০১:৪৬ পি.এম
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক এবং জনবল সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ১৯৪টি পদের মধ্যে ১০০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার কারণে এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্র অনুযায়ী, শূন্য পদগুলোর মধ্যে চিকিৎসকের সংখ্যা ৩০টি, দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারীর ৮টি, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর ৪৫টি এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ১৭টি। এসব পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকার কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং জনবলের অভাবে সেখানে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এক্সরে সেবাও বন্ধ রয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা এক্সরে মেশিনটি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এক্সরে ও ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। অথচ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সাধারণ রোগী দেখার জন্য চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র তিনজন। এতে একজন চিকিৎসককে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ রোগী সামলাতে হচ্ছে, ফলে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সাতুরিয়া এলাকার দেলোয়ার হোসেন এবং বাঘড়ীর এলাকার শাহিন শিকদার অভিযোগ করেছেন যে, চিকিৎসক সংকটের কারণে জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কখনও কখনও চিকিৎসকের পরিবর্তে হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীকে দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, ব্যান্ডেজ এবং সেলাইয়ের মতো কাজ করানো হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, নাক-কান-গলা, সার্জারি, হৃদ্রোগ, চক্ষু, চর্ম ও যৌনরোগ, মেডিসিন, শিশু ও অ্যানেসথেসিয়াসহ বিভিন্ন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট এবং সহকারী সার্জন ও মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদেও জনবল ঘাটতি রয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যেও অফিস সহায়ক, ওয়ার্ড বয়, আয়া, বাবুর্চি এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদে পর্যাপ্ত জনবল নেই। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল বলেন, ‘বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই আমিসহ তিনজন চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রতিদিন একজন চিকিৎসককে গড়ে প্রায় ২০০ রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগীদের এসব ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বারবার অবহিত করেও সমাধান পাওয়া যায়নি।’
রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এবং জনবল সংকট নিরসন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উপজেলার নাগরিক সমাজ। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে হাসপাতালটিতে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে।
এমএইচ
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন