ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গত নয় মাসে ৪১০টি অপতথ্য ছড়িয়েছে: প্রেস সচিব


প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গত নয় মাসে ৪১০টি অপতথ্য ছড়িয়েছে: প্রেস সচিব

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে, এমন তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।

তিনি আরো জানান, একই সময়ের মধ্যে বিএনপিকে ঘিরে ১১৮টি এবং বর্তমান সরকারকে কেন্দ্র করে ৪৫১টি অপতথ্য ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। একটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনি এই তথ্য উপস্থাপন করেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংগঠনটির নতুন সদস্যদের বরণ অনুষ্ঠান-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা

সালেহ শিবলী উল্লেখ করেন, অপতথ্য এবং গুজব সাংবাদিকতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই কারণে মানুষ এখনও গুরুত্বপূর্ণ খবরের সত্যতা যাচাই করতে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার ঘটেছে, তবে এর সঙ্গে দায়িত্বহীন আচরণও বেড়েছে। এর বিপরীতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এখনও মানুষের আস্থা ধরে রেখেছে। মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো খবর দেখার পর সেটি সঠিক কিনা, তা যাচাই করতে টেলিভিশন ও প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রের খবরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেল ও গণমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য যাচাইবিষয়ক অনুষ্ঠান চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি অনুষ্ঠানও মানুষকে সঠিক তথ্য শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, কখনো কখনো বড় সংবাদমাধ্যমও যাচাই না করে ভুয়া ছবি বা তথ্য প্রচারের ঝুঁকিতে পড়ে। তাই কোনো তথ্য প্রচারের আগে সেটির সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সালেহ শিবলী আরো বলেন, অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় একটি কার্যকর আইন থাকা প্রয়োজন। তবে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন বা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সময়ের প্রয়োজনে আইনের সংশোধন, সংযোজন বা পরিবর্তনের সুযোগও থাকতে হবে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে না জানা অনেক মানুষও অপতথ্যের শিকার হন। তারা নিজেরা এর প্রতিবাদ জানাতে বা প্রতিকার চাইতে সক্ষম নাও হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সবার জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ডিআরইউ’র নতুন সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, সংগঠনের ঐক্য ধরে রাখা জরুরি। মতভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার মধ্যদিয়ে অভিন্ন লক্ষ্যে পৌঁছানোই একটি সংগঠনের সৌন্দর্য। সাংবাদিকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা আদর্শকে সমর্থন করা সাংবাদিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। তবে ব্যক্তিগত বা দলীয় বিশ্বাস যেন সত্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব হচ্ছে যা সত্য, তা তুলে ধরা। সরকারের ভালো উদ্যোগের ইতিবাচক দিক যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনি কোথাও অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে সেটিও প্রকাশ করতে হবে। তবে কোনো বিচ্ছিন্ন অনিয়মকে কেন্দ্র করে সামগ্রিক উদ্যোগের ইতিবাচক দিক আড়াল করা উচিত নয়।

সালেহ শিবলী আরও বলেন, দেশে এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যেখানে ধর্ম, মতাদর্শ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না। সব নাগরিকের সমান অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে ডিআরইউ’র নতুন সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি সংগঠনটির ঐতিহ্য ও ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাইনুল হাসান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম। আরও বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ’র সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান, সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দপ্তর সম্পাদক মো. রাশিম (রাশিম মোল্লা), ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরী ও মো. আব্দুল আলীম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিগামী ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে ১৬৬২০ যাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২২ এম


সৌদিগামী ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে ১৬৬২০ যাত্রী

ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে ১০৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে দেশে আটকা পড়েছেন ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী।

গতকাল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া, ভারতীয় বেসরকারি বিমান পরিচালনা সংস্থা ইন্ডিগো আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবগামী সকল ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

বেবিচক জানায়, বাতিল হওয়া ১০৭টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪৪টি সরাসরি এবং ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া, ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ট্রানজিট ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইন্ডিগো জানিয়েছে যে, সৌদি আরবের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনা থেকে যাওয়া-আসার ফ্লাইট ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে সৌদিগামী যাত্রীদের বহনকারী ইন্ডিগোর ২২টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।

ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের মধ্যে বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা বেশি বিপাকে পড়েছেন।

তবে জরুরি পরিস্থিতিতে কর্মীদের বিকল্প পথে সৌদি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনে নতুন উদ্যোগ, ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ধারণা জমা দিতে আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২২ এম


টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনে নতুন উদ্যোগ, ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ধারণা জমা দিতে আহ্বান

সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ ‘স্ফুরণ-টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের সন্ধানে’ শীর্ষক একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে উদ্ভাবনী ধারণা খুঁজতে সহায়তা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের পেশাজীবীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী সকলকে আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে তাদের উদ্ভাবনী ধারণা জমা দিতে হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সহযোগিতায়। জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জিআইজেড কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ১৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ধারণা আহ্বান করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগ রয়েছে। গ্রুপ ‘এ’-তে দেশের যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিভাগের দুই শিক্ষার্থী মিলে দল গঠন করে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘বি’-তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পেশাজীবীরা এককভাবে অংশ নিতে পারবেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ, স্মার্ট সৌর সেচ, অফ-গ্রিড ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ গ্রিডের আধুনিকায়ন, জ্বালানি সংরক্ষণ, বায়ুবিদ্যুৎ, দেশীয় সৌর প্যানেল ও ইনভার্টার উৎপাদন এবং কৃষিজমির সাশ্রয়ী ব্যবহারে এগ্রি-পিভি ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে ধারণা জমা দেওয়া যাবে।

অন্য বিভাগে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন রান্নার ব্যবস্থা, জ্বালানি দক্ষতা পর্যবেক্ষণের ডিজিটাল সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যান ও চার্জিং ব্যবস্থা, ভবনের জ্বালানি দক্ষতা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী শীতলীকরণ, চাহিদা ব্যবস্থাপনা, পুরোনো স্থাপনা ও ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আচরণগত পরিবর্তন ও নীতিগত প্রস্তাবনা নিয়ে ধারণা জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের তাদের ধারণার ব্যাখ্যা দিয়ে সর্বোচ্চ এক হাজার শব্দের একটি কনসেপ্ট নোট এবং ধারণার বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরে তিন মিনিটের একটি ভিডিও জমা দিতে হবে।

আগ্রহী অংশগ্রহণকারীরা https://seideacontest2026.sreda.gov.bd/ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন ও তাদের উদ্ভাবনী ধারণা জমা দিতে পারবেন।

স্রেডার চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং এ লক্ষ্য অর্জনে নতুন ও বাস্তবসম্মত ধারণা পেতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভাবনী ধারণা তৈরি করছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করছে। তরুণদের এসব গবেষণালব্ধ ধারণা কাজে লাগিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা ও সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরতে চায় স্রেডা। এসব ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে রসিকতা, মানবাধিকার কর্মীদের সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ এম


ট্রাম্পের ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে রসিকতা, মানবাধিকার কর্মীদের সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম বিশ্বে বহুল প্রচলিত ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে রসিকতা করেছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় জর্জিয়ার ডালটনে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ইরানি প্রেসিডেন্ট পদকে কটাক্ষ করতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা জানেন, মধ্যপ্রাচ্যে কারো নাম নিয়ে যদি সন্দেহ থাকে, তাহলে শুধু ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকুন। এতে ৬৫ শতাংশ সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ‘হ্যালো, মোহাম্মদ!’ আমি বছরের পর বছর ধরে এটা করে আসছি, কখনোই ভুল হয়নি।"

মোহাম্মদ মুসলিম পুরুষদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় নাম। ইসলামের প্রবর্তক নবী মুহাম্মদের নাম অনুসারে মুসলিমরা তাদের ছেলেদের এই নাম দেন।

আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য রিপাবলিকান রাজনৈতিক প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণায় নেমেছেন ট্রাম্প। তিনি জর্জিয়ার ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত জনসভায় ইরান নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, "ইরানই একমাত্র দেশ যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।" এরপর তিনি মোহাম্মদ নামের বেশ কয়েকজনকে প্রেসিডেন্ট হতে চান কিনা, তা জিজ্ঞেস করার ভান করেন। ২০২৪ সাল থেকে মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ট্রাম্পের এই রসিকতায় জর্জিয়ায় সাড়া ছিল খুবই সামান্য।

মানবাধিকার কর্মী এবং মুসলিম প্রতিনিধিত্বকারী গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের কথায় মুসলিম, অভিবাসী এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের হেয় প্রতিপন্ন ও উপহাস করা হয়েছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণার মৌসুমে ট্রাম্প এ ধরনের বাগাড়ম্বর বক্তব্য আরও বাড়িয়েছেন। বিশেষ করে সোমালি ও মুসলিম আমেরিকানদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মুসলিম ডেমোক্র্যাটিক মার্কিন সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ এবং মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি ইলহান ওমর, যিনি সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, তাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পর্নোগ্রাফির আসক্তির ক্ষতি ও মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


পর্নোগ্রাফির আসক্তির ক্ষতি ও মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা

পর্নোগ্রাফি দেখা অনেকের কাছে নিছক বিনোদন বা ব্যক্তিগত অভ্যাস হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু যখন এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন এটি কাজ, পড়াশোনা, মানসিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদি কেউ বারবার কমানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন, মানসিক চাপ সামলাতে পর্নের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন কিংবা দৈনন্দিন দায়িত্ব অবহেলা করেন, তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তবে নিয়মিত পর্ন দেখার ফলে কেউ আসক্ত হয়ে পড়েন বা এর ফলে মস্তিষ্ক ও যৌন সক্ষমতার ক্ষতি হয়— এমন দাবির পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্ন ব্যবহারের পরিমাণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, এটি ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলছে।

ব্রিটিশ বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘বিবিসি সায়েন্স ফোকাস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের প্রভাব, আসক্তি নিয়ে বিতর্ক এবং এ অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন উপায় তুলে ধরা হয়েছে।

কখন পর্ন দেখা সমস্যা হয়ে ওঠে

পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের ফলে দৈনন্দিন কাজের ব্যাঘাত, বারবার চেষ্টা করেও অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা কিংবা উদ্বেগ ও একাকিত্ব সামলানোর প্রধান উপায় হিসেবে পর্নের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া সমস্যাজনক ব্যবহারের লক্ষণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকোর মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক জশুয়া গ্রাবসের গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা পর্ন দেখাকে নৈতিকভাবে ভুল মনে করেন, তাদের মধ্যে নিজেদের এ অভ্যাসে আসক্ত মনে করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। পর্ন ব্যবহারের পরিমাণ কম হলেও এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

গবেষকেরা এ অবস্থাকে ব্যক্তির নৈতিক বিশ্বাস ও আচরণের মধ্যে অসামঞ্জস্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এ ধরনের দ্বন্দ্ব থেকে অপরাধবোধ ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, পর্ন ব্যবহারের কারণে বাস্তব জীবনে সমস্যা তৈরি হয় না। বরং অভ্যাসটির কারণে দৈনন্দিন কাজে ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

কী কী ক্ষতি হতে পারে

দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত: পর্ন দেখার জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় হলে কাজ, পড়াশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব অবহেলিত হতে পারে। বারবার দেখার তাগিদ তৈরি হলে সময় ব্যবস্থাপনাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব: কেউ কেউ উদ্বেগ, একাকিত্ব কিংবা মানসিক চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে পর্ন দেখেন। কিন্তু এতে সমস্যার মূল কারণ দূর হয় না। বরং একইভাবে বারবার মানসিক চাপ সামলানোর চেষ্টা করলে অভ্যাসটির ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।

সম্পর্কে টানাপোড়েন: সঙ্গীর কাছে পর্ন দেখার বিষয়টি গোপন রাখা, এ নিয়ে মতবিরোধ কিংবা যৌন চাহিদা ও প্রত্যাশার অমিল সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে পারে। তবে পর্ন দেখলেই যৌন সক্ষমতা কমে যায় বা সম্পর্ক নষ্ট হয়— এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে গবেষণায় যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

অপরাধবোধ ও আত্মবিশ্বাসের সংকট: নিজের আচরণকে ভুল মনে করে কেউ কেউ লজ্জা, অপরাধবোধ ও আত্মঘৃণায় ভুগতে পারেন। এতে মানসিক অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মদোষারোপের পরিবর্তে অভ্যাসটির কারণ ও প্রভাব বোঝার চেষ্টা করা বেশি কার্যকর।

পর্নো-আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

অভ্যাসের কারণ শনাক্ত করা: কোন পরিস্থিতিতে পর্ন দেখার প্রবণতা বাড়ে, তা খেয়াল করা জরুরি। একাকিত্ব, একঘেয়েমি, উদ্বেগ কিংবা মানসিক চাপের সময় এ প্রবণতা বাড়ে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করলে অভ্যাস পরিবর্তনের পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ: পর্ন দেখার পেছনে কতটা সময় ব্যয় হচ্ছে এবং এর কারণে কোন কাজগুলো ব্যাহত হচ্ছে, তা হিসাব করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে ব্যবহারের সময় কমিয়ে আনা এবং অবসর সময়ে বিকল্প কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করা সহায়ক হতে পারে।

মানসিক চাপ মোকাবিলা: উদ্বেগ বা মন খারাপের সময় পর্নের ওপর নির্ভর না করে সমস্যার মূল কারণ সমাধানের চেষ্টা করা প্রয়োজন। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং স্বাস্থ্যকর বিনোদনে যুক্ত থাকা মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ: একবারেই অভ্যাসটি পুরোপুরি বন্ধ করার কঠোর সিদ্ধান্ত সবার জন্য কার্যকর নাও হতে পারে। নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। কোনো দিন লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে নিজেকে ব্যর্থ ভাবার পরিবর্তে কেন এমন হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া: বারবার চেষ্টা করেও অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে কিংবা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক কষ্ট তৈরি হলে প্রশিক্ষিত মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা

অল্প বয়সে পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। পর্নে উপস্থাপিত যৌনতা বাস্তব সম্পর্কের নির্ভরযোগ্য প্রতিচ্ছবি নয়। শিশু-কিশোরেরা বিষয়টি বুঝতে না পারলে যৌনতা ও সম্পর্ক নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। এ কারণে বয়সোপযোগী যৌনশিক্ষা, পারস্পরিক সম্মতি, শ্রদ্ধা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্নোগ্রাফি ব্যবহার নিয়ে অযথা ভয় বা আত্মদোষারোপ না করে এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অভ্যাসটি যদি ব্যক্তির কাজ, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতায় বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়াই হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%