প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত জুন মাসে দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন total ৪৩৮ জন। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৩১ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
রোববার (৫ জুলাই) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
জুন মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ১৪৫টি, যা মোট দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ। এ সময়ে পথচারী নিহত হয়েছেন ৯১ জন, যা মোট প্রাণহানির ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আরো জানা গেছে, ৫৭ জন চালক ও পরিবহন-সহকারীও প্রাণ হারিয়েছেন।
যানবাহনভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের পর সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে থ্রি-হুইলারে। এসব যানবাহনে ১১২ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও ট্রলিতে ৩৭ জন, বাসে ২৭ জন এবং প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সে ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
জুনে জাতীয় মহাসড়কে ১৫১টি, আঞ্চলিক সড়কে ১৯৪টি, গ্রামীণ সড়কে ৬৪টি এবং শহরের সড়কে ৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪৪ শতাংশ। এছাড়াও, ১০৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৯৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেয়ার ঘটনা এবং ৫৩টি দুর্ঘটনা সামনে থাকা যানবাহনের পেছনে ধাক্কা লাগার কারণে ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসেবে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঢাকা বিভাগে হয়েছে। সেখানে ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ৪৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে নিহত হয়েছেন ১৬ জন।
সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি জুন মাসে দেশের নৌপথেও ৯টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৭ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ২১টি রেল দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরো ৭ জন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে একাধিক কাঠামোগত ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে অনুপযোগী সড়ক, ত্রুটিযুক্ত যানবাহন, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, চালকদের দক্ষতার অভাব ও শারীরিক অসুস্থতা, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও ন্যায্য পারিশ্রমিকের অভাব, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১২ দফা সুপারিশও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে কার্যকর করা, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সংস্কার, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগে জোরদার করা, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং মহাসড়কে নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন