০৩:০৯ পি.এম
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দাবি করেছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ৭৪৪টি হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। এসব হামলায় প্রায় ২০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আরও জানানো হয়েছে যে, গোষ্ঠীটির ৯০টি সামরিক যান এবং সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নুজাইলি এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর আওতায় এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়েছে।
আল-নুজাইলি বলেন, অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা এবং স্নাইপার ইউনিট অংশগ্রহণ করেছে। হামলাগুলো হুথিদের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, সুরক্ষিত সামরিক অবস্থান, গোলাবর্ষণের স্থান, যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল এবং রসদ সরবরাহের পথগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুন: জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী
তিনি দাবি করেন যে, তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর অভিযান জোরদার হওয়ায় হুথি যোদ্ধারা কয়েকটি অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া পূর্ব, দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রণাঙ্গনে সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
আল-নুজাইলি আরও বলেন, এসব অভিযানের ফলে হুথিদের রিজার্ভ বাহিনী স্থানান্তর ও নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। পশ্চিম উপকূল এবং কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালীর কাছাকাছি এলাকাতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্রের দাবি, হামলাগুলো নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বেসামরিক নাগরিক এবং অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এর আগে সোমবার, আগের ২৪ ঘণ্টায় ১,১৬৪টি হামলা চালানোর দাবি করেছিল ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। ওই অভিযানে ৫৫৮ জন হুথি যোদ্ধা নিহত বা নিষ্ক্রিয় হয়েছেন এবং ১৩৫টি সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন আল-নুজাইলি।
আরও পড়ুন: নেপালে পর্বতজয়ের পর ৫০০০ ফুট নিচে পড়ে জার্মান পর্বতারোহীর মৃত্যু
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখলের পর থেকে ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে দেশটির অবকাঠামো ও অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সেবার সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
সূত্র: আল আরাবিয়া, আরব নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন