১০:৫২ পি.এম
এক সপ্তাহ ধরে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেছে। আর এর ফলে মরদেহ পচে-গলে চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মর্গে লক্ষ্য করা গেছে। যেখানে প্রতিদিন অন্তত ৮-১০টি মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। লাশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমানে মরদেহের বিভিন্ন আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের ফরেনসিক বিভাগের পাশে রাখা বিশেষ মরচুয়ারি কুলার, যা একসঙ্গে ৪০টি মরদেহ সংরক্ষণ করতে পারে। তবে এটি বর্তমানে প্রদর্শন করছে অসুবিধা। তাহলে মৃতদেহ সংগ্রহ করার উপায় কী? মর্গের কমপ্লেক্সের ভিতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, একটি রুমের ফ্লোরে সারি করে লাশগুলি রাখা হয়েছে। কয়েকটি লাশ পরিবহনের ট্রলিতে রাখা হয়েছে। কিন্তু রুমটিতে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নেই।
মর্গের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী জানান, পূর্বে ৫টি ছোট ফ্রিজারে রাখা হতো লাশগুলো, তবে সেগুলো অকেজো হয়ে যাচ্ছে। তাই কয়েক বছর আগে মর্গে বিশেষ মরচুয়ারি কুলার স্থাপন করা হয়েছিল। সেখানে একসঙ্গে ৪০টি মৃতদেহ রাখা যায়। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে কুলারটি সম্পূর্ণরূপে অকেজো হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০০ পদ শূন্য, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত
বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে মরদেহ সংরক্ষণ করা হচ্ছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানালেন, বাধ্য হয়ে লাশগুলো ফ্লোরে রাখা হচ্ছে। এভাবে লাশ থেকে বিভিন্ন আলামত নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে তারা উদ্বিগ্ন। এ ছাড়া, ইঁদুরের আক্রমণের সম্ভাবনাও রয়েছে। লাশের গন্ধের কারণে ফরেনসিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারছেন না।
অন্যদিকে, ঢামেকের অধ্যক্ষ বরাবর একটি আবেদনপত্রে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান মরচুয়ারি কুলার অকেজো হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে। ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এটি দ্রুত মেরামত করা অতি জরুরি। ২ জুন বিষয়টি জানানো হলেও ৮ জুনেও এর কোনো সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে ঢামেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীনের সাথে যখন জানতে চাওয়া হলো, তিনি বলেন, আমরা বিষয়টির সম্পর্কে অবগত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ে সমস্যার সমাধান হবে।
আরও পড়ুন: ঢাকা বায়ুদূষণে বিশ্বে ষষ্ঠ, শীর্ষে পাকিস্তানের লাহোর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন