প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীতে তৎপরতা চালাচ্ছে পেশাদার খুনি এবং চুক্তিভিত্তিক কিলার গ্রুপগুলো। এই কারণে খুনোখুনি বাড়ছে। চলতি বছরের গত ৬ মাসে রাজধানীতে ১২২টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডই চুক্তিভিত্তিক শুটারদের মাধ্যমে প্রকাশ্য ও চোরাগুপ্তা হামলায় সংঘটিত হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর অপরাধ জগৎ কয়েকটি কিলার গ্রুপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া কিংবা বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আড়ালে থেকে কিলারদের নির্দেশনা দিচ্ছে। মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ফুটপাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চাঁদাবাজি, মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। রাজধানীতে এখন অর্ধশতাধিক পেশাদার কিলার গ্রুপ হত্যাকাণ্ডগুলোর সাথে যুক্ত রয়েছে। এই তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে ঢাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ একটি ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অবস্থান করছে। পেশাদার খুনি এবং চুক্তিভিত্তিক কিলার গ্রুপগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে সন্ত্রাসীরা নিজেদের খুনের শিকারও হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, ভাসানটেক, কাফরুল, বাড্ডা, সবুজবাগ এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় কিলারদের সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। পেশাদার কিলারদের কাছে অত্যাধুনিক বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের দুটি ধরনের অস্ত্র রয়েছে। মালবাহী পরিবহনের মাধ্যমে সীমান্ত দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করছে এসব ছোট অস্ত্রগুলো। চলতি বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া পুলিশ এবং যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৭৬টি পিস্তল, ৩০টি শুটার গান, ৩৩টি এলজি এবং অন্যান্য ভারী আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন দেশে বসে ঢাকার ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের ফোনে হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা না দিলেই পেশাদার কিলারদের দিয়ে তাদের উপর আচরণ করা হচ্ছে। পেশাদার অপরাধীদের হাতে জুলাই আন্দোলনকালে বিভিন্ন থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনও আছে। পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩৭৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৪৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অস্ত্র ও গুলির ব্যবহার চুক্তিভিত্তিক কিলিং মিশনে বাড়ছে। সীমান্ত গলে ঢাকায় অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রবেশ করছে। আন্তর্জাতিক অস্ত্র কারবারিরা দেশের ১৭ থেকে ৩০টি প্রধান রুটের মাধ্যমে অস্ত্র পাচার করছে। কিলারদের কাছে থাকা ছোট আগ্নেয়াস্ত্র মূলত যশোরের বেনাপোল, শার্শা, চৌগাছা এবং দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অরক্ষিত সীমান্তপথও অস্ত্র চোরাচালানের প্রধান ট্রানজিট। রাজশাহী ও নওগাঁ হয়ে সেগুলো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। মিয়ানমার ও ভারতের মিজোরাম সীমান্তের মাধ্যমে ভারী অস্ত্র, সাব-মেশিনগান এবং হ্যান্ড গ্রেনেড টেকনাফ এবং উখিয়া রুট দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে।
এদিকে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে কঠোরভাবে তাদের দমন করা জরুরি। সেক্ষেত্রে, শুধু নিয়মিত মামলার পরিসংখ্যান দিয়ে ঢাকার এই গভীর অপরাধ চক্রকে আড়াল করা যাবে না। বরং ভাড়াটে শুটারদের নতুন তৎপরতা ঠেকাতে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করা জরুরি।
অন্যদিকে গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ মিরপুর-১৩ এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চুক্তিভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিপক্ষ এক রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তি (সুপারি) করা হয়েছিল। সফল মিশনের জন্য ঝিনাইদহ ও মাগুরা অঞ্চল থেকে ৪ জন পেশাদার শুটারকে ঢাকায় ভাড়া করে আনা হয়েছিল। হামলায় মূল টার্গেট অক্ষত থাকলেও গুলিতে প্রাণ হারান একজন। ওই ঘটনায় জড়িত শুটারসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন