০৯:১৯ এম
ঋণ মানুষের জীবনে একটি কঠিন বাস্তবতা হিসেবে উপস্থিত থাকে। কখনো অভাব ও অনটনের কারণে, কখনো পারিবারিক প্রয়োজনের জন্য, আবার কখনো ব্যবসায়িক ক্ষতির ফলস্বরূপ মানুষ ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়ে। এক সময় এই ঋণ তার মানসিক প্রশান্তি কেড়ে নেয়, দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন করে রাখে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনকে কঠিন করে তোলে। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি প্রতিনিয়ত চিন্তা করেন—কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন, কীভাবে পাওনাদারের অধিকার আদায় করবেন এবং কীভাবে এই অসহনীয় বোঝা থেকে মুক্তি পাবেন।
ইসলাম ঋণ পরিশোধের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। একই সঙ্গে ঋণের বোঝায় বিপর্যস্ত মানুষকে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে এবং তাঁর ওপর ভরসা রাখতে শিখিয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া মুমিনদের জন্য বিশেষ অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সাহাবি মুয়াজ (রা.)-কে এমন একটি দোয়া শিখিয়েছেন, যার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে উহুদ পাহাড়সম ঋণ পরিশোধের জন্যও আল্লাহ সাহায্য করতে পারেন। দোয়াটি হলো,
اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، رَحْمَنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَرَحِيمَهُمَا، تُعْطِيهِمَا مَنْ تَشَاءُ وَتَمْنَعُ مِنْهُمَا مَنْ تَشَاءُ، ارْحَمْنِي رَحْمَةً تُغْنِينِي بِهَا عَنْ رَحْمَةِ مَنْ سِوَاكَ
আরও পড়ুন: মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা মালিকাল মুলকি, তু’তিল মুলকা মান তাশা-উ, ওয়া তানযি‘উল মুলকা মিম্মান তাশা-উ, ওয়া তু‘ইয্জু মান তাশা-উ, ওয়া তুযিল্লু মান তাশা-উ। বি ইয়াদিকাল খাইরু, ইন্নাকা ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর। রাহমানাদ দুনইয়া ওয়াল আখিরাতি ওয়া রাহীমাহুমা, তু‘তীহিমা মান তাশা-উ, ওয়া তামনা‘উ মিনহুমা মান তাশা-উ। ইরহামনী রাহমাতান তুগনীনি বিহা ‘আন রাহমাতি মান সিওয়াক।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! রাজত্বের মালিক! আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজত্ব কেড়ে নেন। আপনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন। সমস্ত কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।
হে দুনিয়া ও আখিরাতের পরম করুণাময়, উভয় জগতের অসীম দয়ালু! আপনি যাকে ইচ্ছা এ দুই জগতের কল্যাণ দান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা তা বঞ্চিত রাখেন। আপনি আমার প্রতি এমন রহমত বর্ষণ করুন, যার মাধ্যমে আমি আপনি ছাড়া অন্য কারও রহমতের মুখাপেক্ষী না থাকি।’ (তবরানি, হাদিস : ৫৫৮, আত-তারুগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৫৫)
আরও পড়ুন: চন্দ্রপাড়া দরবারে অসচ্ছলদের সহায়তা ও ওরসের তারিখ ঘোষণা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন