলা হলেও তারা মনোবল সংকটে থাকায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। পুলিশের উপর হামলার কোনো বিচার না হওয়া এবং পুলিশ হত্যার বিচার না হওয়ায় তাদের মনোবল কমে গেছে।
সূত্র জানায়, বিগত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে নরসিংদীর সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচদোনা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক নিহত হন। এরপর ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নিহত হন। একই বছরের ২১ মার্চ চট্টগ্রামের খুলশীতে ইফতার বিতরণ এবং ঈদ শুভেচ্ছা ব্যানার টানানোর ঘটনায় বিএনপির দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন ছাত্রদল নেতা প্রাণ হারান। চলতি ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় নির্বাচন ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিহত হন।
গত ২৩ মার্চ কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ১৬৪টি সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। এই ঘটনাগুলিতে মোট ১২ জন মারা গেছে এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫২৫ জন। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১১১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ৪১ জন নিহত ও ১ হাজার ১০৬ জন আহত হয়েছেন।
দেশের রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। পুলিশের ওপর হামলার ক্ষেত্রেও অনেক সময় সব দল এক হয়ে হামলা করছে। জুলাই আন্দোলনে পুলিশের হত্যার বিচার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের ওপর হামলা বাড়ছে, যেখানে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি সকলেরই আগ্রহ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, পুলিশের হামলার শিকার হওয়ার একটি বড় কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রযোজ্য বল প্রয়োগের স্ট্যান্ডার্ড রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অনুসরণ করছে পুলিশ। জনসাধারণকেও আইন মানার রাস্তায় উল্লেখযোগ্যভাবে সচেতন হতে হবে। পুলিশের ওপর হামলার প্রতিটা ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে এবং যারা হামলা করেছেন তাদের অনেকেই গ্রেফতার হয়েছেন। এখনও যারা গ্রেফতার হননি, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। বর্তমানে পুলিশ বেশ চাঙা, তবে জনগণের আইন মানার প্রবণতা বাড়ালে পুলিশ আরও শক্তিশালী হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে তৎপরতা চালাচ্ছে পেশাদার খুনি এবং চুক্তিভিত্তিক কিলার গ্রুপগুলো। এই কারণে খুনোখুনি বাড়ছে। চলতি বছরের গত ৬ মাসে রাজধানীতে ১২২টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডই চুক্তিভিত্তিক শুটারদের মাধ্যমে প্রকাশ্য ও চোরাগুপ্তা হামলায় সংঘটিত হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর অপরাধ জগৎ কয়েকটি কিলার গ্রুপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া কিংবা বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আড়ালে থেকে কিলারদের নির্দেশনা দিচ্ছে। মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ফুটপাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চাঁদাবাজি, মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। রাজধানীতে এখন অর্ধশতাধিক পেশাদার কিলার গ্রুপ হত্যাকাণ্ডগুলোর সাথে যুক্ত রয়েছে। এই তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে ঢাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ একটি ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অবস্থান করছে। পেশাদার খুনি এবং চুক্তিভিত্তিক কিলার গ্রুপগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে সন্ত্রাসীরা নিজেদের খুনের শিকারও হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, ভাসানটেক, কাফরুল, বাড্ডা, সবুজবাগ এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় কিলারদের সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। পেশাদার কিলারদের কাছে অত্যাধুনিক বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের দুটি ধরনের অস্ত্র রয়েছে। মালবাহী পরিবহনের মাধ্যমে সীমান্ত দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করছে এসব ছোট অস্ত্রগুলো। চলতি বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া পুলিশ এবং যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৭৬টি পিস্তল, ৩০টি শুটার গান, ৩৩টি এলজি এবং অন্যান্য ভারী আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন দেশে বসে ঢাকার ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের ফোনে হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা না দিলেই পেশাদার কিলারদের দিয়ে তাদের উপর আচরণ করা হচ্ছে। পেশাদার অপরাধীদের হাতে জুলাই আন্দোলনকালে বিভিন্ন থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনও আছে। পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩৭৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৪৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অস্ত্র ও গুলির ব্যবহার চুক্তিভিত্তিক কিলিং মিশনে বাড়ছে। সীমান্ত গলে ঢাকায় অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রবেশ করছে। আন্তর্জাতিক অস্ত্র কারবারিরা দেশের ১৭ থেকে ৩০টি প্রধান রুটের মাধ্যমে অস্ত্র পাচার করছে। কিলারদের কাছে থাকা ছোট আগ্নেয়াস্ত্র মূলত যশোরের বেনাপোল, শার্শা, চৌগাছা এবং দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অরক্ষিত সীমান্তপথও অস্ত্র চোরাচালানের প্রধান ট্রানজিট। রাজশাহী ও নওগাঁ হয়ে সেগুলো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। মিয়ানমার ও ভারতের মিজোরাম সীমান্তের মাধ্যমে ভারী অস্ত্র, সাব-মেশিনগান এবং হ্যান্ড গ্রেনেড টেকনাফ এবং উখিয়া রুট দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে।
এদিকে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে কঠোরভাবে তাদের দমন করা জরুরি। সেক্ষেত্রে, শুধু নিয়মিত মামলার পরিসংখ্যান দিয়ে ঢাকার এই গভীর অপরাধ চক্রকে আড়াল করা যাবে না। বরং ভাড়াটে শুটারদের নতুন তৎপরতা ঠেকাতে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করা জরুরি।
অন্যদিকে গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ মিরপুর-১৩ এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চুক্তিভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিপক্ষ এক রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তি (সুপারি) করা হয়েছিল। সফল মিশনের জন্য ঝিনাইদহ ও মাগুরা অঞ্চল থেকে ৪ জন পেশাদার শুটারকে ঢাকায় ভাড়া করে আনা হয়েছিল। হামলায় মূল টার্গেট অক্ষত থাকলেও গুলিতে প্রাণ হারান একজন। ওই ঘটনায় জড়িত শুটারসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে হবে এবং আলোকসজ্জা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে জারি করা এক স্মারকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১২ আগস্ট থেকেই বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
এর আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, যা ১১ জুন জারি করা হয়েছিল, শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এই সময়সীমা এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা নির্ধারণ করা হলো।
স্মারকে আরো বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান ও অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে। এসব আয়োজন রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকানসহ জরুরি সেবাগুলোর জন্য এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মো. মামুন ভূঁইয়ার সই করা স্মারকে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করা, আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা এবং মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে, এই তথ্যটি পাকিস্তানের সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে।
পাকিস্তান সরকারের সূত্রগুলো বুধবার (১২ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, ‘মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষই মধ্যস্থতাকারীদের কাছে সম্মতি জানিয়েছে।’ তবে কত দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিজেদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে বলেও তিনি জানান।
এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে ১৭ জুন দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করে।
নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটটি হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা পরবর্তী সময়ে স্থবির হয়ে পড়ে। এর জেরে ৮ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে।
ওই সময় ওয়াশিংটন ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। জবাবে তেহরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ায় আবাসিক এলাকা এবং বিদেশিদের বসবাসের প্রধান হটস্পটগুলোতে দুই দিনের বিশেষ অভিযানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ৪৩ জন বিদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটকদের মধ্যে সাড়ে চারশ জনেরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, ১০ ও ১১ আগস্ট দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে মোট ৩ হাজার ৩০৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র যাচাই করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৮৮০ জন পুরুষ এবং ১৬৩ জন নারী। তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে নির্ধারিত।
দ্য স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আটকদের মধ্যে মোট ৪৬০ জন বাংলাদেশি। বাংলাদেশিদের মধ্যে ৩৬৯ জন পুরুষ এবং ৯১ জন নারী রয়েছেন। এ ছাড়া ৩২৮ জন ইন্দোনেশীয়, ১৮৬ জন মিয়ানমারের নাগরিক, ৫৫ জন ভারতীয় পুরুষ, ২২ জন নেপালি পুরুষ এবং অন্যান্য দেশের ১৪৩ জন নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
জাকারিয়া শাবান বলেন, জনগণের অভিযোগ, ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে প্রাপ্ত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আবাসিক এলাকাগুলোকে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্বচিত করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় কিছু এলাকায় বিদেশিদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগের কারণে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাকারিয়া আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগের পর দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রতিদিন পাঁচটিরও বেশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আটকদের নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জাকারিয়া জানিয়েছেন।
অভিযানে কয়েকটি শিশুকেও তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে পাওয়া গেছে। চিহ্নিত অপরাধের মধ্যে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা, পাসের শর্ত লঙ্ঘন এবং স্বীকৃত নয়—এমন কার্ড বহন করা অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া অভিযানের সময় ৪৫ জন মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। নথিপত্রহীন বিদেশিদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে বাড়ি বা সম্পত্তির মালিকদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হবে।
নথিপত্রহীন বিদেশিদের চলমান মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রামের সুবিধা নেয়ার আহ্বান জানান জাকারিয়া। এই কর্মসূচির আওতায় তারা স্বেচ্ছায় ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে আত্মসমর্পণ করে ৫০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত জরিমানা দিয়ে নিজেদের দেশে ফিরতে পারবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ