ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাধবান ও দিয়া মির্জার স্মৃতিচারণ


‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাধবান ও দিয়া মির্জার স্মৃতিচারণ

মুক্তির ২৫ বছর পরও বলিউডের রোমান্টিক সিনেমা ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ দর্শকদের ভালোবাসা পাচ্ছে। ছবিতে আর মাধবান ও দিয়া মির্জার জুটি এখনও দর্শকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। সিনেমাটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইনস্টাগ্রামে ভিডিও পোস্ট করে স্মৃতিচারণা করেছেন দুই অভিনেতাই। দীর্ঘ সময় পরও তাদের জুটির প্রতি দর্শকদের ভালোবাসা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মাধবান ও দিয়া।

মাধবান তার ভিডিওতে জানান, ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দর্শক এখনো তাকে ও দিয়া মির্জাকে জুটি হিসেবে পছন্দ করেন। বিষয়টি তার কাছে ভীষণ ভালো লাগার। এত বছর ধরে ভালোবাসা দেওয়ার জন্য ভক্তদের ধন্যবাদও জানান অভিনেতা।

অন্যদিকে, দিয়া শুটিংয়ের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে নিজের কণ্ঠে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তুলে ধরেছেন ছবিটির শুটিংয়ের দিনগুলো, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, হাসি, ক্লান্তি আর গানের স্মৃতি।

আরও পড়ুন: মা হারালেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পপি

ভিডিওর ভয়েসওভারে দিয়া বলেন, ‘দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ, হাসি, ক্লান্তি—তবু কোনোভাবে আমার স্মৃতিতে সবকিছু এখন জাদুর মতো মনে হয়। আর গানগুলো! ২৫ বছর পরও সেগুলো আমাকে সব জায়গায় খুঁজে নেয়।’

এরপর অভিনেত্রী আরো বলেন, ‘আমার একটা অংশ সব সময় সেই মেয়েটাই হয়ে থাকবে, যে বৃষ্টিতে নাচত, ভালোবাসায় বিশ্বাস করত। ২৫ বছর পরও আপনারা তাকে নিজেদের হৃদয়ে ধরে রেখেছেন। আর আমিও আপনাদের আমার হৃদয়ে ধরে রাখব।’

দিয়ার এই আবেগঘন বার্তায় উঠে এসেছে সিনেমাটির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং দর্শকদের সঙ্গে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক। ছবিটির গান ও রোমান্টিক আবহ যে এত বছর পরও দর্শকের মনে জায়গা করে আছে, তার কথায় সেই অনুভূতিই প্রকাশ পেয়েছে।

২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয়েছিল দিয়া মির্জার। তখন তার বয়স ছিল ১৯ বছর। এর এক বছর আগে, ২০০০ সালে ‘মিস এশিয়া প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল’ খেতাব জিতেছিলেন তিনি। সিনেমাটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আর মাধবান।

আরও পড়ুন: নেপালের নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ হবে বাংলাদেশের ‘এ ফাদার’স স্কাই’

মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। তবে সময়ের সঙ্গে দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এটি। বিশেষ করে মাধবান ও দিয়া মির্জার রসায়ন ছবিটিকে রোমান্টিক সিনেমাপ্রেমীদের কাছে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ের কথা জানালেন দিয়া। সিনেমাটির ২৫ বছর পূর্তিতে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কঠিন অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন দিয়া। তার অভিনীত সিনেমাগুলো বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা না করায় একসময় নতুন ছবিতে কাজের সুযোগ হারিয়েছিলেন তিনি।

দিয়া বলেন, ‘আমার সিনেমাগুলো যখন বক্স অফিসে ভালো করছিল না, তখন সত্যি বলতে আমাকে ফিচার ফিল্ম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। একজন তরুণ ও স্বপ্ন দেখা অভিনেতার জন্য এটি বড় ধরনের মানসিক ধাক্কা হতে পারে।’

২০০৪-০৫ সালের দিকে তারকাখ্যাতির পেছনে ছোটা বন্ধ করে দেন দিয়া। এরপর বাণিজ্যিক সাফল্যের চেয়ে অর্থবহ গল্প ও নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে মেলে—এমন কাজকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। তার ভাষায়, ‘আমি বস্তুগত অর্জনের চেয়ে অর্থপূর্ণ কাজকে গুরুত্ব দিয়েছি।’

আরও পড়ুন: সাত বছরেই ১২ ভাষায় দক্ষ গজনি অভিনেত্রীর মেয়ে, ঘরে নেই টিভি-মোবাইল!

নিজের সুযোগ নিজেই তৈরি করেন দিয়া

কাজের সুযোগের জন্য অপেক্ষা না করে নিজের পছন্দের গল্প নিয়ে কাজ করতে ২৪ বছর বয়সেই চলচ্চিত্র প্রযোজনায় যুক্ত হন দিয়া। তার প্রযোজিত সিনেমার মধ্যে রয়েছে ২০১১ সালের ‘লাভ ব্রেকআপস জিন্দেগি’ এবং বিদ্যা বালান অভিনীত ২০১৪ সালের ‘ববি জাসুস’।

নিজের অবস্থান তৈরি করার বিষয়ে দিয়া বলেন, ‘যদি আমাকে টেবিলে জায়গা দেওয়া না হয়, তাহলে আমি নিজের টেবিল তৈরি করব।’

২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সাঞ্জু’ সিনেমায় মান্যতা দত্তের চরিত্রে অভিনয় এবং ২০১৯ সালের ওয়েব সিরিজ ‘কাফির’-এ কাইনাজ আখতারের ভূমিকাকে ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখেন তিনি। বিশেষ করে ‘কাফির’ তার অভিনয়জীবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে।

আরও পড়ুন: জাফর পানাহির ৫ বছরের কারাদণ্ড, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিদেশযাত্রা নিষিদ্ধ

চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে পর্দায় কতক্ষণ দেখা যাবে কিংবা তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন কি না—এসবের চেয়ে চরিত্রের গভীরতাকে গুরুত্ব দেন দিয়া। তার কথায়, ‘আমি কখনো চরিত্রের দৈর্ঘ্যকে গুরুত্ব দিইনি। সব সময় চরিত্রের গভীরতাকে গুরুত্ব দিয়েছি।’

ভারতীয় সিনেমায় নারীর উপস্থাপনা নিয়েও কথা বলেছেন দিয়া। তার মতে, গত এক দশকে পিতৃতন্ত্র ও নারীবিদ্বেষ নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে অনুভব সিনহার ‘থাপ্পড়’ সিনেমার উদাহরণ টানেন তিনি। ছবিটিতে সংবেদনশীলভাবে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

নতুনদের উদ্দেশে দিয়া বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের ব্যর্থতা দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় না। তার ভাষায়, ‘কাজ করার নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই। আপনি কত দিন কাজ করতে চান, তা আপনিই ঠিক করবেন।’

ক্যারিয়ারে টিকে থাকতে নিয়মিত শেখা, সততা ও কাজের প্রতি অঙ্গীকারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন দিয়া মির্জা।

আরও পড়ুন: কৃতি শ্যানন: ইনস্টাগ্রামে এআই দ্বারা তৈরি ছবি সরানোর সুযোগ নেই

মুক্তির আড়াই দশক পরও ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এবং মাধবন-দিয়ার জুটির প্রতি ভালোবাসা যেন সিনেমাটির দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ, চরম মানবিক সংকটের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১২ পি.এম


ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ, চরম মানবিক সংকটের আশঙ্কা

ইয়েমেনের কৌশলগত তাইজপ্রদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারপন্থী বাহিনী এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ভয়াবহ লড়াইয়ের কারণে গত আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

সরকারি সামরিক সূত্র জানায়, হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে শত শত বিমান ও স্থল হামলা পরিচালিত হয়েছে। সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মজিদ আল-নাজিলি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক অভিযানে হুথির বহু সদস্য হতাহত হয়েছেন এবং তাদের বেশ কিছু যুদ্ধট্যাংক ও অস্ত্রাগার ধ্বংস করা হয়েছে। বিশেষ করে তাইজের পশ্চিমাঞ্চলীয় জাবাল হান পাহাড়ি এলাকা এবং ধুবাব ও আল-মাসরাখ জেলাগুলোতে তীব্র লড়াই চলছে।

এদিকে, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (OCHA) জানিয়েছে, আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই নতুন সংঘাতের ফলে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই সংঘাতের কেন্দ্রস্থল তাইজে আশ্রয় নিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর (OHCHR) নিশ্চিত করেছে যে, এই সংঘাতে ২৫১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৫৪ শতাংশই শিশু।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহতদের প্রায় অর্ধেকই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গত আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৪ হাজারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো। তবে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হিসেবে মানুষ খাবার ও নগদ অর্থের পাশাপাশি বাসস্থানের (Shelter) সংকটের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের তীব্রতার কারণে ইয়েমেনে বর্তমানে আড়াই মিলিয়নেরও বেশি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সামুদ্রিক অবরোধ এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন সংঘাত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে ব্র‍্যান্ডের দোকানে হামলা, ফরাসি বিলাসবহুল পণ্য অতিরিক্ত অবক্ষয়ের প্রতীক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


ফ্রান্সে ব্র‍্যান্ডের দোকানে হামলা, ফরাসি বিলাসবহুল পণ্য অতিরিক্ত অবক্ষয়ের প্রতীক

ফ্রান্সে সপ্তাহান্তে সংঘটিত দাঙ্গার পর ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওগুলোর মধ্যে লিমোজ শহরের দৃশ্যটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে ঊনবিংশ শতাব্দীর টাউন হলটিতে আগুন ধরানোর পর এর ঘড়ির মিনারটি ধসে পড়ে। ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের ফলে তিন হাজারেরও বেশি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মুদি দোকান, ওষুধের দোকান এবং পারিবারিক মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। তবে দেশটির বিলাসবহুল পণ্যের বিপণিবিতানগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ বিশ্বজুড়ে মানুষের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

যখন বিক্ষোভ লুটপাটে রূপ নেয়, তখন তা প্রায়ই ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৈষম্য নিয়ে জমে থাকা বৃহত্তর ক্ষোভের প্রকাশ ঘটায়। ফ্রান্সের বিক্ষোভকারীরা দিওর, শেলিন, এর্মেজ, লুই ভুঁইতোঁ ও ইভ সাঁ লরাঁর মতো বিখ্যাত বিলাসবহুল ব্র‍্যান্ডের দোকানে হামলা চালিয়ে কাঁচের জানালা ও প্রদর্শনী বাক্স ভেঙে পণ্যসামগ্রী লুট করেছে। গত আট বছরে ফ্রান্সে বিলাসবহুল ব্র‍্যান্ডগুলোর বিরুদ্ধে এটি তৃতীয় বড় ধরনের শারীরিক হামলার ঘটনা। ২০২৩ সালে পেনশন সংস্কারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা প্যারিসের এভেন্যু মঁতেনে অবস্থিত এলভিএমএইচের সদর দপ্তরে হামলা চালায় এবং প্রতিষ্ঠানটির মালিক ধনকুবের বার্নার আর্নোর প্রতিকৃতি পুড়িয়ে দেয়। ওই বছর অল্প সময়ের জন্য তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়েছিলেন।

বিলাসবহুল পণ্যের বিরুদ্ধে এমন হামলার ঐতিহাসিক নজির ফরাসি বিপ্লব পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে বর্তমান অস্থিরতা বিলাসপণ্যের শিল্পের অভ্যন্তরীণ একটি ইদানিংকালের বৈপরীত্যও তুলে ধরেছে। ফেদেরাসিওন দ্য লা অত কোতুর-এর উদীয়মান ব্র‍্যান্ডবিষয়ক উদ্যোগের পরিচালক এবং সিয়াঞ্জ পো-এর ব্যবস্থাপনা ও প্রভাববিষয়ক স্কুলের অধ্যাপক সের্জ কারেরা মন্তব্য করেন, “ফ্রান্সের সঙ্গে বিলাসবহুল পণ্যের সম্পর্ক সব সময়ই ভালোবাসা ও ঘৃণার মিশ্রণ।

দেশটি বিশ্বজুড়ে এ শিল্পের প্রভাব নিয়ে গর্বিত, একই সাথে এর নৈতিকতা নিয়ে সন্দিহান এবং এর অন্তর্নিহিত বৈষম্যের জন্য একে দায়ী করে আসছে।” লুটপাটকারীরা বিভিন্ন পণ্য নিয়ে গেছে, যেগুলোর একাংশ কিছু বিলাসীপণ্যের পুনর্বিক্রয় বাজার ও কালোবাজারে প্রবেশ করেছে। একসময় কারুশিল্প ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বাজারজাত করা পণ্যগুলো কালক্রমে অতিরিক্ত ভোগবাদ ও পুঁজিবাদের অবক্ষয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ফ্রান্সের বিলাসবহুল ব্র‍্যান্ডগুলোর ক্রমবর্ধমান চড়া দাম এর পণ্যগুলোকে অধিকাংশ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কারেইরা বলেন, “তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশই এই জগৎ থেকে নিজেদের বঞ্চিত মনে করে। এখন আর কোনো স্বপ্ন নেই, আছে শুধু ঈর্ষা ও ক্ষোভ।” তাঁর মতে, দোকানের জানালা ভাঙচুর এমন একটি ব্যবস্থার প্রতি প্রত্যাখ্যানের প্রতীক, যে ব্যবস্থা সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা খুব কমই বাস্তবায়ন করে। ফলে এই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে মানুষ বস্তুগত পরিতৃপ্তির একটি রূপ খুঁজে নেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সমমনা ইসলামী দলে’ গেলে জামায়াত জোট ছাড়তে হবে কি, জানাল মামুনুল হকের দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


‘সমমনা ইসলামী দলে’ গেলে জামায়াত জোট ছাড়তে হবে কি, জানাল মামুনুল হকের দল

কওমি ঘরানার সাতটি সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দল নতুন রাজনৈতিক দল গঠন না করে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামে অভিন্ন ব্যানারে একসঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাখযানুল উলুম মাদরাসায় সাত দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্তগুলো জানানো হয়।

বৈঠকে মৌলিক আলোচনায় প্রাথমিকভাবে চারটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো,

অন্যান্য জোটে থাকা দলগুলোর অংশগ্রহণ: বর্তমানে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলো পর্যায়ক্রমে নিজ নিজ দলীয় প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে সমমনা ইসলামী দলের এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে অগ্রসর হবে। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে প্রক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমমনা ইসলামি দলসমূহের ঐক্যপ্রচেষ্টার লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘আজকের বৈঠকে আমিও উপস্থিত ছিলাম। আলোচনার একপর্যায়ে জোটের বিভিন্ন শর্তাবলি নিয়ে কথা ওঠে এবং একটি প্রস্তাব রাখা হয় যে—অন্য কোনো দল বা জোটের সঙ্গে যুগপৎভাবে থাকা যাবে না। এ বিষয়ে আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দিয়েছি, কোনো চাপিয়ে দেওয়া শর্ত আমরা মানব না। কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই কেবল অভিন্ন মৌলিক ইস্যুগুলোতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’

তিনি আরো স্পষ্ট করেন, ‘কোনো জোটে থাকা না-থাকা একান্তই সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিজস্ব ও অভ্যন্তরীণ নীতিগত সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে কোনো ধরনের টানাটানি বা অন্য কারও দিকনির্দেশনা গ্রহণযোগ্য নয়। আজকের বৈঠকে জোট ত্যাগ করা নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং আমরা জোট ছেড়ে দেব—এমন কোনো কথাও বলিনি। কোন দল জোটে থাকবে আর কোন দল থাকবে না, তা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা গণমাধ্যমে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচারের কথা ছিল না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাধ্যমিক শিক্ষকরা সরকারকে উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য দূর করতে দুই মাসের সময় দিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


মাধ্যমিক শিক্ষকরা সরকারকে উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য দূর করতে দুই মাসের সময় দিলেন

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তিতে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার জন্য সরকারকে দুই মাসের সময়সীমা দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। যদি এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং’-এর নেতারা এই ঘোষণা দেন। তারা দাবি করেছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা-২০২৫ সংশোধন করে মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

শিক্ষক নেতাদের বক্তব্য, একই এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় কর্মরত থাকা সত্ত্বেও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানভেদে শিক্ষকদের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে।

তারা অভিযোগ করেছেন, মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১১.৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষকদের প্রথম উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথম এমপিওভুক্তির সময়কাল বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১১.৭ অনুচ্ছেদে ভিন্ন শর্ত থাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একই ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন না।

শিক্ষক নেতাদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরির ধরন প্রায় একই হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র নীতিমালার পার্থক্যের কারণে অনেক শিক্ষক আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন চাকরি করার পরও কাঙ্ক্ষিত উচ্চতর গ্রেড পেতে বিলম্ব হওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিএড (ব্যাচেলর অব এডুকেশন) ডিগ্রির বিষয়টিও উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণে বৈষম্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিক্ষকরা। তাদের বক্তব্য, বিএড ডিগ্রি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও পাঠদান পদ্ধতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে বিএড ডিগ্রি অর্জনের পরবর্তী সময়কে ভিত্তি করায় অনেক শিক্ষককে আর্থিক সুবিধা পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

তাদের মতে, পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় এই ডিগ্রির কারণে আর্থিক সুবিধা পেতে বিলম্ব হওয়া শিক্ষকদের জন্য হতাশাজনক। তাই উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণে বিএড ডিগ্রিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈষম্যও দূর করতে হবে।

শিক্ষক নেতারা জানান, দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য তারা গত ১২ আগস্ট, ৩ সেপ্টেম্বর ও ২৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন তারা। তবে এখনো প্রত্যাশিত পদক্ষেপ না পাওয়ায় নতুন করে দুই মাসের সময়সীমা ঘোষণা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে, স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালার ১১.৭ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালার ১১.৫ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা, প্রথম এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে চাকরির অভিজ্ঞতা গণনা করে প্রথম উচ্চতর গ্রেড প্রদান এবং বিএড ডিগ্রির কারণে সৃষ্ট আর্থিক বৈষম্য দূর করা।

একই সঙ্গে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর গ্রেড প্রদানে অভিন্ন ও ন্যায়সংগত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তারা।

এ ছাড়া ২০২৬ সালে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার আহ্বান জানান শিক্ষক নেতারা। তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং আগামী ঈদুল ফিতরে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের (বাবেশিকফো) সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দীন, নির্বাহী মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি মো. আতিকুর রহমান তালুকদার, সহসভাপতি মো. শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মো. রবিউল ইসলাম ও মো. তোফায়েল সরকার।

এ ছাড়া ‘উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং’-এর মো. সাইদুজ্জামান, মো. মাহমুদুল হাসান মোহাব্বত, মো. রাশেদ, মো. আল মামুন, মো. জসিম উদ্দিন, রিনা খাতুন ও মো. মাসুদসহ অন্যান্য শিক্ষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%