ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

থাইল্যান্ডে স্কুলে গুলির ঘটনার পর এবার সরকারি অফিসে বন্দুক হামলা


থাইল্যান্ডে স্কুলে গুলির ঘটনার পর এবার সরকারি অফিসে বন্দুক হামলা

ব্যাংককের উপকণ্ঠে ননথাবুরি প্রদেশের একটি সরকারি কার্যালয়ে বন্দুক হামলার একটি ঘটনা ঘটেছে। সোমবারের এই ঘটনায় এক ঊর্ধ্বতন প্রাদেশিক কর্মকর্তা ও তাঁর চালক আহত হন। পুলিশ সন্দেহভাজন এক হামলাকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

ননথাবুরি পুলিশের কমান্ডার মেজর জেনারেল ডেজরাপি কংডি জানিয়েছেন, হামলাকারী একজন সাবেক আইনপ্রণেতা। তিনি ননথাবুরি প্রাদেশিক প্রশাসনিক সংস্থার কার্যালয়ে ওই কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে একই প্রদেশের একটি স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ নয়জন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হন। ২০২২ সালের পর এটি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: রিজভী: বিএনপি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে, এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ

শুক্রবারের ওই ঘটনার পর সোমবার দেশটির স্কুলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়। রাজধানীর দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্কুল হামলার ঘটনার পর থাইল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা প্রটোকল তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। এতে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানানোর মহড়া, র‌্যাগিং প্রতিরোধ এবং অস্ত্র ও নিষিদ্ধ সামগ্রী শনাক্তকরণের ব্যবস্থা জোরদারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে, বন্দুক হামলার পর প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল দেশে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের উদ্দেশ্যে জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে চেকপয়েন্ট স্থাপনের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আনুতিন উল্লেখ করেছেন, জনসমক্ষে কারও আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অধিকার নেই। তিনি বলেন, আত্মরক্ষার অজুহাতেও প্রকাশ্যে অস্ত্র বহনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তথ্যসূত্র: রয়টার্স।

আরও পড়ুন: বগুড়ার অবকাঠামো খাতে মেগা উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফল প্রকাশের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৮ পি.এম


ফল প্রকাশের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীর

মাগুরার মহম্মদপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন প্রদীপ কুমার (১৯) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। এ ঘটনায় আরও দুই যুবক, সজিব কুমার মন্ডল (১৯) ও সাগর মজুমদার (২০), গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের খাজুরা এলাকায় ঘটে এই দুর্ঘটনা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রদীপ ও তার দুই বন্ধু সজিব ও সাগর একটি মোটরসাইকেলে করে নাগড়া বাজারের একটি ফটোকপির দোকানে যাচ্ছিলেন। যখন তারা খাজুরা এলাকায় পৌঁছান, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। অতিরিক্ত গতির কারণে মোটরসাইকেলটি সড়কে পড়ে গিয়ে তিনজনই ছিটকে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রদীপ কুমারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর injured সজিব এবং সাগরকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

নিহত প্রদীপ কুমার খাজুরা এলাকার পূর্বাস কুমারের ছেলে। তিনি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং ফল প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলেন।

ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা পূর্বাস কুমার। তিনি জানান, "নিজের রেজাল্টের খবর জানার আগেই ছেলেটা আমাকে ছেড়ে চলে গেল।" এর কয়েকদিন আগেই তার বাড়িতে আগুন লেগে সব পুড়ে গেছে। তিনি জানতে চান, "এত কষ্ট আমি কীভাবে সইব?"

পরিবারের স্বজনরা জানান, কিছুদিন আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রদীপদের ঘরবাড়ি ও মালামাল পুড়ে যায়। সেসব ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রদীপের মৃত্যুতে পরিবারটি আরো বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে তাক লাগানো সাফল্য, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১০ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৯ পি.এম


জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে তাক লাগানো সাফল্য, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১০ জন

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির মোট ৩২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৬৯ শতাংশ। এর মধ্যে ১১০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ (A+) অর্জন করেছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া ফলাফল অনুযায়ী, ৩২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
ঐতিহ্যের দীর্ঘ পথচলা
চট্টগ্রামের ষোলশহরে অবস্থিত জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৪ সালে কামিল সিদ্ধপুরুষ সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রহ.)-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি স্থাপন করা হয়। ১৯৫৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর পাঠদান শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে এটি কামিল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত এবং চট্টগ্রামের সুপরিচিত সুন্নিয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। প্রতিষ্ঠানটির নাম ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাতেও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যেও জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার দীর্ঘদিনের শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতিফলন পাওয়া যায়।

এবারের ফলাফলে উচ্ছ্বাস
২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় ৯৯.৬৯ শতাংশ পাসের পাশাপাশি ১১০ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক সাফল্যের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায়ও তারা আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে।
ফলাফল এক নজরে:
মোট পরীক্ষার্থী: ৩২১ জন
উত্তীর্ণ: ৩২০ জন
অকৃতকার্য: ১ জন
পাসের হার: ৯৯.৬৯%
জিপিএ-৫: ১১০ জন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অষ্টম শ্রেণি পাসেই পুলিশ একাডেমিতে চাকরির সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৪০ পি.এম


অষ্টম শ্রেণি পাসেই পুলিশ একাডেমিতে চাকরির সুযোগ

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা রাজশাহী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি ‘অফিস সহায়ক (এমএলএসএস)’ পদে ১১ জনকে নিয়োগের জন্য আবেদন গ্রহণ করবে। নারী এবং পুরুষ প্রার্থীদের জন্য এই পদটি উন্মুক্ত আছে, এবং এটি অস্থায়ী ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের ডাকযোগে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ পুলিশ

বিভাগ: বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি

পদের নাম: অফিস সহায়ক (এমএলএসএস)

পদের সংখ্যা: ১১টি

বেতন স্কেল: (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ মোতাবেক)

গ্রেড-২০: ৮,২৫০-২০,০১০/-

চাকরির ধরন: অস্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রার্থীদের জন্য অষ্টম শ্রেণি পাশ হওয়া আবশ্যক।

কর্মস্থল: রাজশাহী

বয়স: ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রার্থীদের বয়স ১৮-৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোন ধরনের এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন ফি: পরীক্ষার ফি বাবদ ১০০ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে জমা দিতে হবে।

আবেদনপত্র সংগ্রহ: আগ্রহী প্রার্থীরা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ওয়েবসাইট https://bpa.police.gov.bd/ এ গিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

আবেদনের প্রক্রিয়া: ‘প্রিন্সিপাল, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহী’ বরাবর ডাকযোগে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে নির্ধারিত আবেদন ফরমে আবেদন করা প্রয়োজন। খামের ওপর স্পষ্ট অক্ষরে পদের নাম লিখতে হবে এবং বাঁ পাঁশ্বে আবেদনকারীর পূর্ণ নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। আরও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের সময়সীমা: আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২৮ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাগেশ্বরীতে সরকারি ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ, কৃষকের তালিকায় হতদরিদ্র ও অকৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাইদুল ইসলাম মামুন, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম)

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৪১ পি.এম


নাগেশ্বরীতে সরকারি ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ, কৃষকের তালিকায় হতদরিদ্র ও অকৃষক

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সরকারি উদ্যোগে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে হতদরিদ্র, ভূমিহীন, দিনমজুর ও অকৃষকদের নাম কৃষকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের নামে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে প্রকৃত কৃষকেরা সরকারি মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে নাগেশ্বরী উপজেলায় প্রায় ৮ কোটি ৭২ লাখ ২৮ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ৪২৩ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। নির্ধারিত মূল্যে ৮০৭ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কথা রয়েছে। এ জন্য অনলাইনে আবেদন নেওয়ার পর লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আবেদন প্রক্রিয়ায় একটি চক্র প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র ও ভূমিহীন মানুষের তথ্য ব্যবহার করে আবেদন করে। পরে লটারিতে তাঁদের নাম উঠে আসার পর ওই ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব খুলিয়ে তাঁদের নামে ধান সরবরাহ ও অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের একছাটবাড়ী এলাকায় এমন বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যাঁদের নিজেদের কোনো আবাদি জমি নেই। তাঁদের কেউ দিনমজুর, কেউ বিধবা বা হতদরিদ্র। অথচ সরকারি নথিতে তাঁরা কৃষক হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি চক্র সরকারি বিভিন্ন সুবিধা যেমন কৃষি কার্ড, বিধবা ভাতা বা অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার কথা বলে এসব মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সংগ্রহ করে ব্যাংক হিসাব খুলতে সহায়তা করে। পরবর্তীতে তাঁদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া চেকের পাতা ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। বিনিময়ে কাউকে এক হাজার, কাউকে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বলে কয়েকজন অভিযোগকারী জানিয়েছেন।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, তাঁরা সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন না। তাঁদের নাম ব্যবহার করে কীভাবে ধান দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের নামে কত টাকা লেনদেন হয়েছে এসব বিষয়ও তাঁরা জানেন না।

কচাকাটা এলাকার এক দরিদ্র নারী জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিজের বসতভিটার বাইরে কোনো আবাদি জমি নেই। বিধবা ভাতা দেওয়ার কথা বলে তাঁকে ব্যাংকে নেওয়া হয় এবং সেখানে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাঁর নামে থাকা চেক ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহমানের অভিযোগ, তিনি প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদন করলেও সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দেওয়ার সুযোগ পাননি। তাঁর দাবি, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে অকৃষকদের নাম ব্যবহার করে একটি চক্র সরকারি ধান সংগ্রহের সুবিধা নিচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে নাম আসা দুলাল মিয়া বলেন, শুধু কচাকাটা নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকেরাই গুদামে ধান না দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে ধান বিক্রি করেন। তবে তিনি কোনো আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নির্দেশেই তিনি এসব কাজে যুক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাউছার হাবিব অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, কৃষি বিভাগের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে আবেদনকারীদের প্রত্যেককে যাচাই করা কঠিন। তবে কৃষক নন এমন কারও নাম তালিকায় থাকলে তিনি ধান দিতে পারবেন না। প্রয়োজন হলে এসব নাম বাদ দিয়ে পুনরায় লটারি করার বিধান রয়েছে। খাদ্য বিভাগ কার কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছে, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় হয়নি বলেও তিনি জানান।

এদিকে স্থানীয় প্রকৃত কৃষকদের দাবি, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তালিকাভুক্ত কৃষকদের মাঠপর্যায়ে যাচাই, জমির তথ্য পরীক্ষা এবং যাঁদের নামে ধান সরবরাহ দেখানো হয়েছে তাঁদের কাছ থেকে প্রকৃতপক্ষে ধান নেওয়া হয়েছে কি না তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%