১০:০২ পি.এম
জাতীয় সংসদে দুর্নীতি দমন কমিশনের বাজেট ও ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ধর্ষণের বিচার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দুর্নীতির মত ধর্ষণেরও কোনো ছোট বা বড় সংজ্ঞা আইনিভাবে থাকতে পারে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ধর্ষণের ক্ষেত্রে একটির বিচার চাইলে অন্যটির বিচার না চাওয়া কর্তৃপক্ষের দ্বিচারিতা প্রতিনিধিত্ব করে, যেহেতু সব ধর্ষণই সমান অপরাধ।
সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে এই বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আরও পড়ুন: টাকার লোভে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপির কিছু সদস্য : মির্জা আব্বাস
এছাড়াও, সংসদ অধিবেশনে একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী আমিরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্ট্যাটাসের উপর আলোচনা শুরু হয়। যেখানে ঘটনার ১৯ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও সরকারের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন, ১৯ ঘণ্টা পার হওয়ার পর সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে। এর পরেও কিছু সংসদ সদস্যদের বক্তব্য ও বিতর্ক সম্পর্কে বিস্ময় প্রকাশ করে মন্ত্রী প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, তারা আসলে ধর্ষণের পক্ষে কথা বলছেন নাকি বিপক্ষে, তা পরিষ্কার নয়। আইনগতভাবে যেমন উচ্চ দুর্নীতি বা নিম্ন দুর্নীতি বলে কিছু আলাদাভাবে নেই, তেমনি ধর্ষণের ক্ষেত্রেও কোনো ছোট-বড় পার্থক্য নেই, সব অপরাধও সমান এবং সর্বত্র সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত।
এর আগে অধিবেশন চলাকালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এবং সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, একটি শক্তিশালী কমিশন গঠনের লক্ষ্যেই আগের অধ্যাদেশটি তখন গ্রহণ করা হয়নি, তবে পূর্ববর্তী আইনটি পুনঃবহালের ফলে সার্চ কমিটির মাধ্যমে দ্রুত দুদককে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা এবং পরবর্তীতে সংসদে বিল আকারে এনে আলোচনা ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সেইসঙ্গে, দেশ থেকে পাচার হওয়া প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে পেশ করা একটি শ্বেতপত্রের তথ্য তুলে ধরে জানান, ব্যাংকিং খাতের লুটপাট ও রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া ঋণের মাধ্যমে ২৪টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। এই বিপুল পরিমাণ পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
আরও পড়ুন: আগামী সংসদ অধিবেশনে পাস হবে সৌরবিদ্যুৎ আইন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন