আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
১১:৪১ এম
দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক উদাহরণ স্থাপন করেছে সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন। রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১:০০টা থেকে সন্ধ্যা ৭:০০টা পর্যন্ত আমানউল্লাহ ইউনিয়নের নানা স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও যুব রেড ক্রিসেন্ট সন্দ্বীপ উপজেলা ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠপর্যায়ে ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন এবং জরুরি সহায়তার জন্য প্রয়োজন রয়েছে এমন পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করেন।
আজকের এই মানবিক কার্যক্রমে যুব রেড ক্রিসেন্ট সন্দ্বীপ উপজেলার দুটি ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবক সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রকৃত অবস্থা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে, যা পরবর্তী সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক হবে।
উপজেলা প্রশাসন ও যুব রেড ক্রিসেন্টের এই সমন্বিত উদ্যোগে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে এমন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
মানুষের পাশে মানবতার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের প্রশংসা অর্জন করেছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা নতুন আশার বার্তা হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বার ও রেস্তোরাঁয় রোববার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ৬৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আগুনের সূত্রপাতের পর তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত লোকজন প্রাণ বাঁচাতে বার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।
এএফপির একজন সাংবাদিক সোমবার সকালে ব্যাংককের উপকণ্ঠে অবস্থিত রং বিয়ার না লাত ফ্রাও বার ও রেস্তোরাঁর বাইরে কয়েকটি মরদেহবাহী ব্যাগ দেখতে পান। তিনি বলেন, ওই সময় ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী কাজ করছিলেন।
ব্যাংককের গভর্নর চাডচার্ট সিত্তিপুন্ত সাংবাদিকদের জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে গিয়ে ছাদের গঠন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তিনি ধারণা করেন, ঘন ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অধিকাংশ মানুষ মারা গেছেন।
তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
গভর্নর আরও জানান, কয়েকটি মরদেহ একটি জরুরি নির্গমন পথের কাছে পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, ওই পথটি কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত ছিল, যা অনেকের জন্য বের হওয়ার সুযোগ রুদ্ধ করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোটরসাইকেল ট্যাক্সিচালক সুরিন জাইহার্ন বলেন, তিনি বারটির মূল দরজা দিয়ে আগুন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়তে দেখে দগ্ধ অন্তত পাঁচজনকে উদ্ধার করতে সহায়তা করেন। তিনি এএফপিকে জানান, ‘আমি খুবই মর্মাহত। বহু মানুষ নিহত হয়েছে। যাদের উদ্ধার করেছি, তাদের কী হয়েছে তা জানি না।’
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের শরীর থেকে জ্বলতে থাকা আগুন কাপড় দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করেছেন। আরেকজন চালক এক নারীর নিরাপত্তার জন্য তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লাওসের পর্যটক কান কুতিরাত বলেন, রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি বারে ছিলেন। হঠাৎ মঞ্চের পাশ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেন, এবং মুহূর্তেই চারদিকে চিৎকার ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে পোশাকে আগুন লেগে যাওয়া কয়েকজন মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বেরিয়ে আসছেন। কান বলেন, ‘জীবনে এমন ঘটনা কখনও আমি দেখিনি। সেই দৃশ্য এখনও আমার চোখে ভাসছে।’
তিনি পোস্টে আরও লেখেন, ‘আমি কেবল একজনকে বের করতে পেরেছি। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমি দুঃখিত।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং দেশের ইতিহাসে এটি গত ১৭ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৯ সালে একদিনে সর্বোচ্চ ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
ইউনিসফ কর্তৃক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে, আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত চলমান। তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালে এমন বৃষ্টিপাত সাধারণ হলেও বর্তমানের এই তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের মধ্যে চট্টগ্রামে ১৬০ মিলিমিটার, আমবাগানে ১৪০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১১৩ মিলিমিটার এবং ফরিদপুরে ১১১ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
১৩ জুলাইয়ের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
১৪ জুলাই রংপুর ও রাজশাহী এলাকার অনেক স্থানে এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিন রংপুর ও রাজশাহীতে কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
এছাড়া ১৫ ও ১৬ জুলাই খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এই সময় দিনে এবং রাতে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অবস্থা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙ্গামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী জানায়, দেশটির পূর্ব উপকূলে নিখোঁজ এক নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই কোরিয়ার মধ্যকার সামুদ্রিক সীমারেখার কাছে টহলরত অবস্থায় রোববার ওই নাবিক নিখোঁজ হয়। উক্ত নৌবাহিনী জানায়, রোববার সকালে দায়িত্ব পালনের জন্য উপস্থিত না হওয়ায় নাবিকের খোঁজে ১০টি জাহাজ ও বিমান নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করা হয়। সে সময় টহল জাহাজটি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার কার্যত সামুদ্রিক সীমারেখা নর্দার্ন লিমিট লাইন (এনএলএল) এর কাছে অবস্থান করছিল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে, দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নেওয়া একটি টহল নৌযান গেওজিনের প্রায় ৫২ কিলোমিটার পূর্বে নিখোঁজ নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করে। দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয় রোববার এএফপিকে জানিয়েছে, ওই নাবিক উত্তর কোরিয়ার সীমান্তরেখা (এনএলএল) পেরিয়ে ভেসে যেতে পারেন এমন আশঙ্কার পর নৌবাহিনী মানবিক কারণে তার অনুসন্ধান ও তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতা চেয়েছিল। তবে সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় এএফপিকে জানায়, এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরদেহটি একটি ফ্রিগেট জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। জাহাজটি সোমবার দিনের পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের দোংহে নৌঘাঁটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাবিক কীভাবে নিখোঁজ হলো এবং তাঁর মৃত্যুর কারণ জানতে বেসামরিক পুলিশ ও সামরিক তদন্তকারীরা যৌথভাবে তদন্ত করবেন। ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নিহত নাবিক শিক্ষানবিশ নাবিক পদে কর্মরত ছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের পর পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন। ২০২৫ সালের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে লি উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে তুলনামূলকভাবে নমনীয় নীতি গ্রহণ করেছেন। যা তাঁর পূর্বসূরির কঠোর অবস্থান নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। তবে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি সিউলের বারবার সংলাপের আহ্বানে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি পিয়ংইয়ং। সম্প্রতি দেশটির রাজধানীতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানিয়ে একটি শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করে উত্তর কোরিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সেনাবাহিনী বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ করছে এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে।
সোমবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই তথ্য জানিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থানীয় বন্যাকবলিত জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে (ছবি: আইএসপিআর)।
আইএসপিআর জানায়, চন্দনাইশ উপজেলা ও লোহাগড়া উপজেলায় বন্যাকবলিত স্থানসমূহে অসামরিক প্রশাসনকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেছে ১০ পদাতিক ডিভিশন।
এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনী স্থানীয় বন্যাকবলিত জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থানীয় বন্যাকবলিত জনগণের মাঝে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে (ছবি: আইএসপিআর)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ