ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, মূল্যস্ফীতি নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য


যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, মূল্যস্ফীতি নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ‘আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি’। হোয়াইট হাউজে সংবাদকিদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, "আমি এটা (মূল্যস্ফীতি) ভালোবাসি। সংখ্যাগুলো চমৎকার ছিল। জানেন আমি আসলে কী ভালোবাসি? আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি।"

তিনি তবে প্রতিশ্রুতি দেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে জিনিসপত্রের দাম কমে যাবে।

আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের একটি প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম গত মাসে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যুরো অফ লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় মে মাসে দাম ৪.২% বেড়েছে। এপ্রিলে ৩.৮% থেকে এই বৃদ্ধির মূল কারণ ছিল ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান খরচ। সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবসান অপেক্ষার, শুরু হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


অবসান অপেক্ষার, শুরু হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ

ফুটবলপ্রেমীদের চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার পর্দা উঠছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আসরের।

উত্তর আমেরিকার তিন পরাশক্তি, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাওয়া এই আসরটি ইতিমধ্যেই নাম লিখিয়েছে ইতিহাসের বৃহত্তম বিশ্বকাপ হিসেবে।

ফুটবল ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো টুর্নামেন্ট একই সাথে তিনটি ভিন্ন স্বাগতিক দেশে পৃথক ও যুগপৎ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।

১৬টি ভেন্যুতে রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচের এই সুবিশাল বৈশ্বিক মহাযজ্ঞ ১১ জুন মেক্সিকোর উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে শুরু করে আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের ফাইনাল পর্যন্ত পুরো বিশ্বকে বুঁদ করে রাখবে।

আগ ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও, কানাডার জন্য এটি একটি ল্যান্ডমার্ক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

এই তিন দেশের কৃষ্টি, বৈচিত্র্য এবং সংস্কৃতিকে এক সুতোয় বাঁধতে অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিখ্যাত ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মার্কো বালিচ তৈরি করেছেন এক জাদুকরী ও আন্তঃসংযুক্ত থিম।

প্রতিটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট দেশের প্রথম ম্যাচ শুরুর ঠিক ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে।

উদ্বোধনী মঞ্চে মেক্সিকোকে দেখা যাবে ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্পে, কানাডাকে তাদের বহুসাংস্কৃতিক ‘কালচারাল মোজাইক’ রূপে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বালিশের ভাষায় একটি ‘চকমকে ও উজ্জ্বল ট্রফি’র আলোকচ্ছটায়।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, সঙ্গীত, সংস্কৃতি এবং ফুটবলের এই যুগলবন্দী প্রতিটি দেশের নিজস্বতা ও টুর্নামেন্টের ঐক্যকে অনন্যভাবে ফুটিয়ে তুলবে।

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশন ও অনলাইনের মাধ্যমে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজি ভাষায় ‘ফক্স’ ও ‘এফএস১’ এবং স্প্যানিশ ভাষায় ‘টেলিমুন্ডো’ ও ‘ইউনিভার্সো’ এটি সম্প্রচার করবে।

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে লাইভ স্ট্রিমিং দেখতে চোখ রাখা যাবে ‘টুবি’ অ্যাপে।

এছাড়া ‘ফক্স ওয়ান’ অ্যাপ, ‘পিকক’ এবং আন্তর্জাতিকভাবে কানাডার ‘সিটিভি’, ‘টিএসএন’ এবং যুক্তরাজ্যের ‘বিবিসি’ ও ‘আইটিভি’-তে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখা যাবে।

স্টেডিয়ামগুলোতে প্রায় ২ লক্ষ দর্শক সরাসরি উপস্থিত থেকে এই ইতিহাসের সাক্ষী হবেন।

বিশ্বকাপের এই আলোর রোশনাইয়ের মাঝেই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন আয়োজকরা।

মেক্সিকো সিটিতে শিক্ষক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন অধিকারকর্মী গোষ্ঠী উদ্বোধনী ম্যাচের দিন প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করার হুমকি দেওয়ায় শহরজুড়ে ব্যাপক সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত।

অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসে অতিরিক্ত ভিড় ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এবং টরন্টোতে গণপরিবহন চাঙ্গা রাখতে বিশেষ লজিস্টিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোতে কোনো ধরনের অভিবাসন সংক্রান্ত কড়াকড়ি বা অভিযান চালানো হবে না।

সব মিলিয়ে, কিছুটা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ চাপ থাকলেও, এক মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকেই ফুটবল জ্বরে কাঁপতে যাচ্ছে পুরো বিশ্ব।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনুমতি ছাড়া হরমুজ পার হওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুই জাহাজে ইরানের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ এম


অনুমতি ছাড়া হরমুজ পার হওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুই জাহাজে ইরানের হামলা

বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির চারপাশে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জেরে ইরান ইতিমধ্যে প্রণালিটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরইমধ্যে, অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করার কারণে দুটি জাহাজে হামলার ঘটনার দাবি তুলেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, 'নিয়ম লঙ্ঘন' করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করার জন্য আইআরজিসির নৌবাহিনী দুটি জাহাজে আক্রমণ করেছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম। তবে সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়নি।

অন্যদিকে, বিবিসি জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে আঘাত করেছে। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয় যে প্রণালিতে দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা পরিচালিত হয়েছে।

এর আগে, ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর জানায় যে, দেশের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড হরমুজ প্রণালি দিয়ে সমস্ত জাহাজ চলাচল বন্ধের নির্দেশনা জারি করেছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তেলবাহী ট্যাংকারসহ কোনও ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া অথবা অবৈধভাবে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হামলারও সম্ভবনা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে, আনাদোলু এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে ইরানের সামরিক সদর দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর জানায়, অঞ্চলের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কৌশলগত এই সমুদ্রপথ সাময়িকভাবে সব ধরনের নৌযানের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

সদর দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের 'অব্যাহত আগ্রাসন' এবং ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেটে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব খাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেটে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব খাত

বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় বাজেট ঘোষণা হবে। এটি হবে গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট।

সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটায় জাতীয় সংসদে এই বাজেট ঘোষণা করবেন। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

এটি হবে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের চাপ থেকেই বাজেটের আকার এত বড় হচ্ছে বলে অর্থবিভাগ আভাস দিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বাসস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে, বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে দেশে উচ্চমূল্যস্ফীতি দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়াও, বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।

বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহ তেরটি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করার কথা রয়েছে নতুন বাজেটে।

এদিকে, বিবিএস ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মাথাপিছু আয় ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) যে সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে দেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় এখন ৩ হাজার ২০ ডলার। এছাড়াও দেশের অর্থনীতির আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বাজেটে যেসব বিষয়ে প্রাধান্য থাকছে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, দেশের প্রত্যেক মানুষের কথা মাথায় রেখে এবারের বাজেট দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, প্রতিটি মানুষের কথা মাথায় রেখে বাজেট করার সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে- উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা এবং রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা বাজেটে নির্ধারণ করা হচ্ছে সেটি কীভাবে সফল করা যাবে তা নির্ধারণ করে কার্যকর করা।

এছাড়াও বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আস্থায় এনে বিনিয়োগ বাড়ানো, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দেওয়াও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই বাজেটে।

আগামী অর্থবছরের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে ভর্তুকির জন্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব অর্থবিভাগে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে ভর্তুকির চাপ আরও বাড়ার আশংকা রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যয়ের অর্থ জোগাতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, এনবিআর বহির্ভূত খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর বহির্ভূত রাজস্ব আয়ের খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমান জানাচ্ছেন, জিডিপির বৃদ্ধির গতি কমেছে, প্রাইভেট বিনিয়োগ কমেছে, রফতানি প্রবৃদ্ধি মাইনাস দুই শতাংশে নেমে গেছে, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে এলসি ওপেনিং নেতিবাচক হয়েছে- এমন অনেক পুঞ্জিভূত সমস্যার মধ্যে বাজেট ঘোষণা হতে যাচ্ছে।

"এগুলো পুনরুদ্ধার এবং স্থিতিশীলতা অর্জনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে। আবার নির্বাচনে বিএনপি অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে এই বাজেটকে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জীবনযাত্রার ব্যয় কমিয়ে জনজীবনে স্বস্তি আনতে বিনিয়োগকে চাঙ্গা করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

এবার বাজেটে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হচ্ছে, সেটি চলতি অর্থবছরে যা অর্জিত হয়েছে তার চেয়ে প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। আবার বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রাখা হয়েছে। এটি পূরণের জন্য সরকারকে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ এবং বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হবে।

বাজেটে ব্যাংকিং খাত থেকেই ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার। "এই রাজস্ব আহরণ কীভাবে করা হবে, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে। অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী ঋণের সুদ এখনেই তো ব্যয়ের শীর্ষে। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী বিএনপি সরকার রাজস্ব আহরণ না বাড়ালে ঘাটতি বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতি ঋণ ঝুঁকিতে পড়বে," বলছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, "উচ্চমূল্যস্ফীতি কমাতে হবে। সেজন্য উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগকে চাঙ্গা করতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও স্বকর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। পে স্কেল দেওয়া, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও নতুন উদ্ভাবনী কর্মসূচির মাধ্যমে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।"

"আবার এসব কিছুর জন্য রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। সেটি কী বাড়তি কর আরোপ করে করা হয়, নাকি উদ্ভাবনী ধারণা প্রবর্তন হয়- সেদিকেও সবার দৃষ্টি থাকবে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

এদিকে এবারের বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে বলে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানায়।

লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার পাশাপাশি 'বাংলাবিজ' নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অর্থবিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর মাধ্যমে ব্যবসাসংক্রান্ত সেবাগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রমকে আরও ব্যাপকভাবে অনলাইনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত এবং কর-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব বাজেটে আসতে পারে। এছাড়াও বাজেটে দেশের ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য 'ই-হেলথ কার্ড' কর্মসূচি চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বেশ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোর জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে। তবে এরপরেও দেখার বিষয় হবে যে, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে সরকারকে যে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, সেই চাপ সামলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির গতি ত্বরান্বিত করতে সরকার বাজেটে কী পদক্ষেপ নেয়।

এছাড়াও, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এসব ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আয় বাড়াতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেটির দিকেও দৃষ্টি থাকবে অনেকের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম

কোনো শান্তি চুক্তি যদি চূড়ান্ত না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কড়া হামলা’ হামলা চালাবে ইরানের ওপর—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যাপক উত্থানের পর ব্যারেল প্রতি প্রায় ২ ডলার বেশিতে লেনদেন শেষ হয়েছে। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্যটি উল্লেখিত হয়েছে।

মার্কেটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৬৫ ডলার বা ১.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩.১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.৮৩ ডলার বা ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯০.০৩ ডলারে থিতু হয়েছে।

গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সবচেয়ে বড় ধরনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, তার পর ট্রাম্পের নতুন হামলার হুঁশিয়ারির কারণে দুপুরের দিকে তেলের দাম এক লাফেই প্রায় ৩ ডলার পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের দেওয়া ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের পর তেলের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী অত্যন্ত গোপনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদ পাহারা দিয়ে বের করে এনেছে। বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেলের চাহিদা রয়েছে।

ট্রাম্পের মতে, এই গোপন অভিযানের কারণেই ইতোমধ্যে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘এই পদক্ষেপ না নিলে, তেলের দাম এখন ৮৫-৯০ ডলারের বদলে ২৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারতো।’

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত করার জন্য তেহরানকে ‘চরম মূল্য দিতে হবে’। সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%