প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে প্রাণহানি ঘটছে। চলতি বছরের জুলাই আন্দোলনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ২১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক সহিংসতা কমার আশা ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ে সহিংসতা বেড়ে গিয়েছে। দেশের রাজনৈতিক সংঘাতে এক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আরেক দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের চেয়ে অত্যন্ত বেশি মধ্যে একই দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলে প্রাণহানি ঘটছে। মূলত প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে।
উপরোক্ত সূত্র অনুযায়ী, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দুই বছরে দেশে সহিংসতার অনেক ঘটনার উদ্ভব হয়েছে। বিশেষভাবে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে, ২২ মাসের মধ্যে ৯৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৭৯৫ জন আহত এবং ২১৩ জন নিহত হয়েছে। এই রাজনৈতিক সহিংসতার অধিকাংশ বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ৪৯৪টি ঘটনায় ৫ হাজার ৫৮১ জন আহত এবং ১১৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। দীর্ঘদিন পর ক্ষমতার বলয়ে আসা বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া, দলীয় নেতৃত্বের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতি অতি সংকটাপন্ন করে তুলেছে। পুলিশকে সংঘর্ষ থামানোর দায়িত্ব পালন করতে বলা হলেও তারা মনোবল সংকটে থাকায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। পুলিশের উপর হামলার কোনো বিচার না হওয়া এবং পুলিশ হত্যার বিচার না হওয়ায় তাদের মনোবল কমে গেছে।
সূত্র জানায়, বিগত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে নরসিংদীর সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচদোনা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক নিহত হন। এরপর ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নিহত হন। একই বছরের ২১ মার্চ চট্টগ্রামের খুলশীতে ইফতার বিতরণ এবং ঈদ শুভেচ্ছা ব্যানার টানানোর ঘটনায় বিএনপির দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন ছাত্রদল নেতা প্রাণ হারান। চলতি ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় নির্বাচন ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিহত হন।
গত ২৩ মার্চ কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ১৬৪টি সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। এই ঘটনাগুলিতে মোট ১২ জন মারা গেছে এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫২৫ জন। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১১১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ৪১ জন নিহত ও ১ হাজার ১০৬ জন আহত হয়েছেন।
দেশের রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। পুলিশের ওপর হামলার ক্ষেত্রেও অনেক সময় সব দল এক হয়ে হামলা করছে। জুলাই আন্দোলনে পুলিশের হত্যার বিচার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের ওপর হামলা বাড়ছে, যেখানে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি সকলেরই আগ্রহ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, পুলিশের হামলার শিকার হওয়ার একটি বড় কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রযোজ্য বল প্রয়োগের স্ট্যান্ডার্ড রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অনুসরণ করছে পুলিশ। জনসাধারণকেও আইন মানার রাস্তায় উল্লেখযোগ্যভাবে সচেতন হতে হবে। পুলিশের ওপর হামলার প্রতিটা ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে এবং যারা হামলা করেছেন তাদের অনেকেই গ্রেফতার হয়েছেন। এখনও যারা গ্রেফতার হননি, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। বর্তমানে পুলিশ বেশ চাঙা, তবে জনগণের আইন মানার প্রবণতা বাড়ালে পুলিশ আরও শক্তিশালী হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন