০৪:৩২ এম
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানা পুলিশের অভিযানে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় এক পুলিশ কনস্টেবলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় লুণ্ঠিত একটি মোটরসাইকেল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানাধীন ফইল্লাতলী বাজার ও বিটাক বাজার এবং সীতাকুণ্ড থানাধীন বায়েজিদ লিংক রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—অনিক দাশ (২৭), যিনি বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত; ওয়াহিদ মোহাম্মদ জেবল হোসেন ওরফে অনিক ওয়াহিদ (৩৯), মহিউদ্দিন সেলিম (৫২) এবং মোহাম্মদ ওয়াহিদ নাসির ওরফে ডায়মন্ড (৩৮)।
খুলশী থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ, সহকারী পুলিশ কমিশনার (বায়েজিদ বোস্তামী জোন) মোহাম্মদ আরিফ হোসেন এবং খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। অপারেশন অফিসার এসআই গোলাম মোহাম্মদ নাসিম হোসেনের নেতৃত্বে এসআই মো. জালাল আহমেদ, এএসআই মো. জাকির হোসেন, এএসআই এরশাদ আলমসহ পুলিশের একটি দল এতে অংশ নেয়।
ফয়েজ লেক হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেল আটকে অপহরণের অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে মারুফুর রহমান অপুর (২২) তিন বন্ধু এমরান (২৪), নিশাত (২৬) ও আসিফ (২৩) তিনটি মোটরসাইকেলে কক্সবাজার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পরদিন ১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে খুলশী থানাধীন জাকির হোসেন রোডের ফয়েজ লেক চক্ষু হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে একটি মেরুন রঙের প্রাইভেট কার ও দুটি মোটরসাইকেল তাঁদের পথরোধ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, গাড়ি ও মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি মারুফুর রহমান অপুর মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে তাঁকে মারধর করেন। পরে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক প্রাইভেট কারে তুলে নেওয়া হয়। এ সময় একজন তাঁর মোটরসাইকেলটি নিয়ে অন্যত্র চলে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অপহরণের পর তাঁকে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শেরশাহ এলাকায় নিয়ে তাঁর ব্যবহৃত প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ভিভো মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে হুমকি দিয়ে চলে যান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।
ফেসবুকে মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন ধরে অভিযান
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনিক নামের একটি আইডি থেকে মোটরসাইকেল বিক্রির স্টোরি দেখতে পান। পরে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করলে মোটরসাইকেলটির দাম ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা জানানো হয়। আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি ৫ হাজার টাকা অগ্রিমও দেন।
এরপর তাঁকে বায়েজিদ লিংক রোডের মুখে পুলিশ বক্সের সামনে যেতে বলা হয়। সেখানে খুলশী থানা পুলিশের সহায়তায় প্রথম অভিযুক্ত অনিক দাশকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অনিক দাশকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানাধীন বিটাক বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়াহিদ মোহাম্মদ জেবল হোসেন ওরফে অনিক ওয়াহিদ এবং মহিউদ্দিন সেলিমকে আটক করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে মোহাম্মদ ওয়াহিদ নাসির ওরফে ডায়মন্ডকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২০ অক্টোবর ভোর সাড়ে চারটার দিকে পাহাড়তলী থানাধীন ফইল্লাতলী বাজারের সিদ্দিক কমিশনারের বাড়ির রোডে কুদ্দুছের গ্যারেজ থেকে ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় খুলশী থানায় ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার জিআর নম্বর ২৪৪ এবং এজাহারে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৬৫, ৩৯৫, ৩৯৭ ও ৪১২ ধারার উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা তিনটি মোটরসাইকেলের মধ্যে একটি ভুক্তভোগীর লুণ্ঠিত মোটরসাইকেল এবং বাকি দুটি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার তদন্ত ও মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নির্দোষ বলে গণ্য করার আইনগত অধিকার রয়েছে।
আরও পড়ুন: নড়াইলে ঊষার আলো সূর্যসংঘের সম্মেলন ও কমিটি গঠন অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন