০৩:২৪ পি.এম
অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা ও প্রতারণা বন্ধে এবার দেশের সমস্ত রিক্রুটিং এজেন্সিকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করতে যাচ্ছে সরকার। যাতে বিএমইটির ওয়েবসাইটে গিয়ে বিদেশগামীরা ভালো প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। সময় সংবাদকে এ কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। যদিও, বায়রার নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সরকারের এই উদ্যোগ নতুন উদ্যোক্তার সুযোগ বন্ধ করবে এবং শ্রমবাজার নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এই পরিস্থিতিতে, অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে, অনিয়মে জড়িতদের দৃশ্যমান শাস্তি দিতে না পারলে কোনো ধরনের পদক্ষেপই সুফল দেবে না।
বিদেশে যেতে ২০২৩ সালে একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে টাকা জমা দেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ নাদিম। এরপর নানা ধরনের ভোগান্তির সম্মুখীন হলেও তার হাতে ও আসেনি ভিসা ও বিএমইটির ছাড়পত্র। তার মতো অনেকেই আছেন যারা পরিবারকে স্বচ্ছল করার আকাঙ্ক্ষায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, কিন্তু এজেন্সির গাফিলতি ও প্রতারণায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন; অনেকে জিম্মি দশায় পড়েছেন। কোনো কারও জীবন বিপন্ন হয়েছে ভূমধ্যসাগর বা মরুভূমিতে।
এমন পরিস্থিতি বন্ধে এবার অসাধু এজেন্সির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি আরো বলেন, মানুষ বিদেশ যাওয়ার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, সেখানে আমাদের সালিশি ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। যদি আমরা লাইসেন্সগুলোর গ্রেডিং করতে পারি, তাহলে খাতে কিছু শৃঙ্খলা আনতে পারবো।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২ হাজার ৮৩৬টি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিগত দিনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে এগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে। যেন বিদেশগামীরা বিএমইটির ওয়েবসাইটে দেখে ভালো এজেন্সিতে যোগাযোগ করতে পারেন।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করছে বা ভালো কাজ করছেন তাদেরকে একটি গ্রেডিংয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।
যাইহোক, সরকারের এই উদ্যোগ নতুন ব্যবসায়ীদের সুযোগ বন্ধ করতে পারে এবং শ্রমবাজার সীমিত কিছু এজেন্সির হাতে চলে যেতে পারে বলে উদ্যোক্তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বায়রার সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা সময় সংবাদকে বলেন, আজ যে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে, দেখা গেল সে ভালো কাজ করে এগিয়ে আসতে পারে। সরকার যদি গ্রেডিং করতে চায়, তা নিশ্চয় করবে, তবে ব্যাপকভাবে বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
বায়রার সাবেক আরেক মহাসচিব মো. ফখরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ধরুন, এজেন্সিকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে নেওয়া হয়েছে, কেউ জানে না যে সে কোন অনিয়ম করবে কি না। আবার ‘সি’ ক্যাটাগরিতে থাকা কেউ ভালো কাজ করবে না এমনও তো বলা যায় না। নতুন যে আসছে তাকে যথাযথ সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে না।
এই সঙ্কটের অবস্থায়, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এজেন্সির ক্যাটাগরি করার পাশাপাশি অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, নইলে কোনো উদ্যোগেরই ফল ভালো হবে না।
র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এজেন্সি কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং শ্রমিকরা লাভবান হবে বা আবার নতুন অসুবিধার মধ্যে পড়বে, এটি সম্পূর্ণভাবে সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
অনিয়ম-সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলতে গিয়ে ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক দফায় বন্ধ হয়ে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন