ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় স্বজন হারালেন নূর আলম


কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় স্বজন হারালেন নূর আলম

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। বরিশালের উজিরপুরের নূর আলম স্ত্রী ও সন্তানসহ ছয়জনকে হারিয়ে এখন নির্বাক অবস্থায় রয়েছেন।

উজিরপুর (বরিশাল) থেকে মাহফুজুর রহমান মাসুম জানান, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে স্ত্রী, একমাত্র সন্তান, শ্যালক এবং তিন শ্যালিকাকে হারিয়েছেন নূর আলম। অফিসের জরুরি কাজে একদিন আগে কক্সবাজার থেকে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসার ফলে প্রাণে বেঁচে গেলেও তার জীবনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নূর আলম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়কোঠা ইউনিয়নের গাজীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে প্রায় আট বছর ধরে তিনি চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় স্ত্রী ও সন্তানসহ ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩) কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার মধ্যেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য তারা কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। গত ১৪ অক্টোবর, নূর আলম স্ত্রী ফারিয়া কবির এবং পাঁচ বছর বয়সি একমাত্র ছেলে ফাইজান নূরকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় যান। পরদিন বৃহস্পতিবার, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন তারা।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

কক্সবাজার পৌঁছানোর পর, অফিসের জরুরি কাজ থাকায় শুক্রবার নূর আলম একাই চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। তবে পরদিন শনিবার সকালে গণমাধ্যমে কক্সবাজারের ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেখে তিনি স্বজনদের খোঁজ নিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে জানতে পারেন, ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ছয়জনই তার পরিবারের সদস্য।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩), তাদের পাঁচ বছর বয়সি ছেলে ফাইজান নূর, শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন হতাহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে নাফিসতা মীম (২৭) নামের একজনের পরিচয়ও জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মোট ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জন দগ্ধ হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দগ্ধদের মধ্যে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন এবং তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান, ইসমাইল হোসেন মাসুদ ও তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা, মান্নান এবং সামিদা রয়েছেন। ইসমাইল হোসেন ও তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা নিহত ফারিয়া কবিরের মামা-মামি। তাদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ঝুঁকির কথা জানানো হয়েছে এবং এর আগে সতর্ক করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

নূর আলমের বাবা মোহাম্মদ আলী রাড়ি জানান, ছেলে বিয়ে করার পর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কখনই তাদের উজিরপুরের গ্রামের বাড়িতে আসেননি। নূর আলমের শ্বশুরবাড়ি পটুয়াখালীর তালতলীতে হলেও তার শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বনশ্রী এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। মোহাম্মদ আলী রাড়ি বলেন, পুত্রবধূ, নাতি এবং ছেলের শ্যালক-শ্যালিকাসহ পরিবারের ছয়জনকে হারানোর খবর তাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। লাশ আপাতত ঢাকায় দাফন করার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একসঙ্গে স্ত্রী, একমাত্র সন্তান, শ্যালক ও তিন শ্যালিকাকে হারিয়ে নূর আলম এখন নির্বাক। যে ভ্রমণটি ছিল পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর আয়োজন, সেটিই পরিণত হয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় শোকে।

অফিসের জরুরি কাজে এক দিন আগে কক্সবাজার থেকে ফিরে আসায় নূর আলম বেঁচে গেলেও হারিয়েছেন তার সবচেয়ে কাছের ছয়জনকে। স্বজনদের সঙ্গে তোলা ছবিগুলো এখন তার কাছে শুধুই স্মৃতি।

নূর আলমের পরিবারের ছয় সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে বরিশালের উজিরপুরের গাজীরপাড় গ্রামসহ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা থেকে মফিজুর রহমান জোয়ারদার জানান, ইনানী এলাকার একটি রিসোর্টে আগুন কেড়ে নিয়েছে একটি পরিবারের হাসি-খুশি দুই সদস্যের প্রাণ। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দা ফারিয়া কবীর (৩৩) এবং তার পাঁচ বছরের সন্তান ফাইজান। তাদের চিরবিদায়ে চুয়াডাঙ্গায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক

ফারিয়ার পৈতৃক বাড়ি ছিল বরিশালে। গত ১৪ অক্টোবর পরিবারের সবাই মিলে অবকাশযাপনে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু কে জানত এই আনন্দ ভ্রমণই তাদের জীবনের শেষ ভ্রমণ হয়ে থাকবে।

শনিবার সকালে ইনানীর ওই রিসোর্টটিতে হঠাৎ করেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ভয়াবহ রূপ নিলে ভেতরে আটকা পড়েন অনেকে। এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান মা ফারিয়া ও ছোট্ট ফাইজান। একই পরিবারের মা ও অবুঝ শিশুর এমন করুণ পরিণতিতে স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং এলাকাবাসীর চোখ আজ অশ্রুসিক্ত। আনন্দময় একটি ছুটি কীভাবে একটি পরিবারের জন্য চিরন্তন কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়াল, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ।

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) থেকে শেখ ওমর ফারুক জানান, ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পাটুয়ারটেক টুকটুক রিসোর্টে ওঠে মতলব উত্তরের ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের দক্ষিণ ঠেটালীয়া গ্রামের রুহুল আমিন ঢালীর পরিবার। তারা একই পরিবারের ১০ জন ওই রিসোর্টে ওঠেন। ওই রিসোর্টে ২৮ জন অতিথি ছিলেন। তন্মধ্যে রুহুল আমিন ঢালির পরিবারের সদস্য ছিলেন ১০ জন। শনিবার টুকটুক রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে রুহুল আমিন ঢালির ছয় সদস্য আগুনে পুড়ে মারা যান।

মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালীয়া গ্রামের রুহুল আমিন (লিলু) ঢালীর আত্মীয়র পরিবারের ১০ জনের মধ্যে ছয়জন নিহত হন। জীবিত চারজনের মধ্যে আহত রুহুল আমিন (লিলু) ঢালীর ছেলে মাসুদ, রুহুল আমিন লিলুর ছেলের স্ত্রী মেহেরুন নেছা মিলা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নুরে আলম ও আসিক সুস্থ আছেন। শনিবার সকাল ৭টায় টুকটুক রিসোর্টে আগুনে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান মতলবের রুহুল আমিন (লিলু) ঢালী।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ, ৫ জনের কারাদণ্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে মাদক নিয়ে প্রতিবেদন করায় সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ এম


সুনামগঞ্জে মাদক নিয়ে প্রতিবেদন করায় সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্তে মাদক চোরাচালান সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়াকে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে জখম করেছে মাদক কারবারিরা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার হাতের রগ কেটে গেছে। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা আহাদ ভূঁইয়া নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার ১ নম্বর বাংলাবাজার ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিক আব্দুল মোতালিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়া চৌধুরীপাড়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন। এ সময় এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি আহাদ ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা রামদা, চাপাতি, ছুরিসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাতের রগ কেটে ফেলে এবং মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। একপর্যায়ে আব্দুল মোতালিব মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিয়ে আহাদ ভূঁইয়াকে আটক করে পুলিশে দেয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল মোতালিবকে উদ্ধার করে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়া ও তার স্বজনরা জানান, আহাদ ভূঁইয়া সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। তিনি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় মদ ও ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি মাদক চোরাচালান নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল মাদক কারবারিরা।

১ নম্বর বাংলাবাজার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রায় দেড় মাস আগে মোতালিবের দুই ছোট ভাই কবির ভূঁইয়া ও মামুন ভূঁইয়ার ওপরও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছিল এই মাদক কারবারিরা। এ ঘটনায় দোয়ারাবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘদিন সিলেটে চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফিরেছেন। এর মধ্যেই রোববার সন্ধ্যায় আবার পরিকল্পিতভাবে মোতালিবের ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হলো।’

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘আহাদ ভূঁইয়া একজন মাদক ব্যবসায়ী ও ইয়াবা ডিলার। সাংবাদিক মোতালিব ভূঁইয়া এলাকার মাদক নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে। এতে মাদক কারবারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং সবাই একজোট হয়ে সাংবাদিকের ওপর এ হামলা চালায়। পালানোর সময় আহাদ ভূঁইয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ এম


প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করার পাশাপাশি তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ। তাঁরা আগামী বছরের ১ জানুয়ারির মধ্যে এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিগুলো জানানো হয়।

শিক্ষকদের উত্থাপিত তিনটি দাবি হলো, সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান বেতন ১৩তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন করা এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের ১০ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকদের তিনটি দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও এসব দাবির কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, "প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও আমাদের দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা আশা করি, ১ জানুয়ারির মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ এম


ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে মো. রাকিব নামের এক যুবককে সন্দেহভাজন ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে আটক করেছেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। পরে তাঁকে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতর থেকে রাকিবকে আটক করা হয়।

ঢামেক হাসপাতালের দায়িত্বরত আনসার প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. শাহাদাত হোসেন জানান, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক যুবকের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে সেখানে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যরা তাঁকে আটক করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি নিজেকে ভুয়া চিকিত্সক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।’

তিনি আরও জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাকিব নামের ওই যুবককে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়। রাকিবের গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী। বর্তমানে তিনি ঢাকার সাভারের নালিয়া এলাকায় বসবাস করছেন।

রাকিবের দাবি, ‘অসুস্থ ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে আমি ঢামেক হাসপাতালে এসেছিলাম। অনেক চেষ্টা করেও ভাইকে ভর্তি করাতে না পেরে এক ব্যক্তির পরামর্শে নিজেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সক হিসেবে পরিচয় দিই। এর পরই আনসার সদস্যরা আমাকে আটক করেন।’

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘জরুরি বিভাগ থেকে আটক করার পর আনসার সদস্যরা রাকিবকে পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে আসেন। পরে তাঁকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌরবিদ্যুতে সেচকাজে সাশ্রয়ের নতুন দিগন্ত দেখছেন চাষিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ এম


সৌরবিদ্যুতে সেচকাজে সাশ্রয়ের নতুন দিগন্ত দেখছেন চাষিরা

বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও চরাঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প ব্যবহারের ফলে কৃষকদের ডিজেল ও বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে। উপজেলার নারচী, ফুলবাড়ী ও বোহাইল ইউনিয়নে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম পরিচালনার ফলে প্রতি চার মাসের সেচ মৌসুমে প্রায় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে। এর পাশাপাশি, সোলার পাওয়ারে সেচযন্ত্র চালানোর ফলে বছরে কার্বন নিঃসরণ কমে প্রায় দেড় টন হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের সূত্রে সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার আলী জিন্নাহ প্রাথমিক মূল্যায়নে জানিয়েছেন, বিঘা প্রতি সাশ্রয় প্রায় ৯ হাজার টাকা এবং ১৫ বিঘায় কার্বন নিঃসরণ কমে দেড় টন। নারচি ইউনিয়নের গোদাগাড়ী গ্রামের কোহিনুর বেগম জানান, ‘আমার যেটুকু জমি আছে, তা চাষ করতে হতো ডিজেলচালিত মেশিনে। আর সে কারণে প্রতি বিঘায় সেচ কাজে ব্যয় হতো অনেক টাকা এবং বাড়ির বিদ্যুৎ বিল আসত ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এখন সেচ ও বসতবাড়ির কোনো বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় না।’

ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফুলবাড়ি নয়াপাড়া গ্রামের বাবলু মণ্ডল বলেন, বর্তমানে আমি নিজে এ পাম্পের সুবিধা নিচ্ছি, অন্য চাষিরাও পাচ্ছেন। সোলার পাওয়ার ব্যবহার করে যে পানি পাওয়া যাচ্ছে, তা সুপেয় এবং কৃষির পাশাপাশি গৃহস্থালি কাজও করা যাচ্ছে। এ সুবিধা পাওয়ার পর আমার আর কোনো সেচ খরচ নেই, অথচ এক সময় বোরো ধানে সেচ দিতে আমাকে ব্যয় করতে হতো কমপক্ষে ২ হাজার ৫০০ টাকা। বাসার বিদ্যুৎ বিলও এখন অর্ধেক হয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%