ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উপজেলা বিএনপির সম্পাদককে নিজ দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত


উপজেলা বিএনপির সম্পাদককে নিজ দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদে স্বাক্ষর না দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে মো. মাহবুব রহমানের বিরুদ্ধে, যিনি শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী এবং জেলা যুবদলের সদস্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকালে শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড় গ্রামের কেএম মামুনুর রশীদের দাওয়াতে গিয়ে নাজমুল করিম তার বাড়ি থেকে ফেরার সময় ঘটনাটি ঘটে। ফেরার পথে রাস্তায় বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হামলার ঘটনার সূত্রপাত হয়। ঘটনার সময় হাতাহাতি হয়েছে এবং একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। গোটা নবীনগরে এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

জানা যায়, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হোসেন আহমেদ ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করলে পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর সেই পদটি পেতে তদবির শুরু করেন জেলা যুবদলের সদস্য মাহবুব রহমান। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতির অনুমোদন পেলেও সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদন না পাওয়ার কারণে সাধারণ সম্পাদকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ডাকাতিয়ায় সেতু না থাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

এই ঘটনার পর নাজমুল করিম রাতে আমার দেশকে জানান, সাহারপাড় গ্রামে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে চলে আসার সময় কেএম মামুনুর রশীদের বাড়ির সামনে ঘটনার শিকার হন। সেখানে মো. মাহবুব রহমানসহ আরও কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য অপহরণের চেষ্টা করে। তিনি জানান, দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে তিনি এই বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি আরও জানান, মাহবুব রহমান ইউনিয়ন বিএনপির কোনো পদে নেই। সভাপতি মারা যাওয়ার পর সিনিয়র সহসভাপতি রোকন উদ্দিন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। নাজমুল করিম বলেন, তিনি চেয়ারম্যান পদে স্বাক্ষর করতে রাজি ছিলেন, তবে মাহবুব রেজুলেশন আনতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তিনি স্বাক্ষর করেননি। এই কারণে তার ওপর হামলা হয়।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত মাহবুব রহমান হামলার ভিন্ন বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, সভাপতি পদটি শূন্য হলে তিনি পদে প্রার্থী হন এবং আবেদনপত্র জমা দেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, নাজমুল করিম তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা না দেওয়ার পর, নাজমুল করিম তার আবেদনটি ফেরত দেন। মাহবুব রহমান বলেন, এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে, তবে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, তিনি মনে করেন হামলার ঘটনা একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। তিনি ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এটি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

এদিকে, নাজমুল করিমের ওপর হামলা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২২ এম


মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

আবেইতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ দেওয়া হবে। আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই পদক প্রদান করা সম্পন্ন হবে।

জাতিসংঘের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পদক দান করবেন। পদকপ্রাপ্ত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী হলেন মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং সান্ত মণ্ডল।

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেইতে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এছাড়া, গত বছর নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ এবং বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ দেওয়া হবে।

বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ। আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান এবং পশ্চিম সাহারায় পরিচালিত মিশনগুলোতে ২৭৭ জন নারীসহ ৪ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সদস্য কর্মরত আছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবচেয়ে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ৫০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক, সামরিক এবং পুলিশ শান্তিরক্ষী কাজ করছেন। মোট ১১৮টি দেশ ১১টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল সরবরাহ করছে।

সংস্থাটির সাধারণ পরিষদ ২০০২ সালে ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সালে প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস ট্রুস সুপারভিশন অর্গানাইজেশন’ গঠনের স্মরণে ২৯ মে এই দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এবছরের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। যা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে টেকসই রাজনৈতিক এবং আর্থিক সহায়তার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক সংঘাতের বাড়ন্ত এবং সম্পদের সংকোচন এই সময়ে এই সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে অতীত এবং বর্তমান সকল শান্তিরক্ষীকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শান্তিরক্ষা স্থিতিশীলতা এবং আশার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পরীক্ষিত এবং সাশ্রয়ী উপায়, তবে এর জন্য ধারাবাহিক রাজনৈতিক সমর্থন এবং নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।’

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন পরিবেশে শান্তিরক্ষীরা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিচ্ছেন এবং সহিংসতা প্রতিরোধ করছেন। এছাড়া আশার আলোও জিইয়ে রাখছেন। তিনি মন্তব্য করেন, শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ মানে স্থিতিশীলতা, সংঘাত প্রতিরোধ এবং শান্তির সম্ভাবনায় বিনিয়োগ করা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অবদান রাখা শান্তিরক্ষা কর্মীদের ‘ক্যাপ্টেন এমবায়ে দিয়াগনে মেডেল ফর এক্সেপশনাল কারেজ’; ‘মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘ইউএন উইমেন পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আস্ত মসলায় গরুর ভুনা মাংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ এম


আস্ত মসলায় গরুর ভুনা মাংস

গরুর ভুনা মাংস আস্ত মসলা দিয়ে তৈরি করা যায়। এই মাংস রান্নার সময় গুঁড়া মসলা ব্যবহার করার পরিবর্তে আস্ত মসলা ব্যবহারে ভিন্ন স্বাদ ও ঘ্রাণ আসবে। কুরবানির ঈদে গরুর মাংসের নানান পদ ছাড়া যেন উৎসব পূর্ণতা পায় না। তবে অনেকেই সময় বাঁচাতে গুঁড়া মসলা ব্যবহার করে। আস্ত মসলা দিয়ে প্রস্তুত করা মাংসের স্বাদ বাড়ে এবং মসলার প্রাকৃতিক সুবাসও ঠিক থাকে।

উপকরণ সমূহের মধ্যে ১ কেজি গরুর মাংস, মোটা করে কাটা ১ কাপ পেঁয়াজ, ১ কাপ টুকরা করা আদা, ৮টি রসুনের কোয়া, ৭-৮টি শুকনা মরিচ, ৩ টুকরা দারুচিনি, ৪টি এলাচ, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ ভাজা আস্ত জিরা, ১০টি গোলমরিচ, আধা কাপ বেরেস্তা, ৭-৮টি কাঁচামরিচ, ২ টেবিল চামচ ঘি, ২ চা চামচ টক দই এবং স্বাদমতো লবণ ও প্রয়োজনমতো তেল থাকে।

প্রস্তুত প্রণালির শুরুতে গরুর মাংস ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। পরে লবণ ও টক দই মিশিয়ে এটি প্রায় ৩০ মিনিট মেরিনেট করতে হবে। এর পর আদা, রসুন, শুকনা মরিচ, দারুচিনি, এলাচ, গোলমরিচ ও ভাজা জিরা যোগ করে আরও আধা ঘণ্টা মেরিনেট করুন।

একটি পাত্রে তেল গরম করে মেরিনেট করা মাংসটি মাঝারি আঁচে খুব ভালোভাবে কষান। কষানোর সময় লেবুর রস যোগ করবেন। মাংস থেকে তেল ছেড়ে এলে প্রয়োজনমতো গরম পানি দিয়ে ঢেকে সিদ্ধ করুন।

মাংস নরম হয়ে গেলে বেরেস্তা, ঘি এবং কাঁচামরিচ যোগ করে কম আঁচে কিছুক্ষণ দমে রাখতে হবে। মসলার ঘ্রাণ মাংসের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। গরম গরম পোলাও, খিচুড়ি অথবা সাদা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন সুগন্ধি আস্ত মসলার গরুর ভুনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ইরানের ওপর এখনো যুদ্ধের ছায়া, প্রস্তুত সশস্ত্র বাহিনী’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ এম


‘ইরানের ওপর এখনো যুদ্ধের ছায়া, প্রস্তুত সশস্ত্র বাহিনী’

ইরানের ওপর এখনও যুদ্ধের কালো ছায়া বিরাজ করছে এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি। এই তথ্য ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে জানা গেছে।

মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি আরও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নতুন সামুদ্রিক বিন্যাস এবং এই সংক্রান্ত চলমান আলোচনা জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। তিনি ইরানবাসীকে ক্ষেপণাস্ত্রের মূল চালিকাশক্তি বা ‘জ্বালানি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, জনগণের ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সব ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়েও কথা বলেছেন মোহাজেরানি। তিনি দাবী করেছেন যে, সব ধরনের প্রতিকূলতা পেরিয়ে ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌ-অবরোধের তীব্র সমালোচনা করে তিনি একে এক ধরণের ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এই মার্কিন অবরোধের কারণে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই মুখপাত্র। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরানের সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি জোটে যোগ দিয়েছিল আমিরাত, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ এম


ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি জোটে যোগ দিয়েছিল আমিরাত, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

 

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) শুরু থেকেই সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং ইরানের অভ্যন্তরে ডজনখানেক বিমান হামলা চালিয়েছিল বলে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এটি প্রতিবেদন শুক্রবার (৩০ মে) প্রকাশিত হয়ে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে আবুধাবি কেবল পরোক্ষ সহায়তাই করেনি, বরং মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর পাশাপাশি কার্যত তৃতীয় প্রধান অংশীদার হিসেবে সামরিক অভিযানে সক্রিয় ছিল। এমনকি গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও আমিরাতের এই সামরিক তৎপরতা অব্যাহত ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই হামলাগুলো সমন্বয় করা হয়েছিল। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কিশমি ও আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার এবং আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে এই যৌথ হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে আসালুয়েহ কমপ্লেক্সে ইসরাইলের সাথে সমন্বয় করে চালানো একটি হামলার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, যার ফলে ওয়াশিংটন পরবর্তীতে ইসরাইলকে ইরানের জ্বালানি খাতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়েছিল।

এই যুদ্ধের আগে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। তবে এই প্রতিবেদন ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধ শুরু হতেই আবুধাবি সেই অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ সরে আসে। আমিরাতের এই আগ্রাসী ভূমিকার জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের শহর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পুরো সংঘাতের সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানের প্রায় ২ হাজার ৮০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাত সহ্য করতে হয়েছে।

ইউএই-এর এই প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ ফাটলকেও স্পষ্ট করে তুলেছে। গত এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একান্ত গোপন এক অভিযোগে জানায় যে, আমিরাতের এসব হামলার কারণে ইরানের পাল্টা প্রতিশোধের মুখে পড়তে পারে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি খাত, যা বৈশ্বিক তেল বাজারকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলবে। এর ফলে রিয়াদ সামরিক অভিযান বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে আবুধাবির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ওয়াশিংটনকে অনুরোধ জানায়। একই সাথে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযানে সৌদি আরব যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ।

এদিকে ইরানের ভয়াবহ পাল্টা আঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া, পর্যটন রাজস্বে ধস এবং আবাসন খাতে মন্দার কারণে দেশটির প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক খাতগুলো এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক কোম্পানি কর্মীদের বাধ্যতামূলক ছুটি এবং ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এপ্রিলেরশেষ নাগাদ দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের মূলধন হারিয়ে গেছে এবং এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রায় ১৮ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির বিমান কর্তৃপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%