০২:২৭ পি.এম
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। কারাবন্দী সাবেক নেত্রী অং সান সু চির নিঃশর্ত মুক্তির বিষয়ে আসিয়ানের নতুন আহ্বানকে দেশটি সাফ নাকচ করেছে। একইসাথে, মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, এই জোটের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বিশেষ দূত নিয়োগের প্রয়োজন নেই।
সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার গভীর রাতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘মানবিক কারণে তার (সু চি) সাজা কিছুটা কমানো হয়েছে, তবে পূর্ণাঙ্গ ও নিঃশর্ত মুক্তি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।’
বিশেষ দূত নিয়োগের বিষয়ে জান্তা সরকার জানিয়েছে, আসিয়ানের বর্তমান বিশেষ দূত ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া থেরেসা লাজারোর সঙ্গে তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে ২০২৭ সালে সিঙ্গাপুর আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর, নতুন করে বিশেষ দূত নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নেই। সামরিক জান্তার দাবি, বর্তমানে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন মিয়ানমারের তৎকালীন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। ক্ষমতা দখলের পর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাজনৈতিক বৈধতা অর্জন ও আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের নানা কৌশল গ্রহণ করেন তিনি, তবে অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন থামাননি।
২০২১ সালের এপ্রিলে, সহিংসতা বন্ধ এবং সংঘর্ষে লিপ্ত পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ শুরুর উদ্যোগ নিয়ে আসিয়ান একটি বিশেষ পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ওই পরিকল্পনাটি কোনো বিশেষ দূতের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংকে আসিয়ানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
মায়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা কমাতে সম্প্রতি কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে জান্তা সরকার। গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবার, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) একজন প্রতিনিধিকে সু চির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আসিয়ানের বর্তমান সভাপতি ফিলিপাইন এই বৈঠককে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি, জোটটি রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি সু চির পূর্ণাঙ্গ ও নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
অং সান সু চি বর্তমানে রাজধানী নেপিডোর একটি অজ্ঞাত স্থানে গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। সু চির সমর্থক ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন