প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদে স্বাক্ষর না দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে মো. মাহবুব রহমানের বিরুদ্ধে, যিনি শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী এবং জেলা যুবদলের সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকালে শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড় গ্রামের কেএম মামুনুর রশীদের দাওয়াতে গিয়ে নাজমুল করিম তার বাড়ি থেকে ফেরার সময় ঘটনাটি ঘটে। ফেরার পথে রাস্তায় বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হামলার ঘটনার সূত্রপাত হয়। ঘটনার সময় হাতাহাতি হয়েছে এবং একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। গোটা নবীনগরে এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
জানা যায়, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হোসেন আহমেদ ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করলে পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর সেই পদটি পেতে তদবির শুরু করেন জেলা যুবদলের সদস্য মাহবুব রহমান। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতির অনুমোদন পেলেও সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদন না পাওয়ার কারণে সাধারণ সম্পাদকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনার পর নাজমুল করিম রাতে আমার দেশকে জানান, সাহারপাড় গ্রামে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে চলে আসার সময় কেএম মামুনুর রশীদের বাড়ির সামনে ঘটনার শিকার হন। সেখানে মো. মাহবুব রহমানসহ আরও কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য অপহরণের চেষ্টা করে। তিনি জানান, দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে তিনি এই বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও জানান, মাহবুব রহমান ইউনিয়ন বিএনপির কোনো পদে নেই। সভাপতি মারা যাওয়ার পর সিনিয়র সহসভাপতি রোকন উদ্দিন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। নাজমুল করিম বলেন, তিনি চেয়ারম্যান পদে স্বাক্ষর করতে রাজি ছিলেন, তবে মাহবুব রেজুলেশন আনতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তিনি স্বাক্ষর করেননি। এই কারণে তার ওপর হামলা হয়।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মাহবুব রহমান হামলার ভিন্ন বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, সভাপতি পদটি শূন্য হলে তিনি পদে প্রার্থী হন এবং আবেদনপত্র জমা দেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, নাজমুল করিম তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা না দেওয়ার পর, নাজমুল করিম তার আবেদনটি ফেরত দেন। মাহবুব রহমান বলেন, এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে, তবে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, তিনি মনে করেন হামলার ঘটনা একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। তিনি ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এটি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
এদিকে, নাজমুল করিমের ওপর হামলা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন