ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্যাংককের বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৭, আহত ৬৩


ব্যাংককের বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৭, আহত ৬৩

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বার ও রেস্তোরাঁয় রোববার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ৬৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আগুনের সূত্রপাতের পর তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত লোকজন প্রাণ বাঁচাতে বার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

এএফপির একজন সাংবাদিক সোমবার সকালে ব্যাংককের উপকণ্ঠে অবস্থিত রং বিয়ার না লাত ফ্রাও বার ও রেস্তোরাঁর বাইরে কয়েকটি মরদেহবাহী ব্যাগ দেখতে পান। তিনি বলেন, ওই সময় ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী কাজ করছিলেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে ভারতে ৫.৮৪ কোটি রুপির স্বর্ণ চোরাচালান জব্দ

ব্যাংককের গভর্নর চাডচার্ট সিত্তিপুন্ত সাংবাদিকদের জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে গিয়ে ছাদের গঠন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তিনি ধারণা করেন, ঘন ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অধিকাংশ মানুষ মারা গেছেন।

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

গভর্নর আরও জানান, কয়েকটি মরদেহ একটি জরুরি নির্গমন পথের কাছে পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, ওই পথটি কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত ছিল, যা অনেকের জন্য বের হওয়ার সুযোগ রুদ্ধ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মোটরসাইকেল ট্যাক্সিচালক সুরিন জাইহার্ন বলেন, তিনি বারটির মূল দরজা দিয়ে আগুন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়তে দেখে দগ্ধ অন্তত পাঁচজনকে উদ্ধার করতে সহায়তা করেন। তিনি এএফপিকে জানান, ‘আমি খুবই মর্মাহত। বহু মানুষ নিহত হয়েছে। যাদের উদ্ধার করেছি, তাদের কী হয়েছে তা জানি না।’

আরও পড়ুন: মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪%

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের শরীর থেকে জ্বলতে থাকা আগুন কাপড় দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করেছেন। আরেকজন চালক এক নারীর নিরাপত্তার জন্য তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লাওসের পর্যটক কান কুতিরাত বলেন, রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি বারে ছিলেন। হঠাৎ মঞ্চের পাশ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেন, এবং মুহূর্তেই চারদিকে চিৎকার ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে পোশাকে আগুন লেগে যাওয়া কয়েকজন মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বেরিয়ে আসছেন। কান বলেন, ‘জীবনে এমন ঘটনা কখনও আমি দেখিনি। সেই দৃশ্য এখনও আমার চোখে ভাসছে।’

তিনি পোস্টে আরও লেখেন, ‘আমি কেবল একজনকে বের করতে পেরেছি। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমি দুঃখিত।’

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষা খাতে ২২৯ শতাংশ বাজেট বাড়াল তুরস্ক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৭ বছরের মধ্যে ঢাকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টি, আরও পাঁচ দিন ভারি বর্ষণের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


১৭ বছরের মধ্যে ঢাকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টি, আরও পাঁচ দিন ভারি বর্ষণের আশঙ্কা

রাজধানী ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং দেশের ইতিহাসে এটি গত ১৭ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৯ সালে একদিনে সর্বোচ্চ ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

ইউনিসফ কর্তৃক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে, আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত চলমান। তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালে এমন বৃষ্টিপাত সাধারণ হলেও বর্তমানের এই তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের মধ্যে চট্টগ্রামে ১৬০ মিলিমিটার, আমবাগানে ১৪০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১১৩ মিলিমিটার এবং ফরিদপুরে ১১১ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

১৩ জুলাইয়ের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

১৪ জুলাই রংপুর ও রাজশাহী এলাকার অনেক স্থানে এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিন রংপুর ও রাজশাহীতে কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

এছাড়া ১৫ ও ১৬ জুলাই খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এই সময় দিনে এবং রাতে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অবস্থা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙ্গামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে নিখোঁজ নাবিকের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে নিখোঁজ নাবিকের মরদেহ উদ্ধার

দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী জানায়, দেশটির পূর্ব উপকূলে নিখোঁজ এক নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই কোরিয়ার মধ্যকার সামুদ্রিক সীমারেখার কাছে টহলরত অবস্থায় রোববার ওই নাবিক নিখোঁজ হয়। উক্ত নৌবাহিনী জানায়, রোববার সকালে দায়িত্ব পালনের জন্য উপস্থিত না হওয়ায় নাবিকের খোঁজে ১০টি জাহাজ ও বিমান নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করা হয়। সে সময় টহল জাহাজটি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার কার্যত সামুদ্রিক সীমারেখা নর্দার্ন লিমিট লাইন (এনএলএল) এর কাছে অবস্থান করছিল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে, দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নেওয়া একটি টহল নৌযান গেওজিনের প্রায় ৫২ কিলোমিটার পূর্বে নিখোঁজ নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করে। দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয় রোববার এএফপিকে জানিয়েছে, ওই নাবিক উত্তর কোরিয়ার সীমান্তরেখা (এনএলএল) পেরিয়ে ভেসে যেতে পারেন এমন আশঙ্কার পর নৌবাহিনী মানবিক কারণে তার অনুসন্ধান ও তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতা চেয়েছিল। তবে সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় এএফপিকে জানায়, এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরদেহটি একটি ফ্রিগেট জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। জাহাজটি সোমবার দিনের পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের দোংহে নৌঘাঁটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাবিক কীভাবে নিখোঁজ হলো এবং তাঁর মৃত্যুর কারণ জানতে বেসামরিক পুলিশ ও সামরিক তদন্তকারীরা যৌথভাবে তদন্ত করবেন। ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নিহত নাবিক শিক্ষানবিশ নাবিক পদে কর্মরত ছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের পর পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন। ২০২৫ সালের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে লি উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে তুলনামূলকভাবে নমনীয় নীতি গ্রহণ করেছেন। যা তাঁর পূর্বসূরির কঠোর অবস্থান নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। তবে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি সিউলের বারবার সংলাপের আহ্বানে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি পিয়ংইয়ং। সম্প্রতি দেশটির রাজধানীতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানিয়ে একটি শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করে উত্তর কোরিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে বন্যার্তদের সহায়তায় সেনাবাহিনীর মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


চট্টগ্রামে বন্যার্তদের সহায়তায় সেনাবাহিনীর মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত

চট্টগ্রামের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সেনাবাহিনী বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ করছে এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে।

সোমবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই তথ্য জানিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থানীয় বন্যাকবলিত জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে (ছবি: আইএসপিআর)।

আইএসপিআর জানায়, চন্দনাইশ উপজেলা ও লোহাগড়া উপজেলায় বন্যাকবলিত স্থানসমূহে অসামরিক প্রশাসনকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেছে ১০ পদাতিক ডিভিশন।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনী স্থানীয় বন্যাকবলিত জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থানীয় বন্যাকবলিত জনগণের মাঝে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে (ছবি: আইএসপিআর)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরিয়ার সেই গ্রাম, যেখানে পুরুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ, শাসন ও নিরাপত্তায় নারীরাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ এম


সিরিয়ার সেই গ্রাম, যেখানে পুরুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ, শাসন ও নিরাপত্তায় নারীরাই

এক কাঁধে রাইফেল, অন্য হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক নারী গ্রামের প্রবেশপথে পাহারায়। গ্রামটির ভেতরে সারি সারি মাটির তৈরি ছোট ছোট বাড়ি রয়েছে। প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি লাগানো, ফলগাছ ro তৃণ ও নানা রঙের ফুল রয়েছে।

নতুন রঙে ভরা এই গ্রামটি সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মরুভূমির বুকে যেন এক স্বপ্নের জনপদ। কামিশলি শহরের বাইরে অবস্থিত এই গ্রামটিতে প্রায় ৩০টি বাড়ি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এবং এর নাম জিনওয়ার। আঞ্চলিক কুর্দি ভাষায় এর অর্থ, ‘নারীদের পরিসর’ বলে পরিচিত।

যুদ্ধ, সহিংসতা, পারিবারিক নির্যাতন এবং সামাজিক বৈষম্যের শিকার নারীরা এখানে গ্রামটি গড়ে তুলেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এসেছেন যুদ্ধে স্বামীকে হারিয়ে, আবার কেউ এসেছেন নিরাপত্তা বা স্বাধীনতার খোঁজে। এখানে পুরুষদের স্থায়ীভাবে বসবাস বা রাত যাপন নিষিদ্ধ। পুরোপুরি নারী-পরিচালিত এই জনপদের জীবনযাত্রা সম্প্রতি ক্যামেরাবন্দী করেছেন ইতালীয় আলোকচিত্রী মাত্তেও ট্রেভিসান।

দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জিনওয়ারের মতো নারী-নেতৃত্বাধীন স্বশাসিত কমিউনের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। কুর্দি, আরব এবং ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের নারীরা একত্র হয়ে নিজেদের স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কৃষিভিত্তিক সমবায়, বেকারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। তারা রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের স্বভাবে এগিয়ে চলছেন।

জীবনের নতুন সূচনা

৫৫ বছর বয়সি ওয়েলাত তার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলো পার করেছিলেন। এক বছর আগে তিনি জিনওয়ারে আশ্রয় নেন আর এখন প্রতিদিন সকালে কুর্দি ভাষার ক্লাস নেন, পরে গ্রামের প্রবেশপথে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। তার ভাষায়, এই গ্রামের পারস্পরিক সহযোগিতা, মানসিক সমর্থন এবং নিরাপদ পরিবেশ তাকে নতুন করে বাঁচার আরেকটি শক্তি দিয়েছে। এখানেই তিনি তাঁর হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন।

গ্রামে বাস করা আরেক নারী নুজিন, যিনি ৫৭ বছর বয়সী। মিহেমেদের স্বামী মারা যাওয়ার পর তার জীবনে শুরু হয় একটি নতুন যুদ্ধ। পরিবার এবং সমাজের মানুষদের মানসিক নির্যাতন, একাকীত্ব এবং অসুস্থতার সাথে দীর্ঘদিন লড়াই করার পর তিনি জিনওয়ারে আসেন। বর্তমানে তিনি গ্রামের বেকারিতে রুটি তৈরি করেন এবং প্রয়োজনে নিরাপত্তার দায়িত্বও পালন করেন। নুজিন বলছেন, ‘আমরা প্রত্যেকে আলাদা মানুষ তবে এখানে এসে আমরা সবাই এক পরিবার হয়ে গেছি।’

জার্মানি না গিয়ে বেছে নিলেন জিনওয়ার

২৮ বছর বয়সি জেসমিনের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর আলেপ্পো ছেড়ে জার্মানিতে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় তিনি জিনওয়ারের কথা জানতে পারলেন। এরপর তিনি বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা বদলে স্থানীয়ভাবে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কুর্দি, আরব এবং ইয়াজিদি নারীদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিশ্বের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ। মাটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি বিশ্বাস করতে শিখেছেন, পৃথিবীর সব প্রান্তের নারীরই নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য এগিয়ে আসা উচিত।

পরিবেশবান্ধব আরেকটি কমিউন

নারীদের জন্য গড়ে ওঠা জিনওয়ারের পাশাপাশি নারী-পুরুষ উভয় অংশগ্রহণে পরিচালিত আরেকটি স্বশাসিত কমিউন হচ্ছে জারুদি। এর সহসভাপতি নেহরীমান জানান, ২০১৩ সালে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পর গ্রামবাসীরা একত্রে একটি গণবাগান গড়ে তোলেন। পরে কৃষিকাজ, স্থানীয় সেবা, এবং বিভিন্ন দায়িত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে একটি সফল ব্যবস্থাপনার মডেল তৈরি করতে সক্ষম হন।

জিনওয়ারসহ এসব নারী-নেতৃত্বাধীন কমিউনগুলোর কোনো সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। জানা গেছে, এগুলো উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি নেতৃত্বাধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনের আওতায় স্ব-ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এখানে সরকারি বা আন্তর্জাতিক তহবিলের অভাব থাকা সত্ত্বেও, এখানকার বাসিন্দারা কৃষি সমবায়, বেকারি, পশুপালন ও ক্ষুদ্র উৎপাদন কার্যক্রমের মাধ্যমে জীবন নির্বাহ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%