ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম


বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম

কোনো শান্তি চুক্তি যদি চূড়ান্ত না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কড়া হামলা’ হামলা চালাবে ইরানের ওপর—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যাপক উত্থানের পর ব্যারেল প্রতি প্রায় ২ ডলার বেশিতে লেনদেন শেষ হয়েছে। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্যটি উল্লেখিত হয়েছে।

মার্কেটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৬৫ ডলার বা ১.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩.১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.৮৩ ডলার বা ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯০.০৩ ডলারে থিতু হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে, সহিংসতা কমেছে

গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সবচেয়ে বড় ধরনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, তার পর ট্রাম্পের নতুন হামলার হুঁশিয়ারির কারণে দুপুরের দিকে তেলের দাম এক লাফেই প্রায় ৩ ডলার পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের দেওয়া ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের পর তেলের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী অত্যন্ত গোপনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদ পাহারা দিয়ে বের করে এনেছে। বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেলের চাহিদা রয়েছে।

ট্রাম্পের মতে, এই গোপন অভিযানের কারণেই ইতোমধ্যে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘এই পদক্ষেপ না নিলে, তেলের দাম এখন ৮৫-৯০ ডলারের বদলে ২৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারতো।’

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত করার জন্য তেহরানকে ‘চরম মূল্য দিতে হবে’। সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন: বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপসহ ১১ জুনের খেলার সূচি এক নজরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ এম


বিশ্বকাপসহ ১১ জুনের খেলার সূচি এক নজরে

আজ (১১ জুন) বাংলাদেশ আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে মুখোমুখি হবে।

রাতে 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' খ্যাত বিশ্বকাপের ২৩তম আসর মাঠে গড়াচ্ছে।

মনোমুগ্ধকর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি আসরের পর্দা তুলে ধরে।

রাতেই আসরের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মোকাবিলা করবে সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো।

২য় ওয়ানডে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অনুষ্ঠিত হবে দুপুর ১১টায়, দর্শকরা এটি দেখতে পারবেন টি স্পোর্টস ও নাগরিকের মাধ্যমে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে রাত ১১.৩০ মিনিটে, এটি সম্প্রচারিত হবে বিটিভি, সময় ও টি স্পোর্টস চ্যানেলে।

মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে রাত ১টায়, এই ম্যাচের সম্প্রচারও থাকবে বিটিভি, সময় এবং টি স্পোর্টসে।

এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া-চেক প্রজাতন্ত্রের খেলা আগামীকাল সকাল ৮টায় হবে এবং এটি বিটিভি, সময় ও টি স্পোর্টসে সম্প্রচারিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাবতলী সেতুতে শোভা পাচ্ছে ৪৮ দেশের পতাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ এম


গাবতলী সেতুতে শোভা পাচ্ছে ৪৮ দেশের পতাকা

ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার আমিনবাজারে ফুটবল বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে এক ভিন্নধর্মী আয়োজন দেখতে পাওয়া গেছে। গাবতলী সেতুর একাংশজুড়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের পতাকা টাঙানো হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও এখান থেকে বাদ পড়েনি।

যখন বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দেয়, তখন আমিনবাজারের এই উদ্যোগ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সম্প্রীতি এবং উৎসবের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হচ্ছে। স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে সেতুর দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা, যা দেখে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা সেখানে ভিড় করছেন।

এদিকে, দেখা গেছে বিভিন্ন দলের সমর্থকদের নিজেদের পছন্দের দলের পতাকা নিয়ে ছবি তুলতে এবং আনন্দ-উৎসবে অংশ নিতে। তাদের প্রত্যাশা, এবারের বিশ্বকাপে তাদের প্রিয় দল শিরোপা অর্জন করবে।

স্থানীয়দের মতে, ৪৮টি দেশের পতাকার সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা যুক্ত করার মাধ্যমে একটি বার্তা প্রদান করা হয়েছে যে, একদিন বাংলাদেশ লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে হবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই ফুটবল উৎসবে মাতছেন আমিনবাজারের মানুষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাজিল–মরক্কো ম্যাচ পরিচালনায় বিতর্কিত রেফারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ এম


ব্রাজিল–মরক্কো ম্যাচ পরিচালনায় বিতর্কিত রেফারি

বিশ্বকাপ ফুটবলে মাঠের খেলাকে ছাপিয়ে যায় সবকিছু। আর যদি রেফারি ম্যাচে ভুল সিদ্ধান্ত দেন, তাহলে উত্তেজনা ইউরোপের অন্য সবকিছুকে ছাড়িয়ে যায়।

এখন ব্রাজিল তাদের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে মরক্কোর বিপক্ষে, এবং সেই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ফিফার মাধ্যমে এক বিতর্কিত রেফারিকে।

স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ এর আগে বড় কিছু ম্যাচ পরিচালনার সময় বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচনা সৃষ্টি করেছেন।

এক মাস আগে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখ বনাম রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচে তিনি বিতর্কিতভাবে রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার কামাভিঙ্গাকে লাল কার্ড দেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলাররা ওই রেফারির সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।

মরক্কোর বিপক্ষে সেই ম্যাচে ভিনচিচের দুটি সহকারী লাইনসম্যান হিসেবে আরো দুজন স্লোভেনিয়ান থাকবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের জীবনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিজানুর রহমান

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৬ এম


শিক্ষার্থীদের জীবনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা

একবিংশ শতাব্দীর শিক্ষার্থীরা এমন একটি সময়ে বেড়ে উঠছে, যেখানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং এটি শিক্ষা, তথ্য সংগ্রহ, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত পরিচয় গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী দিনের উল্লেখযোগ্য সময় অনলাইনে ব্যয় করছে, যা তাদের চিন্তাভাবনা, আচরণ এবং জীবনধারাকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ইউটিউবভিত্তিক লেকচার, অনলাইন কোর্স, শিক্ষামূলক পেজ এবং বিভিন্ন একাডেমিক গ্রুপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এখন শ্রেণিকক্ষের বাইরেও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রমাণ করেছে যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিক্ষা কার্যক্রমের একটি কার্যকর সহায়ক শক্তি হতে পারে। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী গবেষণা নিবন্ধ, আন্তর্জাতিক সেমিনার, ওয়েবিনার এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেই জানতে পারে। এছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, ফেলোশিপ, গবেষণা অনুদান এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সম্পর্কিত তথ্যও দ্রুত পাওয়া যায়। ফলে একজন শিক্ষার্থীর বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে জানার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তরুণদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশগত বিষয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। তারা শুধুমাত্র তথ্য গ্রহণকারী নয়, বরং তথ্য উৎপাদনকারী এবং মতামত নির্মাণকারী হিসেবেও ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, রক্তদান কর্মসূচি, পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি পোস্ট বা প্রচারণা হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে সহায়তা করে।

বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক ফলাফল নয়, বিভিন্ন অতিরিক্ত দক্ষতারও মূল্য রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শিক্ষার্থীদের সেই দক্ষতা অর্জন ও প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করেছে। অনেক শিক্ষার্থী কনটেন্ট তৈরি, ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফটোগ্রাফি, লেখালেখি কিংবা প্রোগ্রামিং সম্পর্কিত কাজ শিখছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। একই সঙ্গে নিজেদের কাজ প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে পারছে, যা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেক সুযোগ তৈরি করেছে, তবে এর সবচেয়ে বড় নেতিবাচক দিক হলো অতিরিক্ত সময় ব্যয়। অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় কাজের জন্য অনলাইনে প্রবেশ করলেও অ্যালগরিদমভিত্তিক কনটেন্টের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ভিডিও দেখা বা অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ কমে যায় এবং কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প সময়ের বিনোদনমূলক ভিডিওর প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা মনোযোগের স্থায়িত্ব কমিয়ে দিতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এখানে ব্যবহারকারীরা সাধারণত নিজেদের জীবনের ইতিবাচক ও আকর্ষণীয় দিকগুলো তুলে ধরেন। ফলে অনেক শিক্ষার্থী অন্যদের সাফল্য, জীবনযাপন কিংবা জনপ্রিয়তার সঙ্গে নিজেদের তুলনা করতে শুরু করে। এই তুলনা অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের অভাব, হীনমন্যতা, উদ্বেগ এবং হতাশার জন্ম দিতে পারে। লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ব্যক্তির আত্মমর্যাদাবোধকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ শিক্ষার্থীরা এই ধরনের মানসিক চাপে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

ডিজিটাল পরিবেশে সাইবার বুলিং একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা। অনেক শিক্ষার্থী অনলাইনে কটূক্তি, অপমান, ভুয়া তথ্য প্রচার কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়ে থাকে। এসব ঘটনা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ফিশিং এবং অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা এখন শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সব তথ্য সমানভাবে নির্ভরযোগ্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপপ্রচার খুব অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা যদি তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা অর্জন না করে, তাহলে তারা সহজেই ভুল তথ্যের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম-সাক্ষরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যের উৎস যাচাই, বিভিন্ন উৎসের তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা গড়ে তোলা আধুনিক শিক্ষার্থীদের অপরিহার্য দক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভৌগোলিক দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা সহজেই বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষক এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারছে। এর ফলে আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠছে। তবে একই সঙ্গে বাস্তব সামাজিক যোগাযোগের পরিবর্তে ভার্চুয়াল যোগাযোগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোর পরিমাণ কমে যেতে পারে, যা সামাজিক সম্পর্কের গভীরতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

উপরোক্ত বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শিক্ষার্থীদের জন্য একই সঙ্গে একটি সুযোগের ক্ষেত্র এবং ঝুঁকির ক্ষেত্র। এটি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্যপ্রাপ্তি এবং সামাজিক অংশগ্রহণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ব্যবহার, তথ্য বিভ্রান্তি, সাইবার বুলিং এবং মানসিক চাপের মতো সমস্যাও তৈরি করেছে। অতএব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবকে একমাত্রিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী কতটা সচেতনভাবে, দায়িত্বশীলভাবে এবং উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে এটি ব্যবহার করছে, তার ওপরই মূলত এর প্রভাব নির্ভর করে। সেই অর্থে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজে সমস্যা নয়; বরং এর ব্যবহার পদ্ধতিই এর সুফল ও কুফল নির্ধারণ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%