ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৮ জন


জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৮ জন

গত জুন মাসে দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন total ৪৩৮ জন। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৩১ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

রোববার (৫ জুলাই) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অবকাঠামো উন্নয়নে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে : সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী

জুন মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ১৪৫টি, যা মোট দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ। এ সময়ে পথচারী নিহত হয়েছেন ৯১ জন, যা মোট প্রাণহানির ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আরো জানা গেছে, ৫৭ জন চালক ও পরিবহন-সহকারীও প্রাণ হারিয়েছেন।

যানবাহনভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের পর সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে থ্রি-হুইলারে। এসব যানবাহনে ১১২ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও ট্রলিতে ৩৭ জন, বাসে ২৭ জন এবং প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সে ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

জুনে জাতীয় মহাসড়কে ১৫১টি, আঞ্চলিক সড়কে ১৯৪টি, গ্রামীণ সড়কে ৬৪টি এবং শহরের সড়কে ৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪৪ শতাংশ। এছাড়াও, ১০৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৯৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেয়ার ঘটনা এবং ৫৩টি দুর্ঘটনা সামনে থাকা যানবাহনের পেছনে ধাক্কা লাগার কারণে ঘটেছে।

আরও পড়ুন: জামায়াত নিজেদের কর্মীদের ছাড়া একজন ফকিরকেও ভিক্ষা দেয় না: মীর শাহে আলম

বিভাগভিত্তিক হিসেবে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঢাকা বিভাগে হয়েছে। সেখানে ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ৪৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে নিহত হয়েছেন ১৬ জন।

সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি জুন মাসে দেশের নৌপথেও ৯টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৭ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ২১টি রেল দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরো ৭ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে একাধিক কাঠামোগত ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে অনুপযোগী সড়ক, ত্রুটিযুক্ত যানবাহন, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, চালকদের দক্ষতার অভাব ও শারীরিক অসুস্থতা, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও ন্যায্য পারিশ্রমিকের অভাব, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১২ দফা সুপারিশও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে কার্যকর করা, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সংস্কার, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগে জোরদার করা, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং মহাসড়কে নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে চীনের নিয়ন্ত্রণে ভারতের 'অসহায়ত্ব', মোদি সরকার ব্যাকফুটে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ডিএমপির ৮৫৮ মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ পি.এম


রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ডিএমপির ৮৫৮ মামলা

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ মোট ৮৫৮টি মামলা করেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী আজ রবিবার (৫ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি জানান, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৩টি বাস, ২টি কাভার্ডভ্যান, ৬টি সিএনজি এবং ১০টি মোটরসাইকেল সহ মোট ৩৫টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৪টি বাস, ৪টি ট্রাক, ১টি কাভার্ডভ্যান, ১৭টি সিএনজি এবং ৩৩টি মোটরসাইকেল মিলিয়ে মোট ৮৯টি মামলা হয়েছে।

একইভাবে, ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ২টি বাস, ১টি ট্রাক, ৮টি কাভার্ডভ্যান, ১৬টি সিএনজি এবং ৪৬টি মোটরসাইকেল সহ মোট ৯২টি মামলা করা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩১টি বাস, ১১টি ট্রাক, ১৬টি কাভার্ডভ্যান, ৪৪টি সিএনজি এবং ৯১টি মোটরসাইকেল নিয়ে মোট ২৩৪টি মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ৮টি বাস, ২টি ট্রাক, ২টি কাভার্ডভ্যান, ১৬টি সিএনজি এবং ২৩টি মোটরসাইকেল সহ মোট ৭৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৩টি বাস, ৩টি ট্রাক, ৪টি কাভার্ডভ্যান, ১৪টি সিএনজি এবং ৮০টি মোটরসাইকেল নিয়ে মোট ১১৬টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ১১টি বাস, ৬টি ট্রাক, ৪টি কাভার্ডভ্যান, ৩৬টি সিএনজি এবং ৪৮টি মোটরসাইকেল সহ মোট ১৫৮টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৯টি বাস, ৪টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি এবং ১৮টি মোটরসাইকেলে মিলিয়ে মোট ৫৯টি মামলা আছে।

এছাড়াও, অভিযান চলাকালে মোট ৪১৮টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে এবং ৩৯৮টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এইসব অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর এলাকার ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও নিশ্চিত করেছেন নিয়াজ মেহেদী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন দিন ধরে সমুদ্রে ভাসছে ট্রলার, উদ্ধারের অপেক্ষায় ১৭ জেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ পি.এম


তিন দিন ধরে সমুদ্রে ভাসছে ট্রলার, উদ্ধারের অপেক্ষায় ১৭ জেলে

বরগুনার পাথরঘাটা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের দুবলার চরসংলগ্ন এলাকায় মাছ শিকারে গিয়ে এফবি জাহান ট্রলারের সেফ (পাখা) ভেঙে ট্রলারটি বিকল হয়ে পড়েছে। এর ফলস্বরূপ গত তিন দিন ধরে ট্রলারটি সাগরে ভাসছে এবং এতে থাকা ১৭ জন জেলে চরম বিপদে রয়েছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে বরগুনা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে ট্রলারের মালিক মো. বেল্লাল হোসেন বিষয়টি সমিতির সভাপতিকে জানান।

জানা গেছে, পাঁচ দিন আগে পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাট থেকে ১৭ জন জেলেকে নিয়ে এফবি জাহান ট্রলারটি গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ট্রলারে থাকা জেলেদের সবাই পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ট্রলার মালিকের বরাত দিয়ে বলেন, যাত্রার তিন দিন পর ট্রলারের সেফ (পাখা) ভেঙে যায়, ফলে এটি বিকল হয়ে পড়ে। এরপর ট্রলারটি সাগরে ভাসতে ভাসতে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এলে জেলেরা মালিককে ফোনে বিষয়টি জানান এবং উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করেন।

তিনি আরও বলেন, ভাসমান জেলেদের উদ্ধারের জন্য কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোনকে জানানো হয়েছে এবং তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি মৎসমালিক সমিতির পক্ষ থেকেও উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪১ পি.এম


রাজধানীতে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

রাজধানী ঢাকা মিরপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে, এমন এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এই নেতার বিরুদ্ধে হত্যা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলা খোলা রয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিরপুরের দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারৃত ব্যক্তির নাম জহির, যিনি মিরপুরের দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বলেও পরিচিত।

এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, জহির ৫ আগস্টের পর ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হলেও তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে অবস্থান করছিলেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হকের ভাই মফিজুল ইসলাম বেবুর মাধ্যমে তার রাজনৈতিক হাতে খড়ি হয়।

ওসি হাফিজুর রহমান জানান, জহিরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিংয়ে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে সর্বশেষ একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। এই কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জহিরের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে আবাসন সংকটে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে আবাসন সংকটে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

গোপালগঞ্জের প্রতিনিধির তথ্য মতে, গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের জীবনযাত্রা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে আবাসন সংকট, অচল ফ্যান, সুপেয় পানির অভাব এবং জরাজীর্ণ ওয়াশরুমের কারণে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য তারা কলেজ কর্তৃপক্ষে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ হলো, গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল এখনও ২২০-২৪০ জনের আবাসনের ব্যবস্থা করেছে, অথচ সেখানে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এ কারণে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের অনেক শিক্ষার্থীকে কমনরুমে গণরুম তৈরি করে থাকতে হচ্ছে। একই কক্ষে ২২ থেকে ২৩ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করলেও সেখানে পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। অন্যান্য কক্ষগুলোর অধিকাংশ ফ্যান ও বৈদ্যুতিক বাল্বও নষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ।

এবং বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা লাইট সরকারিভাবে লাগিয়েছেন। এর ফলস্বরূপ প্রচণ্ড গরমে তাদের বসবাস এবং পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া, শুধু আবাসন সংকট নয়, বরং বয়েজ ও গার্লস উভয় হোস্টেলেই সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। একই সাথে ছয়তলা ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের ওয়াশরুমগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে প্রযুক্তিগত কারণে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, অনেক জায়গায় পাইপ ফেটে পানি ও মলমূত্র চুইয়ে পড়ছে। গত বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, কলেজের অধ্যক্ষের কাছে তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, আগামী সোমবার, ১০ জুলাইয়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না গ্রহণ করা হলে একাডেমিক ভবন অবরোধ, ক্লাস ও ওয়ার্ড বর্জন সহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হবে।

শিক্ষার্থীরা আরও উল্লেখ করেছেন, ৩০ জুন কলেজের একাডেমিক ভবনের হলরুমে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকে জরুরি সমস্যাগুলোর সমাধান দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কিছু হয়নি।

নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানানোর শর্তে তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দুইটি হোস্টেল বাহ্যিকভাবে দেখতে ফিটফাট, কিন্তু অভ্যন্তরীণ অবস্থা অর্ধশতক। শিক্ষার্থীদের মতে, পরিকল্পনার অভাবে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইস্তিয়াক রহমান ইশান বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার থেকে একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা দিয়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী হোস্টেল ছাড়লেও।'

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এম বি আসিফ খান জানান, ‘হোস্টেলের অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করেছে। কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আমাদের দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের দ্বারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।'

পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিমুর রহমান জিসান বলছেন, ‘বয়েজ ও গার্লস হোস্টেলের ওয়াশরুমগুলো ব্যবহারের উপযোগী নয়। কিছু জায়গায় পাইপ থেকে মলমূত্র চুইয়ে পড়ছে। এই পরিবেশে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে। সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোন পদক্ষেপ নেই। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত শশি বলেন, ‘হোস্টেলের বর্তমান পরিবেশে পড়াশোনা করা খুবই কষ্টকর। ধারণক্ষমতার বেশি শিক্ষার্থী থাকায় ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। ফলে আমাদের পড়াশোনার গতি ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমাদের দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।’

অভিযোগ সম্পর্কে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. গোলাম মোর্শেদ মোল্লা বলেন, ‘লেডিস হোস্টেলে আসন রয়েছে ২৪০টি। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ৩৫০-এর বেশি ছাত্রী অবস্থান করছে। মেডিকেল কলেজগুলোতে মেয়েদের ভর্তি বেশী হওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। আপাতত কমনরুমগুলোকে গণরুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ছেলে এবং মেয়েদের হোস্টেলে সমস্যা সমাধানে কাজ চলমান রয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের দাবি হলো, একটি মেডিক্যাল কলেজে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের জন্য এমন অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করা দুঃখজনক। আবাসন সংকট নিরসন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, নষ্ট ফ্যান ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মেরামত এবং ওয়াশরুম সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%