নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
০২:৩০ পি.এম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত তালিকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নাম থাকার অভিযোগে স্থানীয় প্রার্থী ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নাগেশ্বরী উপজেলা পরিষদের নোটিশ বোর্ডে তথ্য সংগ্রহকারী পদে ১৬৮ জন, অপেক্ষমাণ ৭৭ জন এবং সুপারভাইজার পদে ১৭ জন ও অপেক্ষমাণ তিনজনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুই ধাপে দুই পদে প্রায় চার হাজার আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় তিন হাজার পাঁচশত প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
প্রকাশিত তালিকা পর্যালোচনা করে কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করেন, পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন। নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৩৭ নম্বর ক্রমিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ৬৭ নম্বর ক্রমিকে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নেওয়াশী ও সন্তোষপুর ইউনিয়নের তালিকায় ছাত্রলীগের কর্মীদের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পৌরসভায় জাতীয় পার্টির ছাত্রসমাজের এক সদস্যের নাম থাকারও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া পৌরসভা, মালভাঙ্গা, বামনডাঙ্গা ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নে সুপারভাইজার পদে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাইরে থেকে প্রার্থী এনে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কালীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, তিনি কালীগঞ্জ ইউনিয়নের সুপারভাইজার পদে পরীক্ষা ও ভাইবায় উত্তীর্ণ হলেও তাকে বাদ দিয়ে অন্য ইউনিয়নের একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে তিনি বৈষম্য ও অবিচার হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তালিকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য, স্বামী-স্ত্রী দুজনের নাম, একজনের নাম একাধিক ক্রমিকে থাকা এবং এক পদের প্রার্থীকে অন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন প্রার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে কয়েকটি ওয়ার্ড থেকে কোনো প্রার্থী না নেওয়া হলেও একটি ওয়ার্ড থেকেই চারজনকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ১৬ ও ১৮ নম্বর, নুনখাওয়া ইউনিয়নের ১৪২ ও ১৪৩ নম্বর এবং কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮৫ ও ৮৬ নম্বর ক্রমিকসহ কয়েকটি তালিকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য ও স্বামী-স্ত্রীর নাম থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তালিকা পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ধনীরামপুরের জাহিদ হাসানের নাম সন্তোষপুর ইউনিয়নের ১২৩ ও ১২৯ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একইভাবে কচাকাটা ইউনিয়নের ধনীরামপুর গ্রামের লিসা মনি খাতুনের নাম তথ্য সংগ্রহকারী পদে কেদার ইউনিয়নের ১৬০ এবং কচাকাটা ইউনিয়নের ৩৩ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভাইবার মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রার্থীরা। ভাইবা বোর্ডের সদস্য ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, যারা পাস করেছেন তাদের পাস এবং যারা ফেল করেছেন তাদের ফেল দেখানো হয়েছে; কোনো নম্বর দেওয়া হয়নি, বরং সংকেত ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে ওই সংকেতের ভিত্তিতে কীভাবে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হয়েছে এবং মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ড কী ছিল—এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি অফিসে গিয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন এবং ফোনে বিস্তারিত বলতে পারবেন না বলে জানান।
ভাইবা বোর্ডের সদস্য ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ কবীর জানান, দুই ধাপে প্রায় তিন হাজার পাঁচশত প্রার্থী ভাইবা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেন, অনিয়মের অভিযোগে সমাজসেবা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্টদের নাম প্রত্যাহারের চেষ্টা করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকার কথা জানান। পরে কলব্যাক করার কথা বললেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত প্রশ্ন পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ার অভিযোগগুলো তদন্ত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় প্রার্থীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা মামলা প্রত্যাহার ও দ্রুত ত্রিবার্ষিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিতে রবিবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন চা শ্রমিকরা। এই সমাবেশের স্থান ছিল শ্রীমঙ্গল শহরে অবস্থিত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। প্রক্রিয়াটি চলাকালীন, বিভিন্ন চা-বাগানে ভারপ্রাপ্তদের দ্বারা কমিটি পরিচালনার অভিযোগও তুলে ধরেন তারা।
দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন না হওয়ায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে, এই কারণে চা শ্রমিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য ছিল, নির্বাচনের অভাবে শ্রমিকদের অধিকার আদায় এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বালিশিরা ভ্যালির ৬৪টি চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ার কারণে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন বাগানে নির্বাচিত কমিটির পরিবর্তে ভারপ্রাপ্তদের দ্বারা সংগঠন পরিচালনা করায় শ্রমিকদের দাবি আদায় কার্যকরভাবে হচ্ছে না।
বক্তাদের মতে, একটি শক্তিশালী ও কার্যকর শ্রমিক সংগঠন গড়ে তুলতে নিয়মিত নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যে বাধা রয়েছে, সেই বাধাগুলি দ্রুত নিরসনের দাবি জানান তারা। এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে এমন মামলা দ্রুত প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি করেন।
পরে, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা অভিযোগ করেন, ‘একটি পক্ষ আদালতে মামলা করে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।’
তিনি উল্লেখ করেন, চা শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত শ্রমিকদের অধিকার, মজুরি ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে, যদি নির্বাচন-জটিলতার দ্রুত অবসান না হয়, তাহলে শ্রমিক অসন্তোষ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিজয় হাজরা বলেন, ‘মামলার নিষ্পত্তি হলে দ্রুত নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।’ তিনি শ্রমিকদের স্বার্থে আর বিলম্ব না করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। চা শ্রমিক নেতাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন না হওয়ায় ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান জটিলতার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত নির্বাচনের পথ সুগম করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্যাংককের উপকণ্ঠে ননথাবুরি প্রদেশের একটি সরকারি কার্যালয়ে বন্দুক হামলার একটি ঘটনা ঘটেছে। সোমবারের এই ঘটনায় এক ঊর্ধ্বতন প্রাদেশিক কর্মকর্তা ও তাঁর চালক আহত হন। পুলিশ সন্দেহভাজন এক হামলাকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
ননথাবুরি পুলিশের কমান্ডার মেজর জেনারেল ডেজরাপি কংডি জানিয়েছেন, হামলাকারী একজন সাবেক আইনপ্রণেতা। তিনি ননথাবুরি প্রাদেশিক প্রশাসনিক সংস্থার কার্যালয়ে ওই কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে একই প্রদেশের একটি স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ নয়জন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হন। ২০২২ সালের পর এটি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শুক্রবারের ওই ঘটনার পর সোমবার দেশটির স্কুলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়। রাজধানীর দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্কুল হামলার ঘটনার পর থাইল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা প্রটোকল তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। এতে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানানোর মহড়া, র্যাগিং প্রতিরোধ এবং অস্ত্র ও নিষিদ্ধ সামগ্রী শনাক্তকরণের ব্যবস্থা জোরদারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে, বন্দুক হামলার পর প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল দেশে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের উদ্দেশ্যে জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে চেকপয়েন্ট স্থাপনের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আনুতিন উল্লেখ করেছেন, জনসমক্ষে কারও আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অধিকার নেই। তিনি বলেন, আত্মরক্ষার অজুহাতেও প্রকাশ্যে অস্ত্র বহনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তথ্যসূত্র: রয়টার্স।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরার মহম্মদপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন প্রদীপ কুমার (১৯) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। এ ঘটনায় আরও দুই যুবক, সজিব কুমার মন্ডল (১৯) ও সাগর মজুমদার (২০), গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের খাজুরা এলাকায় ঘটে এই দুর্ঘটনা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রদীপ ও তার দুই বন্ধু সজিব ও সাগর একটি মোটরসাইকেলে করে নাগড়া বাজারের একটি ফটোকপির দোকানে যাচ্ছিলেন। যখন তারা খাজুরা এলাকায় পৌঁছান, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। অতিরিক্ত গতির কারণে মোটরসাইকেলটি সড়কে পড়ে গিয়ে তিনজনই ছিটকে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রদীপ কুমারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর injured সজিব এবং সাগরকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
নিহত প্রদীপ কুমার খাজুরা এলাকার পূর্বাস কুমারের ছেলে। তিনি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং ফল প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলেন।
ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা পূর্বাস কুমার। তিনি জানান, "নিজের রেজাল্টের খবর জানার আগেই ছেলেটা আমাকে ছেড়ে চলে গেল।" এর কয়েকদিন আগেই তার বাড়িতে আগুন লেগে সব পুড়ে গেছে। তিনি জানতে চান, "এত কষ্ট আমি কীভাবে সইব?"
পরিবারের স্বজনরা জানান, কিছুদিন আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রদীপদের ঘরবাড়ি ও মালামাল পুড়ে যায়। সেসব ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রদীপের মৃত্যুতে পরিবারটি আরো বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির মোট ৩২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৬৯ শতাংশ। এর মধ্যে ১১০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ (A+) অর্জন করেছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া ফলাফল অনুযায়ী, ৩২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
ঐতিহ্যের দীর্ঘ পথচলা
চট্টগ্রামের ষোলশহরে অবস্থিত জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৪ সালে কামিল সিদ্ধপুরুষ সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি (রহ.)-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি স্থাপন করা হয়। ১৯৫৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর পাঠদান শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে এটি কামিল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত এবং চট্টগ্রামের সুপরিচিত সুন্নিয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। প্রতিষ্ঠানটির নাম ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাতেও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যেও জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার দীর্ঘদিনের শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতিফলন পাওয়া যায়।
এবারের ফলাফলে উচ্ছ্বাস
২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় ৯৯.৬৯ শতাংশ পাসের পাশাপাশি ১১০ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক সাফল্যের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায়ও তারা আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে।
ফলাফল এক নজরে:
মোট পরীক্ষার্থী: ৩২১ জন
উত্তীর্ণ: ৩২০ জন
অকৃতকার্য: ১ জন
পাসের হার: ৯৯.৬৯%
জিপিএ-৫: ১১০ জন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ