মাছুদুর রহমান আসলাম, স্টাফ রিপোর্টার,
০৪:৪৫ এম
সরকারি প্রজ্ঞাপনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশসংক্রান্ত নথিও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে একটি মানবাধিকার সংগঠন। এরপরও মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে স্কুলের মাঠে মেলার আয়োজন চলতে থাকায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা, অনুমোদনের বৈধতা এবং এর পেছনে সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে ১৮ অক্টোবর মাসব্যাপী মেলার উদ্বোধন করা হয়। অন্যদিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এস.কে. পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে ‘মির্জাপুর দেশীয় শিল্প ও পণ্য মেলা-২০২৬’ শুরু হয় ৯ অক্টোবর। সরকারি বিধানের বিষয়টি সামনে আসার পরও এসব আয়োজন কীভাবে চলছে, তার জবাব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দিতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-৭ শাখা থেকে ২০২২ সালের ২৯ জুন জারি করা ‘মেলা পরিপত্র, ২০২২’-এর স্মারক নম্বর ২৬.০০.০০০০.১০৬.৮৬.০৮৬.১৫.১১১। পরিপত্রের ৫(চ) ধারায় বলা হয়েছে, “কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন করা যাবে না।”
এদিকে বরিশালের পরেশ সাগর মাঠসংক্রান্ত রিট পিটিশন নম্বর ৬২৫৯/২০২৬-এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ মে ২০২৬ হাইকোর্টের একটি আদেশ জারি হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে বিষয়টি শুনানি হয়।
মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, সরকারি পরিপত্র, আদালতের আদেশসংক্রান্ত নথি ও আপত্তির বিষয়টি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়েছে। এরপরও মেলার আয়োজন অব্যাহত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন আইনগত ভিত্তিতে এসব অনুমোদন দিয়েছে? সরকারি বিধান বাস্তবায়নের দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের সিদ্ধান্তেই যদি সেই বিধান উপেক্ষিত হয়, তাহলে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
মানবাধিকার সংগঠনটির ভাষ্য, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক প্রাথমিকভাবে হোয়াটসঅ্যাপে মাঠটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ নয় বলে মন্তব্য করেন। পরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মাঠের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, সরকারি পরিপত্র ও অন্যান্য নথি পাঠানো হলেও আর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এস.কে. পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে দেওয়ান ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের আয়োজনে দেশীয় শিল্প ও পণ্য মেলা চলছে। এ ক্ষেত্রেও মেলার অনুমোদনপত্র, মাঠ ব্যবহারের শর্ত এবং সরকারি বিধান অনুসরণের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
দুই জেলার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সরাসরি প্রশ্ন—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো? কোন বিধান বা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? সরকারি পরিপত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর আয়োজন বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
মেলার অনুমোদন ঘিরে সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়ার বাইরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বিপুল পরিমাণ অর্থ গোপনে গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি গুরুতর; এর সত্যতা নির্ধারণে অনুমোদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তদন্ত প্রয়োজন।
মূল প্রশ্ন মেলার স্বাভাবিক আয়-ব্যয় নয়; বরং সরকারি প্রজ্ঞাপনে নিষিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো এবং সেই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো আর্থিক সুবিধা বা অনৈতিক স্বার্থ কাজ করেছে কি না। সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের বাইরে কোনো অর্থ লেনদেন হয়ে থাকলে তার হিসাবও সামনে আনতে হবে।
সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুমোদনপত্র, মাঠ ব্যবহারের চুক্তি, নির্ধারিত সরকারি ফি, কোষাগারে অর্থ জমার চালান এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা প্রকাশের দাবি উঠেছে। সরকারি বিধান উপেক্ষা করে অনুমোদন দেওয়ার বিনিময়ে কেউ আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকলে, তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব সরকারি আইন, বিধি ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা। সেই দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যদি সরকারি বিধান উপেক্ষিত হয়, তাহলে প্রশাসনিক জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই।
আজ যাঁরা জেলা প্রশাসক, ভবিষ্যতে তাঁদের কেউ উপসচিব, যুগ্ম সচিব কিংবা সচিব পদে দায়িত্ব পেতে পারেন। নিজেদের সিদ্ধান্তেই যদি সরকারি বিধান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়, তাহলে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের আইন মানার নির্দেশ দেওয়ার নৈতিক ভিত্তি কোথায় থাকবে?
সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আদালতের আদেশ কি শুধু সাধারণ মানুষের জন্য, নাকি প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য? সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুমোদনের আইনগত ভিত্তি এবং গোপন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।
মানবাধিকার সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা এবং ২৫ অক্টোবর শুনানির উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার আয়োজনের বৈধতা, সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা আদালতের নজরে আনা হবে।
সংগঠনটি মেলার অনুমোদনসংক্রান্ত নথি ও অর্থ জমার হিসাব প্রকাশ, সরকারি বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও খেলাধুলার জন্য। সরকারি পরিপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সেখানে মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট অনুমোদনদাতাদের নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি কোষাগারের বাইরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে আনতে হবে।
প্রশ্ন একটাই—সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আদালতের আদেশের বিষয়টি সামনে আসার পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো, আর সেই সিদ্ধান্তের আড়ালে কোনো গোপন আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে তার দায় নেবে কে?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ডেমরায় দিনদুপুরে এক ভাড়ারতিয়া পরিবারের তালাবদ্ধ বাসায় প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন ও টিভি সহ মূল্যবান দলিলপত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ অক্টোবর (সোমবার) সকাল আনুমানিক ১০:০০ টা থেকে ১০:৩০ টার মধ্যে ডেমরা থানার জয়নব বানু ৭৬ শূণ্যা টেংরা এলাকার জাহিদ সাহেবের বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মোসাঃ নাজমা বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূ প্রতিদিনের মতো গত ১২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাসার দরজায় তালা লাগিয়ে তাঁর সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সকাল ১০:৪৫ টার দিকে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরে এসে দেখেন ঘরের প্রধান ফটকের তালা ভাঙা। ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখতে পান রুমের যাবতীয় মালামাল এলোমেলো ও ওলটপালট অবস্থায় পড়ে আছে।
ক্ষতিগ্রস্ত নাজমা বেগম জানান, চোরের দল ঘরের তিনটি পাটের দুটি কাঠের আলমারি, দুটি কাঠের ওয়্যারড্রফ এবং একটি শোকেসের লক ভেঙে তছনছ করে। চোরেরা আলমারিতে রক্ষিত সঞ্চিত নগদ ৮,০০,০০০ (আট লাখ) টাকা, প্রায় ২ ভরি ৩ আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার (যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫,০০,০০০ টাকা), তিনটি অ্যান্ড্রোয়েড স্মার্টফোন (যার আনুমানিক মূল্য ৭০,০০০ টাকা), একটি ৪২ ইঞ্চি ভিশন এলইডি টিভি (যার মূল্য আনুমানিক ৫২,০০০ টাকা) এবং ঘরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র নিয়ে চম্পট দেয়। অপহৃত সর্বমোট মালামাল ও নগদ টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকারও বেশি।
ঘটনার পর পরই বাড়ির মালিক, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে বাসার বাইরে থাকা সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সকাল ১০:০০ টা থেকে ১০:৩০ টার সময়সীমার মধ্যে অজ্ঞাতনামা দুইজন ব্যক্তি কৌশলে বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং দ্রুততার সঙ্গে চুরির কাজ শেষ করে সিসিটিভি ক্যামেরার নজর এড়িয়ে কেটে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চোর সনাক্ত করার বেশ কিছু চেষ্টা চালানো হলেও এখনো পর্যন্ত তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসাঃ নাজমা বেগম চুরি হওয়া মালামালের সঠিক হিসাব-নিকাশ এবং সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অপরাধীদের প্রাথমিক সনাক্তকরণের চেষ্টা চালিয়ে ডেমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ডেমরা থানা পুলিশ সূত্রের খবর, লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির পর ঘটনা তদন্তে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় অজ্ঞাত চোরদের সনাক্ত ও গ্রেফতারসহ চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দিনদুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার আকস্মিকতায় দিশেহারা হয়ে নাজমা বেগম বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির মালিক, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী ডেমরাবাসীকে জানান। পরবর্তীতে আশেপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বসানো সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হয়।
ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সকাল আনুমানিক ১০:০০ টা থেকে ১০:৩০ টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা দুই যুবক অত্যন্ত সুকৌশলে বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। চুরির কাজ শেষ করে ১০:৩০ টার মধ্যেই তারা জিনিসপত্র ব্যাগে ভরে এলাকা ত্যাগ করে। সিসিটিভি ফুটেজে দুই চোরের চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা গেলেও, স্থানীয় লোকজনদের তা দেখালে কেউই তাদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পেশাদার এই চোর চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকা ও ভুক্তভোগী পরিবারের চলাফেরার ওপর নজরদারি (রেকি) চালিয়ে এই চুরির ছক এঁকেছিল।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার উদ্যোগ নিয়েছে। চোরদের সনাক্তকরণ এবং চুরির নিখুঁত হিসাব বের করতে সামান্য বিলম্ব হলেও ভুক্তভোগী পরিবার শেষ পর্যন্ত ডেমরা থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ডেমরা থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সাথে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনগুলোর আইইএমআই (IMEI) নম্বর ও অবস্থান ট্রেস করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পুলিশ আশা করছে, খুব দ্রুতই এই চক্রকে গ্রেপ্তার করে চোরাই মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
এদিকে, জয়নব বানু টেংরা এলাকায় দিনদুপুরে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে চরম নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। স্থানীয় অধিবাসীরা অবিলম্বে পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
চলবে....................
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় একটি কলাবোঝাই পিকআপ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের ঢালু সড়ক থেকে নিচে পড়ে যায়। এই ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং কলার মালিক ও চালক-হেলপারসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টায় উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ম্যানথাক ম্রো পাড়া-সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ি টপ এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম সাহাব উদ্দিন (৪০)। তিনি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙ্গারমুখ এলাকার মৃত নাজির আহমদের ছেলে এবং পেশায় গাড়ির মিস্ত্রি ছিলেন।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কলার মালিক আব্দুল মোবিন (৩২) একই এলাকার মৃত নুরুল কবীরের ছেলে। আহত চালক জোবায়ের হোসেন রুবেল (৩২) বান্দরবানের লামা থানার ইয়াংছা এলাকার বাসিন্দা। তবে আহত হেলপারের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি টপ থেকে কলা বোঝাই করে পিকআপটি পাহাড়ি ঢালু রাস্তা দিয়ে নিচে নামছিল। গাড়িটির ব্রেক ফেল করায় এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি টপের নিচে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আলীকদম সদর এলাকা থেকে পিকআপ কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহাব উদ্দিন নামের একজন মারা যান। গুরুতর আহত কলার মালিক আব্দুল মোবিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে পিকআপ চালক জোবায়ের হোসেন রুবেল ও তার হেলপার কৌশলে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে শীতের আগমনি বার্তা ইতোমধ্যে অনুভূত হতে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তরের শীতল হাওয়া প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। রাতের বেলা হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে, ভোররাতে ঠান্ডার পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পায় এবং দিনে আবহাওয়া বেশ গরম থাকে।
প্রকৃতিতে ঋতুবদলের আয়োজন চলছে। শরৎ শেষে হেমন্তকাল শুরু হয়েছে, এরপর শীতকাল আসবে। তবে প্রকৃতি এখনই শীতের আগমনি বার্তা জানাচ্ছে। শরতের কুয়াশায় সবুজ ঘাস ও ধানের পাতায় শিশির জমা হচ্ছে। দূর থেকে সবুজ ধানক্ষেত ও ঘাসের দিকে তাকালে মনে হয় যেন মুক্তার মতো শিশিরকণা জমে রয়েছে। সকালে সূর্যালোকে দুর্বাঘাস ও ফসলের পাতায় শিশিরবিন্দু ঝলমল করছে। ভোরের আকাশ কুয়াশায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে বাজারে শীতকালীন শাকসবজির আগমন শুরু হয়েছে। তবে দাম কিছুটা বেশি। আগাম শীতে সবজি বিক্রি করে কৃষকরা অতিরিক্ত দাম পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য সুখকর। লেপ-তোশকের কারিগররাও এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে লেপ-তোশক তৈরির খরচ বেড়ে গেছে। আগের মতো সস্তায় কারিগররা লেপ-তোশক তৈরি করতে পারছেন না। তুলা, কাপড় ও শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ার কারণে দোকানিরা লেপ-তোশক তৈরিতে বেশি খরচ দাবি করছেন।
গ্রামে গ্রামে খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের কদর বেড়ে গেছে। আগের মতো কম টাকায় খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতির কাজে রাজি হচ্ছেন না তারা।
গফরগাঁওয়ের গ্রামাঞ্চলে আগের মতো খেজুর গাছ দেখা যায় না। চারা রোপণে আগ্রহী মানুষের অভাবের কারণে এখানে খেজুরের চারা রোপণ কম হচ্ছে। এই কারণে গ্রামাঞ্চল থেকে খেজুর গাছ হারিয়ে যাচ্ছে।
শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে গফরগাঁওয়ের বিভিন্ন হাটবাজারে পিঠার দোকান বসতে শুরু করেছে। গ্রামের বেকার শ্রমজীবী মহিলারা পিঠা তৈরি করে মানুষের রসনা তৃপ্তি দিচ্ছেন। সঙ্গে থাকছে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা। সকালে পিঠার স্বাদ নিতে অনেকে দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন।
পিঠা খেতে দোকানে আসা আবু বক্কর নামে একজন রিকশাচালক জানান, "সকালে পিঠা খেতে ভালো লাগে। তাই প্রতিদিন ভোরে পিঠা খেয়ে যাত্রীর সন্ধানে রিকশা নিয়ে বের হই।"
গফরগাঁও পৌর এলাকায় প্রাতঃভ্রমণকারী তপন খান নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ী জানান, "গত এক সপ্তাহ ধরে সকালে হাঁটার সময় বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। সকালে মনে হচ্ছে শীতের দিন চলে এসেছে। তবে রাতে ফ্যানের প্রয়োজন হয় না। ফ্যান চালালে কাঁথা ব্যবহার করতে হয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে ইতিহাসের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে স্থান পায় এমন ঘটনা যা কিছু ইতিবাচক, যা কিছু প্রথম, এবং যা কিছু মানবসভ্যতার জন্য অভিশাপ কিংবা আশীর্বাদ। বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ জানতে চায় সেই ইতিহাস।
আজ সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬। এক নজরে দেখা যাক ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
ঘটনাবলি
১৩৮৬ সালে জার্মানির সর্বাপেক্ষা প্রাচীন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
১৩৮৬ সালে ওসমানীয় বাহিনী বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়া দখল করে।
১৭৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ সেনা প্রধান লর্ড কর্নওয়ালিস মার্কিন সেনা প্রধান জর্জ ওয়াশিংটনের কাছে আত্মসমর্পণ করে, যা আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটায়।
১৮১২ সালে নেপোলিয়ন প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে মস্কো ত্যাগে বাধ্য হন।
১৮৮৮ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯২৩ সালে কামাল পাশার নেতৃত্বে আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৪২ সালে চলচ্চিত্রবিষয়ক প্রথম মাসিক পত্রিকা ‘চিত্রপঞ্জি’ প্রকাশিত হয়।
১৯৪৪ সালে ফিলিপাইনে মার্কিন সেনাদের সাথে জাপানি সৈন্যদের সংঘর্ষ শুরু হয়।
১৯৫০ সালে জাতিসংঘ বাহিনী উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ং ইয়ং দখল করে।
১৯৫১ সালে ব্রিটেন সুয়েজ খান অঞ্চল অধিকার করে।
১৯৫৪ সালে একদল অস্ট্রেলীয় অভিযাত্রী কর্তৃক পৃথিবীর ষষ্ঠ উচ্চতম পর্বত চো ওইয়ু বিজয় লাভ করে।
১৯৬২ সালে ভারত-চীন সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হয়।
১৯৬৫ সালে চীন-নেপাল আনুষ্ঠানিক প্রত্যক্ষ ডাক-ব্যবস্থা চালু হয়।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ইউনেস্কোর সদস্যপদ লাভ করে।
১৯৭৩ সালে স্পেনে বন্যায় ২শ’ লোকের প্রাণহানি ঘটে।
১৯৭৬ সালে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলী হাসান সালামাহ্ ইহুদিবাদী ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মুসাদের ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে লেবাননে শাহাদাত বরণ করেন।
১৯৭৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮ টি বর্ণবাদ বিরোধী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
১৯৮৩ সালে বামপন্থী সামরিক অভ্যুত্থানে গ্রেনেডার প্রধানমন্ত্রী মবিশ নিহত হন।
১৯৮৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্তে বিমান দুর্ঘটনায় মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট সামোর মাশেল ৩০ জন সহযাত্রীসহ নিহত হন।
১৯৮৮ সালে ভারতে পৃথক বিমান দুর্ঘটনায় ১৬৪ জন নিহত হয়।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারের অবসান ঘটে।
১৯৯৩ সালে পিপলস পার্টির নেত্রী বেনজীর ভুট্টো দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সোনারগাঁয়ে শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর-এর উদ্বোধন করা হয়।
১৯৯৬ সালে পেইচিংয়ে চীনের প্রথম হট এয়ারশিপ ‘চীন ১ নম্বর’ সফলভাবে আকাশে উড়ে।
জন্ম
১৬০৫ সালে টমাস ব্রাউন, ইংরেজ সাহিত্যিক জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৬৪ সালে ওগ্যুস্ত ল্যুমিয়ের, ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চলচ্চিত্রের অগ্রদূত জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৯৬ সালে চারুচন্দ্র ভাণ্ডারি, প্রবীণ গান্ধীবাদী ও সর্বোদয় নেতা জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৯৭ সালে সেলিমুজ্জামান সিদ্দিকী, পাকিস্তানি শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৯৯ সালে মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল আস্তুরিয়াস, গুয়াতেমালার নোবেলজয়ী কথাশিল্পী জন্মগ্রহণ করেন।
১৯০৩ সালে রাইচাঁদ বড়াল, প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি সুরশিল্পী, সংগীত পরিচালক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯২৪ সালে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, ভারতীয় বাঙালি কবি জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৬১ সালে সানি দেওল, ভারতীয় অভিনেতা ও প্রযোজক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮৩ সালে রেবেকা ফার্গুসন, সুয়েডীয় অভিনেত্রী জন্মগ্রহণ করেন।
মৃত্যু
১৭৪৫ সালে ইংরেজ সাহিত্যিক জোনাথন সুইফট মৃত্যুবরণ করেন।
১৯২২ সালে চন্দ্রশেখর মুখোপাধ্যায়, যশস্বী বাঙালি লেখক মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৩৬ সালে মহান চীনা সাহিত্যিক লু স্যুন মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৩৭ সালে আর্নেস্ট রাদারফোর্ড, নিউজিল্যান্ডীয় নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞানী মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৭২ সালে কিথ জনসন, বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট প্রশাসক মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৭৪ সালে ফররুখ আহমদ, বাঙালি কবি মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৮৭ সালে মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন, লোকগীতি সংগ্রাহক ও সম্পাদক মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৯০ সালে অশোকবিজয় রাহা, ভারতীয় বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক ও সমালোচক মৃত্যুবরণ করেন।
২০০৩ সালে বসনিয়ার বিশিষ্ট লেখক ও রাজনীতিবিদ আলী ইজ্জাত বেগুভিচ মৃত্যুবরণ করেন।
২০০৪ সালে কেনেথ আইভার্সন, টুরিং পুরস্কার বিজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী মৃত্যুবরণ করেন।
২০১৪ সালে এ. এফ. সালাহ্উদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশের ইতিহাসবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক মৃত্যুবরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ